ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়ল স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়ল স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়ল স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

১ মার্চ হঠাৎ করেই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। এতে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। বিক্ষোভে উত্তাল চারিদিক। ছাত্র-জনতাসহ সাধারণ মানুষ নেমে আসে রাস্তায়।

ঢাকা শহরের সব এলাকা থেকে লাখো মানুষ বাঁশের লাঠি হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছুটে আসে দিলকুশার পূর্বাণী হোটেলের দিকে। এ হোটেলেই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের বৈঠক চলছিল। লাখো মানুষের আকাশ-পাতাল কাঁপানো স্লোগান ও দাবির মুখে বৈঠক মুলতবি রেখে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি জনতার এই অনির্ধারিত মহাসমাবেশে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ইয়াহিয়া খানের জাতীয় অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সর্বত্র তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

২ মার্চ অর্থাৎ আজকের এই দিনে বিকালে সংবাদ সম্মেলন থেকে বঙ্গবন্ধু ৩ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী লাগাতার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৪ দিন হরতালের পর তিনি ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের মহাসমাবেশে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি দেবেন বলেও ঘোষণা দেন। এদিন বিকালেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ ও ডাকসু নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে উভয় সংগঠনের সমন্বয়ে গঠন করেন ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’।

এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র-জনতার বিশাল সমাবেশে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা। গাঢ় সবুজের মধ্যে লাল বৃত্তে বাংলাদেশের সোনালি মানচিত্র আঁকা পতাকা দেখে উপস্থিত ছাত্র-জনতা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে সমগ্র এলাকা।

রাতে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে (ইকবাল হল) সাবেক ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন দীর্ঘ শলা-পরামর্শ করে বঙ্গবন্ধুর উপদেশমতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও স্বাধীনতার প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেন। এই ৮ নেতা রাতেই এসব বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তাদের পরিকল্পনার কথাও জানান এবং বঙ্গবন্ধু সে পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। আজকের দিনে কী কী করতে হবে, দেশব্যাপী ৪ দিনের হরতালে দলের নেতারা কে কোথায় কী দায়িত্ব পালন করবেন, হরতাল সফল করার জন্য ঢাকার কোথায় কে কী করবেন- এসবই চূড়ান্ত করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছাত্রনেতারা যে যার মতো দায়িত্ব ভাগ করে নেন।

২ মার্চ একদিকে ছিল হরতালের প্রস্তুতি, অপরদিকে ব্যাপক গণজোয়ার। স্রোতের মতো মানুষ চারিদিক থেকে ছুটে আসতে থাকে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের ধানমণ্ডির বাড়িতে। উত্তাল ৭১-এর নানা ঘটনা, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে চলে আসে একক নেতৃত্ব। তার দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে সমগ্র জাতি ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুতি নেয়। এর সঙ্গে বাংলার অবিসংবাদিত এই নেতার দৃঢ় মনোবল পাকিস্তান সরকারকে ভেতরে ভেতরে ভাবিয়ে তোলে ও দুর্বল করে দেয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×