বিমান ও বেবিচক নিয়ে দুদকের প্রতিবেদন: সীমাহীন দুর্নীতি ১৯ খাতে

বোর্ড পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় দুর্নীতি হয় * প্রতিরোধে ১৯ দফা সুপারিশ * সুপারিশ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা : বিমান প্রতিমন্ত্রী

  মিজান মালিক ও উবায়দুল্লাহ বাদল ০৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সীমাহীন দুর্নীতি ১৯ খাতে
ফাইল ছবি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

এসব খাতে সীমাহীন দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক দুটি টিমের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দুদক খাতগুলো চিহ্নিত করে, তা প্রতিরোধে ১৯ দফা সুপারিশও করেছে।

এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রোববার বেসামরিক বিমান পরিচালনা ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে হস্তান্তর করেন দুদকের কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান। এতে বলা হয়, খাতগুলোর দুর্নীতির লাগাম টেনে না ধরলে এ প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা। বিমান ও বেবিচক উভয় প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তা এবং বোর্ডের অসৎ পরিচালকরা এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

দুদকের প্রতিবেদন ও সুপারিশের বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, দুদক যেসব সুপারিশ করেছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা ইতিমধ্যে বিমানে যাত্রীদের সেবার মান ও দ্রুত লাগেজ দেয়ার জন্য কাজ শুরু করেছি।

বিমানের টিকিট বিক্রি না করার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়েও আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। বিমানের ভাবমূর্তি নষ্টের সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রতিবেদনের বিষয়ে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগে ১৯ ধরনের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আট ও বেবিচকের ১১ খাতে মোটা অঙ্কের দুর্নীতি হয় বলে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং জনহয়রানি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত টিম এ প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

বিমান ক্রয় ও লিজ খাতে দুর্নীতি : দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, উড়োজাহাজ কেনা, বিমানের স্পেয়ার্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট কেনা এবং এয়ারক্রাফট লিজের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়ে থাকে। কম্পিউটার-নেটসর্বস্ব কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ফার্ম বিমানের সঙ্গে লিয়াজোঁ করার নামে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কতিপয় বোর্ড পরিচালককে অনৈতিকভাবে কনভিন্সড করে মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়। এসব ফার্ম দরপত্রের স্পেসিফিকেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে পছন্দসই কোম্পানি কাজ পায়।

প্রাক্কলিত মূল্য প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়। ফলে নিম্নমানের ইকুইপমেন্ট ২-৩ গুণ বেশি দামে কিনতে হয়। বিমানের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বোর্ড ডিরেক্টর এসব ফার্মের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ মালিকানা/লভ্যাংশের অংশীদার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিমান লিজ নেয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী ফার্ম কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে শর্ত দেয়া হয়।

এসব শর্তের কারণে বাংলাদেশ বিমানের হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়ে থাকে। ইঞ্জিনের মেজর চেকসাইকেল, এক্সপায়ারি ইত্যাদি ভালোভাবে না দেখায়, বিমান লিজের মেয়াদ শেষে হাজার কোটি টাকা দিয়ে নতুন ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন করে বিমান ফেরত দিতে হয়েছিল। এমনভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যাতে ভালো কোম্পানির হাতে লিজ দেয়ার মতো বিমান না থাকে।

বাধ্য হয়ে বেশি মূল্যে অসাধুদের পছন্দের কোম্পানি থেকে নিম্নমানের বিমান লিজ নিতে হয়। এসব বিষয়ে প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ ও সরকারি নিরীক্ষা দল অজস্র আপত্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা অনিষ্পন্নই থেকে যায়।

রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং খাতে দুর্নীতি : বিমান এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকে।

বিমানের বোর্ড পরিচালক ও কর্মকর্তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য তাদের পছন্দসই প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দিয়ে থাকেন। ঠিকাদার ও ম্যানুফ্যাকচারার প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ বেশি দামে ক্রয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তাছাড়া বিমান সি-চেকের জন্য তাদের পছন্দসই বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে অতি উচ্চমূল্যের বিল ভাগাভাগির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে।

গ্রাউন্ড সার্ভিস খাতে দুর্নীতি : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুর্নীতির অন্যতম খাত হল গ্রাউন্ড সার্ভিস। ঠিকাদারদের যোগসাজশে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি (ইকুইপমেন্ট) কেনা হয়।

অদক্ষতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট না কিনে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র কেনা হয়। যথাযথভাবে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এমনকি রক্ষণাবেক্ষণের মূল্যবান উপকরণ বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই এগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে আবার নতুনভাবে কিনতে গিয়ে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফ নিয়োগেও চলে ব্যাপক দুর্নীতি। এতে ক্রমশ অদক্ষ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান। গ্রাউন্ড সার্ভিস বিল বাবদ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট-টু-ফ্লাইট ভিত্তিতে লাখ লাখ টাকা বিল গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের নিজস্ব লজিস্টিক সাপোর্টের মাধ্যমে গ্রাউন্ড সার্ভিসের অধিকাংশ কাজ করে থাকে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চুক্তি অনুযায়ী অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে ন্যূনতম সেবাও দিতে পারে না। এতে বহু বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে অপারেশন পরিচালনা করতে অনাগ্রহী। ইতিমধ্যে অনেক এয়ারলাইন্স ঢাকায় তাদের অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে।

কার্গো এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট খাতে দুর্নীতি : বিমানের আয়ের একটি বড় খাত হল কার্গো সার্ভিস। কিন্তু এই খাতে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোটি কোটি টাকা এয়ারওয়ে বিল কম পাচ্ছে বিমান।

অনেক সময় বিমানের কার্গো সার্ভিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী, আমদানি/রফতানিকারকদের সঙ্গে যোগসাজশে ওজনে কম দেখায়। আবার কখনও একক পরিবর্তন করে (টন কে সিএফটি, সিএফটি কে টন) কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন।

যাত্রী খাতে দুর্নীতি : ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার ও লে-ওভার প্যাসেঞ্জারের হিসাব এদিক-সেদিক করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। প্রতিদিন ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারের সংখ্যা যতজন হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে খাবারের বিল করে অতিরিক্ত টাকা ভাগাভাগি হয়। নিয়মানুযায়ী লে-ওভার প্যাসেঞ্জারদের হোটেলের প্রতি রুমে একজন করে রাখার কথা।

কিন্তু বাস্তবে প্রতি রুমে ৪-৫ জন রাখা হয়। আর বিল তৈরি করা হয় জনপ্রতি। অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্যাসেঞ্জারদের খাবার ও হোটেল দেয়া হয় না, কিন্তু যথারীতি বিল জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করা হয়।

টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে দুর্নীতি : প্রায়ই বাংলাদেশ বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ বাস্তবে বিমানের আসন খালি যায়। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের টিকিট বিক্রির সুবিধা করে দেয়া হয়।

বিমানের কর্মকর্তারা কমিশন নিয়ে এসব কাজ করে থাকেন। এ খাতে ফ্ল্যাশবেগের সুযোগ থাকায় অনিয়ম বেশি হয়। সাধারণত নিয়োজিত এজেন্ট ফ্ল্যাশবেগের মাধ্যমে আসন ব্লক করে রাখে। পরে টিকিট বিক্রি না হওয়ার কারণে আসন খালি যায় এবং বিমান রাজস্ব অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশ বিমান অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় এজেন্টদের কম কমিশন দেয়। এ কারণেও এজেন্টরা বিমানের টিকিটের পরিবর্তে অন্য এয়ারলাইন্সের দেয়া বেশি কমিশনে টিকিট বিক্রিতে আগ্রহী।

বেবিচকের বিভিন্ন খাত : এ ছাড়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটির ১১টি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি চিহ্নিত করেছে দুদক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- টাওয়ার, বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে।

ঠিকাদাররা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে এসব ক্রয়ে টেন্ডারের স্পেসিফিকেশন ও প্রাক্কলন প্রি-ডিফাইন করিয়ে নিয়ে কাজ পান। এরপর নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর জন্যও অর্থ লগ্নি করে থাকেন।

সিভিল এভিয়েশনের অধিকাংশ ইঞ্জিনিয়ারের বিদেশে একাধিক বাড়ি রয়েছে। কাগজপত্র ঠিক রেখে কাজের কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করে যেনতেন কাজের মাধ্যমে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন।

দু-একজন সৎ ইঞ্জিনিয়ার থাকলেও অসৎদের দাপটে তারা প্রমোশন ও যথাযথ পদায়ন বঞ্চিত। অন্যদিকে ভালো ঠিকাদার কর্তৃক দায়ের করা টেন্ডার থেকে প্রয়োজনীয় এক বা একাধিক কাগজ গায়েব করে দিয়ে টেন্ডার বাদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে ১১টি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে।

১৯ দফার উল্লেখযোগ্য সুপারিশ : বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতির ১৯টি উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৯ দফা সুপারিশ করে দুদক। এতে বলা হয়, দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অতীত ক্রয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বড় অসঙ্গতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ যাবৎকালের অডিট আপত্তিগুলো গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হয়। এতে আরও বলা হয়, বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের তালিকা, কখন কেনা হয়েছে, কী দামে কেনা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা হয়েছে, কত টাকা মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে- এসব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং খাতে কেনাকাটার সময় আন্তর্জাতিক দরপত্রের নিয়ম সঠিকভাবে পরিপালন হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনার জন্য বিষেশজ্ঞ টিম গঠন করা দরকার।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য ই-টেন্ডারিং বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। বিমানের কার্গো ওজনের কাজটি নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। ওজন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এ দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব।

অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ রোধে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে আগমনি যাত্রীদের বুকিং ট্যাগ ও বহনকৃত ওজন পরীক্ষা করে মিল না পাওয়া গেলে বোর্ডিং পাস ইস্যুকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কাজের জন্য একটি নিরপেক্ষ টিম গঠন করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে দুর্নীতি

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×