সংসদে সাংবাদিক জাফরের মুক্তি দাবি করলেন ফখরুল ইমাম

  সংসদ রিপোর্টার ০৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদে সাংবাদিক জাফরের মুক্তি দাবি করলেন ফখরুল ইমাম
সংসদে সাংবাদিক জাফরের মুক্তি দাবি করলেন ফখরুল ইমাম। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম দৈনিক যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরের মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করায় আবু জাফর এখন কারাগারে।

এ সময় সংসদের সামনে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাহলে কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন করা যাবে না? তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি বাতিল, না হয় সংশোধনের দাবি জানান।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের এ আইনের আওতার বাইরে রাখার কথা বলেন। রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের তদন্ত করা হোক। সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হোক। প্রতিবেদক যদি ভুল লিখে থাকেন তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু তার আগেই তাকে কেন কারাগারে পাঠানো হল।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তদন্তে সাংবাদিক আবু জাফর দোষী প্রমাণিত হলে আমাদের কিছু বলার থাকবে না। কিন্তু অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে কেন তিনি শাস্তি পাবেন।

তিনি আবার বলেন, তবে কি দুর্নীতির কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না? আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল ইমাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি সরকারের পক্ষে সব খবর জানা সম্ভব নয়। গণমাধ্যম কর্মীরাই প্রকৃত চিত্র তুলে আনেন খবরের পাতায়। তারা যদি বাধাগ্রস্ত হন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকার হন, তারা যদি লিখতে না পারেন, তবে রাষ্ট্র ও সমাজের অনেক দুর্নীতির চিত্রই ধামাচাপা পড়ে থাকবে। সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এতে করে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ফখরুল ইমাম বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করছে। যখন এ আইনটি প্রণয়ন করা হয় তখন আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। তখন আমাদের আশ্বস্ত করে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, কোনো নিরীহ মানুষ এ আইনের অপব্যবহারের শিকার হবে না। সাংবাদিকরাও স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা হল- এ আইনকে আজ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ আইনের কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা আজ হুমকির মুখে।

সাংবাদিকদের ৩২ ধারা নিয়ে সংসদে আইনমন্ত্রীর অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ফখরুল ইমাম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের আগে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এ সংসদে আমরা অনেক আলোচনা করেছি।

আইনটি পাসের আগে আইনমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন, ৩২ ধারায় যদি কোনো সাংবাদিক মামলার শিকার হন তাহলে আমি নিজে বিনা পয়সায় ওকালতি করব। আজ সাংবাদিক আবু জাফর জেলে আছেন, আমার জানতে ইচ্ছে করে, আইনমন্ত্রী তার পাশে দাঁড়িয়েছেন কি না? তিনি (আইনমন্ত্রী) প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, কোনো সাংবাদিক গ্রেফতার হলে তিনি তার (সাংবাদিক) পাশে দাঁড়াবেন, সেই অঙ্গীকারে তিনি আছেন কি না? সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন কিনা? আমি জানি না, শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে।

বর্তমান সরকারের নেয়া বড় বড় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সংসদে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, বড় প্রকল্পের ছোট অগ্রগতি। প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়লেও অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য নয়।

সরকার কর্তৃক গৃহীত কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে এ পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা এবং এ বছর আরও চার হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

এ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৫২ শতাংশ। পরের প্রকল্প মেট্রোরেল। এ প্রকল্পের ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে দুই হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। অগ্রগতি মাত্র ১৩ শতাংশ।

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত চার হাজার ৯৫২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা খরচ করতে হবে। এ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৪ শতাংশ। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেল প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১২ শতাংশ।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা ত্রুটি তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, ব্যাংক খাতকে অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড মনে করা হলে সেখানে রক্তক্ষরণ ঘটছে অনেক দিন ধরে। দেশে ৫৯টি ব্যাংক কার্যকর রয়েছে।

এর মধ্যে ৪১টি বেসরকারি ব্যাংক এবং ৯টি সরকারি ও ৯টি বিদেশি ব্যাংক। সেপ্টেম্বরের হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ৯ ব্যাংকে ঋণখেলাপির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ও বিদেশি ৫০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। মোট ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।

ঘটনাপ্রবাহ : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×