যুগান্তর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে

সত্য লেখায় সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ছবি: যুগান্তর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক যুগান্তরের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও দু’জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। দেশের মানুষকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা বলেন, এ আইনের কিছু ধারা গণতন্ত্র ও সুশাসনের পরিপন্থী।

কালো ধারা রহিত না করলে অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লেখার সুযোগ সংকুচিত হবে। তারা অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে।

১৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার মদদে ওইদিন সন্ধ্যায় দোহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যুগান্তর ও যমুনা টিভির নিজস্ব প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ থানা প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া থানা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই থানা প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করে মামলা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত নেতা, অসংখ্য অপরাধমূলক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. পলাশ মিয়া।

মামলার পর রাতেই সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা সভা, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সোমবার পালিত কর্মসূচি নিয়ে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিদ্ধিরগঞ্জ : দৈনিক যুগান্তরের ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা করেছেন সাংবাদিকরা। হিরাঝিল রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহমেদুল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নয়ন, হোসেন চিশতী সিপলু, এ হাই মিলন, আরিফ হোসেন, ফরহাদ হোসেন, এমএ শাহীন, এমরান হোসেন, বিশাল আহমেদ, রাশেদুল কবির অনু, আরিফ হোসেন (জুনিয়র) প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সত্য লেখার কারণে সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক। দ্রুত গ্রেফতার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সারা দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

তালতলী (বরগুনা) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে তালতলী প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মু. আ. মোতালিব। বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আ. মান্নান, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম আকাশ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক হারুন-অর রশিদ, কাওসার হামিদ, শাহিন সাইরাজ প্রমুখ।

মেহেরপুর : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার যুগান্তরের সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মেহেরপুরের সাংবাদিকরা। সকাল ১০টায় মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রুহুল কুদ্দুস টিটো, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি ইয়াদুল মোমিন, সহসভাপতি মাহবুব চান্দু, যুগান্তরের প্রতিনিধি তোজাম্মেল আযম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাবেক সেক্রেটারি শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল হক মন্টু, রওশন আলী মনা, সাংবাদিক মাহবুবুল হক পোলেন, আতিক স্বপন, রামিজ আহসান, নাসের চৌধুরী সম্রাট, দিলরুবা খাতুন, আসিফ ইকবাল, হামিদুর রহমান কাজল, সাঈদ হোসেন, মীর সউদ আলী চন্দন, কামারুজ্জামান খান, শহীদুল ইসলাম, সাজেদ রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহম্মদপুর (মাগুরা) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেফতার এবং হয়রানির প্রতিবাদে মাগুরার মহম্মদপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দৈনিক যুগান্তরের মহম্মদপুর প্রতিনিধি মাসুদ রানার সভাপতিত্ব মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক কামরুল হাসান, এসআরএ হান্নান ও মাহামুদুন নবী। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সুব্রত সরকার, মোরাদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন, তরুণ কুমার গুহ পিকিং, বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, রাসেল মিয়া, আনিচুর রহমান ও আলীরেজা নান্নু।

গৌরনদী : একই ইস্যুতে বরিশালের গৌরনদীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে প্রেস ক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, আসাদুজ্জামান রিপন, আলহাজ মো. জামাল উদ্দিন, বদরুজ্জামান খান সবুজ, ডা. মনীষ বিশ্বাস, জামিল মাহমুদ, কাজী আল আমীন, হাসান মাহমুদ, মোল্লা ফারুক হাসান, রাজিব খান, রনি মোল্লা প্রমুখ।

দাগনভূঞা (ফেনী) : যুগান্তরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ইয়াছিন সুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হাছান কচির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক মো. আবু তাহের, এমএ তাহের, নুরুল আলম খান, রহিম উল্যাহ বাবুল, নাছির উদ্দিন আজাদ, বজলুর রহিম সুমন, ইয়াছিন রনি, কাজী ইফতেখারুল আলম, শহিদুল ইসলাম তোতা প্রমুখ।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : ডিজিটার নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গৌরীপুরে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৌর স্বজন সমাবেশের সভাপতি শ্যামল ঘোষের সভাপতিত্বে ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. রইছ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গৌরীপুর শাখার সদস্য সচিব মজিবুর রহমান ফকির, উপজেলা স্বজন সমাবেশের সভাপতি মো. এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম আল রাজ প্রমুখ বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, প্রভাষক মোখলেছুর রহমান, সার্ডের ম্যানেজার আবদুল বাছেদ, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘের সভাপতি মো. অলি উল্লাহ, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান বোরহান, তৌহিদুল আমিন তুহিন, মো. মিলন, সামছুজ্জামান আরিফ, গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা কাম্য নয়। কোনো নাগরিককে অহেতুক হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। সাংবাদিকদের মুক্ত স্বাধীনতা খর্ব হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থাকবে না। তাই অবিলম্বে সাংবাদিকদের মুক্তি দিন।