নারীর ক্ষমতায়ন বিস্ময়কর: জুয়েনা আজিজ
jugantor
নারীর ক্ষমতায়ন বিস্ময়কর: জুয়েনা আজিজ

  উবায়দুল্লাহ বাদল  

০৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন যে পর্যায়ে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ১৯৯৭ সালের আগে দেশে কোনো নারী সচিব ছিলেন না।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতার প্রথম মেয়াদকালে (১৯৯৬-২০০১) একজন নারী কর্মকর্তাকে প্রথম সচিব পদে নিয়োগ দেন। তার ১০ বছরের শাসনামলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী সচিব হয়েছেন।

তাদের অনেকে আবার অবসরেও গেছেন। বর্তমানে ৯ জন সচিব, ৯ জন ডিসিসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী কর্মকর্তা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে মূল্যায়ন জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ উল্লিখিত মন্তব্য করেন। বুধবার নিজ দফতরে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব জুয়েনা আজিজ বলেন, অনেকে ভাবেন নারী হয়তো পুরুষের মতো দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারেন না, এটা মোটেও ঠিক নয়।

বর্তমানে শুধু প্রশাসনে নয়, অন্যসব সার্ভিস যেমন- পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষকসহ সবক্ষেত্রে নারী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়েদের উৎসাহ দিতে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সুযোগ করে দিয়েছেন।

এমনকি রাজনীতি, অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেক্টরে নারী যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা। তার উদার মানসিকতা এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনা নারীর ক্ষমতায়নকে আরও বিকশিত করেছে। এটি অবশ্যই বিস্ময়কর!

কর্মক্ষেত্রে নারীর উপযুক্ত পরিবেশ আছে কি না- জানতে চাইলে বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা জুয়েনা আজিজ বলেন, বর্তমানে যে কর্মপরিবেশ আছে, তা যথাযথ বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।

কারণ প্রথমদিকে নারী যখন চাকরিতে যোগ দেন, তখন হয়তো তাদের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ওই সময় নারী কর্মকর্তা না থাকায় সরকারি দফতরগুলোয় ওয়াশরুমসহ নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ ছিল না। তবে ৮০ দশকের পর আস্তে আস্তে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।

প্রতিবছর নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ার কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে নারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে নারীর জন্য পৃথক ওয়াশরুম থেকে শুরু করে ডে-কেয়ার সেন্টারসহ অন্যসব সুযোগ-সুবিধা তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নারী বা পুরুষ বলে নয়, যিনি কাজ বা দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠতা দেখাতে পারবেন, তিনি অবশ্যই ভালো করবেন। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে নারী কর্মকর্তা কতটা সিনসিয়ার ও ডেডিকেটেড। তিনি তার কাজের প্রতি কতটা অনুরক্ত এবং সেভাবেই তার মূল্যায়ন করা হয়।

কর্মক্ষেত্রে নারী কী কী বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন- জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব জুয়েনা বলেন, প্রশাসনসহ যে কোনো চাকরির ক্ষেত্রে পুরুষের যেসব প্রশিক্ষণ হয়, নারীরও সেই একই ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষকে যেভাবে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলা হয়, তেমনি নারীকেও যোগ্য করে গড়া হয়। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারী সহকর্মীদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করতে হবে, এ বিষয়ে আইন ও বিধি রয়েছে।

তবে নারীকে সচেতন থাকতে হবে। সেটি ছোটই হোক আর বড়ই হোক। কাজের প্রতি সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাকরিজীবী নারীকে অফিসের দায়িত্বের সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্বও পালন করতে হয়।

নিজের ঘরের সঙ্গে কার্যালয়কে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। যখন তিনি অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন, তখন শতভাগ পেশাদারিত্ব নিয়েই তা করবেন। আর কাজ শেষে পরিবারে ফিরে হতে হবে পরিবারের জন্য অপরিহার্য একজন মানুষ হিসেবে। এভাবে মেইনটেন করা গেলে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী চাকরিজীবীদের উদ্দেশে সরকারি অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা জুয়েনা আজিজ বলেন, আপনি কী কাজ করছেন, সেটা ছোট না বড়, তা চিন্তা করার দরকার নেই। যখন যে দায়িত্ব দেয়া হয়, সেটা যেন সঠিকভাবে পালন করা হয়। এটি হল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রত্যাশা।

১৯৮৪ ব্যাচের বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার জুয়েনা আজিজ ১৯৮৬ সালে চাকরিতে যোগ দেন। মাঠপ্রশাসন ও সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১১ মে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য হন। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২১ জানুয়ারি তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে যোগ দেন এবং ৩০ জানুয়ারি তিনি সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন জুয়েনা আজিজ। পরিশ্রমী ও মেধাবী কর্মকর্তা জুয়েনা ১৯৬১ সালে নোয়াখালী জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুই সন্তানের জননী।

নারীর ক্ষমতায়ন বিস্ময়কর: জুয়েনা আজিজ

 উবায়দুল্লাহ বাদল 
০৮ মার্চ ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন যে পর্যায়ে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ১৯৯৭ সালের আগে দেশে কোনো নারী সচিব ছিলেন না।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতার প্রথম মেয়াদকালে (১৯৯৬-২০০১) একজন নারী কর্মকর্তাকে প্রথম সচিব পদে নিয়োগ দেন। তার ১০ বছরের শাসনামলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী সচিব হয়েছেন।

তাদের অনেকে আবার অবসরেও গেছেন। বর্তমানে ৯ জন সচিব, ৯ জন ডিসিসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী কর্মকর্তা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে মূল্যায়ন জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ উল্লিখিত মন্তব্য করেন। বুধবার নিজ দফতরে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব জুয়েনা আজিজ বলেন, অনেকে ভাবেন নারী হয়তো পুরুষের মতো দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারেন না, এটা মোটেও ঠিক নয়।

বর্তমানে শুধু প্রশাসনে নয়, অন্যসব সার্ভিস যেমন- পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষকসহ সবক্ষেত্রে নারী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়েদের উৎসাহ দিতে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সুযোগ করে দিয়েছেন।

এমনকি রাজনীতি, অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেক্টরে নারী যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা। তার উদার মানসিকতা এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনা নারীর ক্ষমতায়নকে আরও বিকশিত করেছে। এটি অবশ্যই বিস্ময়কর!

কর্মক্ষেত্রে নারীর উপযুক্ত পরিবেশ আছে কি না- জানতে চাইলে বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা জুয়েনা আজিজ বলেন, বর্তমানে যে কর্মপরিবেশ আছে, তা যথাযথ বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।

কারণ প্রথমদিকে নারী যখন চাকরিতে যোগ দেন, তখন হয়তো তাদের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ওই সময় নারী কর্মকর্তা না থাকায় সরকারি দফতরগুলোয় ওয়াশরুমসহ নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ ছিল না। তবে ৮০ দশকের পর আস্তে আস্তে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।

প্রতিবছর নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ার কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে নারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে নারীর জন্য পৃথক ওয়াশরুম থেকে শুরু করে ডে-কেয়ার সেন্টারসহ অন্যসব সুযোগ-সুবিধা তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নারী বা পুরুষ বলে নয়, যিনি কাজ বা দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠতা দেখাতে পারবেন, তিনি অবশ্যই ভালো করবেন। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে নারী কর্মকর্তা কতটা সিনসিয়ার ও ডেডিকেটেড। তিনি তার কাজের প্রতি কতটা অনুরক্ত এবং সেভাবেই তার মূল্যায়ন করা হয়।

কর্মক্ষেত্রে নারী কী কী বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন- জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব জুয়েনা বলেন, প্রশাসনসহ যে কোনো চাকরির ক্ষেত্রে পুরুষের যেসব প্রশিক্ষণ হয়, নারীরও সেই একই ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষকে যেভাবে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলা হয়, তেমনি নারীকেও যোগ্য করে গড়া হয়। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারী সহকর্মীদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করতে হবে, এ বিষয়ে আইন ও বিধি রয়েছে।

তবে নারীকে সচেতন থাকতে হবে। সেটি ছোটই হোক আর বড়ই হোক। কাজের প্রতি সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাকরিজীবী নারীকে অফিসের দায়িত্বের সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্বও পালন করতে হয়।

নিজের ঘরের সঙ্গে কার্যালয়কে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। যখন তিনি অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন, তখন শতভাগ পেশাদারিত্ব নিয়েই তা করবেন। আর কাজ শেষে পরিবারে ফিরে হতে হবে পরিবারের জন্য অপরিহার্য একজন মানুষ হিসেবে। এভাবে মেইনটেন করা গেলে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী চাকরিজীবীদের উদ্দেশে সরকারি অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তা জুয়েনা আজিজ বলেন, আপনি কী কাজ করছেন, সেটা ছোট না বড়, তা চিন্তা করার দরকার নেই। যখন যে দায়িত্ব দেয়া হয়, সেটা যেন সঠিকভাবে পালন করা হয়। এটি হল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রত্যাশা।

১৯৮৪ ব্যাচের বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার জুয়েনা আজিজ ১৯৮৬ সালে চাকরিতে যোগ দেন। মাঠপ্রশাসন ও সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১১ মে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য হন। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২১ জানুয়ারি তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে যোগ দেন এবং ৩০ জানুয়ারি তিনি সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন জুয়েনা আজিজ। পরিশ্রমী ও মেধাবী কর্মকর্তা জুয়েনা ১৯৬১ সালে নোয়াখালী জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুই সন্তানের জননী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন