শেষ সুযোগও হারালেন মে

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সংশোধিত ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যাত

  যুগান্তর ডেস্ক ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র সংশোধিত ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। পার্লামেন্টের নিুকক্ষ হাউস অব কমন্সের ৬৫০ সদস্যের মধ্যে ৩৯১ এমপি চুক্তির বিপক্ষে ও ২৪২ জন পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে চুক্তিসহ বিচ্ছেদ বাস্তবায়নের শেষ সুযোগও হারালেন মে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তৃতীয় আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না বলে আগাম হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসির।

২৯ মার্চ ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসার শর্ত ছিল এ চুক্তিতে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। বিচ্ছেদের মাত্র ১৭ দিন আগে এ হার মে সরকারের জন্য বড় আঘাত।

কারণ তার পদচ্যুতির বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন এখন জোরালো হচ্ছে। ইউরোপের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে নানা যুক্তিতর্কে দুই বছর পার হয়েছে। বিচ্ছেদের পর ইইউ জোটের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক কেমন হবে- সেটি নির্ধারণে ২১ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় ধার্য করা হয়েছিল। আগামী ২৯ মার্চ সেই সময় শেষ হচ্ছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাসের আলোচনার পর গত নভেম্বর ৫৮৫ পৃষ্ঠার একটি খসড়া চুক্তিতে পৌঁছায় উভয় পক্ষ। তেরেসা গত ১৬ জানুয়ারি পার্লামেন্টে সেটি উপস্থাপন করলে ভোটাভুটিতে প্রত্যাখ্যাত হয়।

৪৩২ জন এমপি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সমর্থন জানিয়েছিলেন মাত্র ২০২ জন। চুক্তিতে কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি থাকায় সংশোধনের জন্য ইইউর দরবারে যান মে।

মঙ্গলবারের ভোটকে সামনে রেখে শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তেরেসা ও ইইউ প্রতিনিধিরা। এদিন রাতে হাউস অব কমন্সে সংশোধিত এ চুক্তিটিই অনুমোদনের জন্য তোলা হয়।

ভোটে পরাজয়ের ফলে অর্ধশতকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়া দেশটির অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। তেরেসা মে’র রক্ষণশীল দলের অনেকেই বিপক্ষে ভোট দেন। লেবার পার্টি ও ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিসহ (ডিইউপি) অন্যান্য বিরোধী দলের এমপিরা তেরেসার সংশোধিত ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।

তারা চুক্তিটির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলে আগেই ঘোষণা দেন। ভোটাভুটির আগে দীর্ঘ বিতর্কে জড়ান ব্রিটিশ এমপিরা। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টা) শুরু হয় বিতর্ক।

এখন তেরেসা মে’র সামনে আরও কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। সে জন্য অবশ্য বহু ঝামেলা পোহাতে হবে। আজ (বুধবার) নো ডিল ব্রেক্সিট (চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট) প্রশ্নে ভোট দেবেন এমপিরা। চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে সিংহভাগ এমপি।

ফলে এটি পাস না হওয়ার আশঙ্কা আরও বেশি। আর প্রত্যাখ্যাত হলে কাল (বৃহস্পতিবার) ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে নতুন একটি ভোটাভুটি হবে। অর্থাৎ ইইউর দেয়া চূড়ান্ত সময়সীমা ২৯ মার্চ থেকে আরও বাড়িয়ে নেয়া। সেটি অনুমোদন পেলে ইইউ নেতারাও ব্রেক্সিট বিলম্ব প্রশ্নে ভোটাভুটিতে যাবেন।

কোনোটাই ধোপে না টিকলে চুক্তি ছাড়াই বিচ্ছেদে যেতে হবে যুক্তরাজ্যকে। তেরেসার প্রথম খসড়া প্রস্তাবে থাকা আয়ারল্যান্ড সীমান্ত খোলা রাখার কৌশল ‘আইরিশ ব্যাকস্টপ’ পরিকল্পনা নিয়ে অনেকের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আইরিশ রিপাবলিকের মধ্যে দৃশ্যমান সীমান্ত ও কাস্টমস চেক না রাখতে আইরিশ ব্যাকস্টপ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মানে হল ইইউর একক বাজারের কিছু নীতিমালা মেনে চলবে উত্তর আয়ারল্যান্ড।

কনজারভেটিভ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা ও ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি ব্যাকস্টপের বিরোধিতা করেছেন। সোমবার ইইউর নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর মে বলেন, ‘ব্যাকস্টপের ক্ষেত্রে আইনগত পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন এমপিরা। আজ আমরা সে আইনগত পরিবর্তনগুলো আনতে সক্ষম হয়েছি। এবার এ সংশোধিত ব্রেক্সিট চুক্তিকে সমর্থন দিতে একত্রিত হওয়ার সময় হয়েছে।’

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঙ্কার সতর্ক করে বলেছেন, ভোটে এই চুক্তি না উতরালে ‘তৃতীয় কোনো সুযোগ’ নাও পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘কোনো তৃতীয় সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×