বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

দুর্নীতিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিশ্ব মানবাধিকার-২০১৮ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

ফলে সরকারি কর্মকর্তারা নির্বিচারে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আটক করতে পারবে না-এমন বিধান রেখে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এ সংক্রান্ত আইনেরও সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এই প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) রিপোর্ট উদ্ধৃতি করে বলা হয়, ১৮টি সরকারি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এরপর আছে- বিচার বিভাগ, ভূমি অধিদফতর, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, স্থানীয় সরকার, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও কর বিভাগ।

মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়, টিআইবির জরিপকৃত পরিবারের মধ্যে প্রায় ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির শিকার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২০ আগস্ট বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারের অনুমতি ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আটক করতে পারবে না- এ সংক্রান্ত একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে।

এ আইন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করবে। আর এর মাধ্যমে দুদক কর্মকর্তাদের ‘ক্ষমতার ডানা’ কেটে নেয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হতে এখন কেবল সংসদ সদস্যদের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিবেদনে দুদকের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ২ হাজার ৪৭৬টি মামলার মধ্যে মাত্র ১৮০টির বিচার হয়েছে। এর মধ্যে ১১০ জনকে দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

খালাস পেয়েছে ৭০ জন। এছাড়া অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০টি মামলা স্থগিত রয়েছে। ২০১৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগ দাখিলের জন্য হটলাইন চালু করে দুদক। প্রথম সাত দিনেই ৭৫ হাজার কল গ্রহণ করেন কর্মকর্তারা। আর মে মাসের মধ্যে কল গ্রহণ করা হয় প্রায় ৫ লাখ।

এসব অভিযোগ বার্তার অধিকাংশই সরকারি ভূমি অধিদফতর, হাসপাতাল, রেলওয়ে, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও স্কুলের দুর্নীতি সংক্রান্ত। এছাড়া ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৭৫৯ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা নথিভুক্ত করে দুদক।

যুগ্ম সচিব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন। একই সময়ের মধ্যে ৮৩ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল ও অভিযোগ দায়ের করা হয়। আর ২০১৭ সালে ২৮৮ এবং ২০১৮ সালে ৩৯৯ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

এছাড়া দুদককে সরকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জোর অভিযোগ রয়েছে- এমন মন্তব্য করা হয়েছে মার্কিন প্রতিবেদনে।