যেন ১৭ মিনিটের ভিডিও গেমস খেলল হামলাকারী

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লুকিয়ে থাকা মুসল্লিদের খুঁজে খুঁজে গুলি করে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট
লুকিয়ে থাকা মুসল্লিদের খুঁজে খুঁজে গুলি করে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট

গায়ে সামরিক কায়দার জ্যাকেট আর মাথায় হেলমেট। হেলমেটে বসানো লাইভ স্ট্রিমিং ক্যামেরা। হাতে বড় আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। সামনে তাক করে এগিয়ে যায় মসজিদের দিকে। প্রধান দরজায় দাঁড়ানো এক মুসল্লিকে দেখেই ‘এবার তাহলে শুরু করা যাক’ বলেই চালাল গুলি।

এরপরই গালাগাল করতে করতে ঢুকে পড়ে ভেতরে। জুমার খুতবা শুনতে থাকা মুসল্লিদের লক্ষ্য করে চালাতে থাকে নির্বিচার গুলি। যারা পালানোর চেষ্টা করেন তাদের লক্ষ্য করেও গুলি চালাতে থাকে। রাইফেলের গুলি শেষ হয়ে গেলে বেরিয়ে আসে। আরেকটি অস্ত্র নিয়ে আবার ঢুকে পড়ে মসজিদে।

আহত হয়ে যারা কাতরাচ্ছিলেন গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তাদের। খুঁজে খুঁজে গুলি করে। বাইরে বেরিয়ে সামনে যাকে পাওয়া যায় গুলি করে চেপে বসে গাড়িতে। গুলি চালাতে চালাতে চলে যায় গন্তব্যে। প্রায় ১৭ মিনিট ধরে চলে এ হত্যালীলা। হত্যাকাণ্ড নয়, যেন ভিডিও গেমস খেলল নির্মম ও নিষ্ঠুর এক বন্দুকবাজ।

ভয়াবহ নাশকতার আগের মুহূর্তেও সে ছিল অস্বাভাবিক রকমের শান্ত। ক্রাইস্টচার্চের ডিন্স এভিনিউতে আল নূর মসজিদের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ফেসবুকে ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ (সরাসরি সম্প্রচার) শুরু করে বন্দুকধারী।

এতে দেখা যায়, চালকের পাশের আসনে তিনটি রাইফেল। বেশ কিছু ম্যাগাজিন (গুলি) ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। এগুলোর গায়ে মুসলিমবিদ্বেষী বিভিন্ন বাক্য লেখা। একটি পার্কিংয়ের কাছে গাড়ি পার্ক করে সে। গাড়ি থেকে নেমে ব্যাকডালা (পেছনে মালপত্র রাখার অংশ) খোলে। সেখানে ছিল ম্যাগাজিন ভর্তি দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গুলি ও পেট্রলের ক্যান।

একটি রাইফেল হাতে নিয়ে সে বলে, ‘তা হলে শুরু হয়ে যাক আজকের পার্টি।’ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মসজিদের দিকে হাঁটতে শুরু করে। মসজিদে ঢোকার মুখে একজনকে পেয়েই গুলি করে। এরপর ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলি চালাতে থাকে।

খালি হয়ে গেলে আগ্নেয়াস্ত্রটিতে ম্যাগাজিন ভরে সে। আবারও এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। প্রায় ৩ মিনিট ধরে গুলি করার পর সে মসজিদের প্রধান দরজা দিয়েই বেরিয়ে আসে। রাস্তায় দিকে যাওয়ার সময় সে আশপাশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

পার্কিংয়ে গাড়ির কাছে গিয়ে গুলি ভরে নেয়। এরপর ফের মসজিদে ঢোকে। যেসব মুসল্লি আহত হয়ে মেঝেতে পড়েছিলেন, তাদের ওপর ফের গুলি চালায়। কোথাও কেউ লুকিয়ে আছে কিনা দেখে নেয়।

প্রধান ফটকের বাইরে এসে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখে কেউ আছে কিনা। এ সময় দূরে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। রাস্তার পাশেই পড়েছিল একটি লাশ। সেই লাশের মাথায় আরেকবার গুলি করে। এরপর স্থান ত্যাগ করার জন্য গাড়িতে ওঠে। গাড়ি চালাতে চালাতে গ্লাস ভেদ করে রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়িগুলোর দিকেও গুলি ছোড়ে। এরপর গাড়ি চালিয়ে চলে যায়।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে হামলা চালানো ওই ব্যক্তি নিজেকে পরিচয় দেয় অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট হিসেবে। হামলা চালানোর কিছুক্ষণ আগে টুইটারে সে ৭৪ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহারও (তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য) প্রকাশ করে।

আর নিজের ফেসবুক পেজেই সে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল ওই হামলা। হামলার পর ফেসবুক ও টুইটার কর্তৃপক্ষ তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। ফেসবুক ও টুইটারের পাশাপাশি ইউটিউবসহ বিভিন্ন সাইট হামলার পুরো ভিডিও প্রদর্শন বন্ধ করে দেয়।

ঘটনাপ্রবাহ : নিউজিল্যান্ডে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি

আরও
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×