ডাকসুর ফল বাতিলের দাবি: অনশনকারীদের ভুখামিছিল

প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভাঙল শিক্ষার্থীরা * অসুস্থ আরও দুই শিক্ষার্থী * গণভবনে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক নূরুল হক

  ঢাবি প্রতিনিধি ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ‘ভুখা মিছিল’
পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ‘ভুখা মিছিল’

ডাকসু ও হল সংসদের পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাদের সঙ্গে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিলে তারা অনশন ভাঙেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল।

ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারাও তাদের সঙ্গে কথা বলেন। রাত পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের প্রক্টোরিয়াল টিমের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।

সোমবার সকাল ১০টায় দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি হন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, সোমবার রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চতুর্থ দিনে গড়ায়। একই দাবিতে তারা ক্যাম্পাসে রোববার ভুখামিছিল করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান এবং নির্বাচন বাতিলের দাবিতে তার অনড় অবস্থান তুলে ধরেন।

১১ মার্চের নির্বাচনের ফল বাতিল এবং নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো।

এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদভুক্ত সংগঠনগুলোও। ফল বাতিলে চলছে ৫টি প্যানেলের তিন দিনের আলটিমেটাম। তবে রোকেয়া হলের ৫ শিক্ষার্থী ৪ দফা দাবিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অনশন স্থগিত করে।

শুক্রবার সোয়া ৪টার দিকে ভুখামিছিল করেন অনশনরত ৬ শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়।

কর্মসূচি থেকে পুনঃতফসিল ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ মেনে কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন তারা। অনশনরত শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ বলেন, তথাকথিত নির্বাচন আমরা মানি না।

এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই ডাকসুর পুনর্নির্বাচন দিতে হবে। আর নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। আরেক শিক্ষার্থী মিম আরাফাত মানব বলেন, চার দিন হয়ে গেল অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ আমাদের দেখতে আসেনি। আমরা মারা গেলেও হয়তো কেউ আসবে না।

এদিকে ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনে থাকা আট শিক্ষার্থীর মধ্যে দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়েন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রবিউল ইসলাম। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি অনশন করছিলেন। দাবি আদায়ে বাকি ছয় শিক্ষার্থীও রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন করেন। এর আগে বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়েন অনিন্দ্য মণ্ডল। চিকিৎসা নিয়ে তিনি হলে ফিরে যান।

অনশনে ছাত্রদল, বাম জোট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট একাত্মতা প্রকাশ করে। এছাড়া ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমও অনশনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন ।

এদিকে ভুখামিছিল করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন অনশনকারী আরও তিন শিক্ষার্থী। নতুন করে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- শোয়েব মাহমুদ, সিইসির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মিম আরাফাত মানব ও ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ।

অনশনকারীদের সহপাঠীরা জানান, বিকালে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি ভবনের সামনে পৌঁছলে অনশনকারী শোয়েব মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অনশনকারী শিক্ষার্থী মিম আরাফাত মানব ও আল মাহমুদ তাহাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাদের সহপাঠীরা শিক্ষার্থীদের রিকশাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ১২ মার্চ সন্ধ্যা থেকে অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তারা হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন্স সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন, দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল, সিইসির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ তানজিম।

১৩ মার্চ তাদের সঙ্গে যোগ দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রাফিয়া তামান্না, সিইসির শিক্ষার্থী মিম আরাফাত মানব, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ইতিবাচক নূরুল হক : শুক্রবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর। এ সময় অনশনরত শিক্ষার্থীরা তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে নিষেধ করেন।

তখন নূরুল হক বলেন, আমি প্রথম থেকে পুনর্নির্বাচনের দাবি করে আসছি। আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে সমস্যাগুলো জানাতে হবে। তবে আগে অন্যান্য প্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে নূর বলেন, ‘তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি একা আমাকে ডাকেননি। যারা নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে ডেকেছেন। স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরও ডেকেছেন।

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলেও আমাকে শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত করেছেন। শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা, আমি সেগুলো তাকে বলব। আমি যাওয়ার বিষয়ে পজিটিভ।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হলাম, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তান ও শিক্ষর্থীরা অনশনরত। অথচ তাদের দেখতে এখন পর্যন্ত কেউ আসেননি।’

বিকালে অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী এবং স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান। এ সময় লিটন নন্দী বলেন, ভোট বাতিলের দাবিতে তিন দিনের আলটিমেটাম শেষ হবে শনিবার (আজ)। রোববার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। তাই আমরা সোমবার থেকে আন্দোলনে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ভোটের অধিকার আদায়ের এ আন্দোলন চলবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ডাকসু নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×