সরকারি ব্যাংকে অদক্ষ পরিচালক

রাজনৈতিক বিবেচনায় পর্ষদ

অধিকাংশ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে অনভিজ্ঞ বর্তমান ও সাবেক আমলা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক এবং স্বল্পসংখ্যক ব্যাংকার * বিধান অনুযায়ী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে পরিচালক নিয়োগ দেবে, কিন্তু সেটি অনুসরণ করা হয় না

  দেলোয়ার হুসেন, মনির হোসেন ও হামিদ বিশ্বাস ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক বিবেচনায় পর্ষদ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকলেও শুধু তদবির ও লবিংয়ের জোরে অনেকে পরিচালক হয়ে ব্যাংক পর্ষদে বসে যাচ্ছেন। ফলে তারা ব্যাংকগুলোকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে বা প্রতিযোগিতামূলকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। সামাল দিতে পারছেন না প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলের চাপ। এতে ঘটছে জাল-জালিয়াতির ঘটনা। আবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্ষদের কাছে জাল-জালিয়াতির তথ্য আড়াল করলেও অনেকে অনভিজ্ঞতার কারণে তা যথাসময়ে শনাক্ত করে প্রতিকার করতে পারছেন না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। চরম আর্থিক দৈন্যদশায় পড়েছে প্রায় সব ব্যাংক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর পর্ষদে এখনও বর্তমান ও সাবেক আমলাদের প্রাধান্য থাকে বেশি। এরপরই আছে রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী ও শিক্ষক। ব্যাংকগুলোর অনিয়মে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানসহ অদক্ষ, অনভিজ্ঞ ও সুবিধাবাদী পরিচালকরা নানা অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। বেসিক ব্যাংকে নানা অনিয়ম, সোনালী ব্যাংক, হলমার্ক ও জনতা ব্যাংকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের জালিয়াতির ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংকগুলোতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে হবে- তাহলে ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে চলতে পারে। বর্তমানে যেভাবে পর্ষদ নিয়োগ করা হয় তাতে শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করা হয়। বাস্তবতা অনুসরণ করা হয় না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকগুলোতে পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। রাজনৈতিক চাপে এ সার্কুলার শিথিল করতে করতে এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, এখন যে কেউ পরিচালক হতে পারেন। আগে ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে কমপক্ষে ২০ বছরের ব্যাংকিং বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থাকতে হতো। এছাড়া কেউ পরিচালক হতে পারতেন না। বিএনপি সরকারের সময়ে এই বিধিতে বিস্ময়কর পরিবর্তন আনা হয়। ওই সময়ে ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তৎকালীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। কিন্তু বিধিমালার আওতায় তিনি কোনোক্রমেই পরিচালক হতে পারছিলেন না। পরে তাকে পরিচালক করতে বিধি সংশোধন করে ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা যোগ করা হয়। যেহেতু তিনি রাজনীতি করেন সে কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এভাবে বিধি পরিবর্তন করে তাকে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক করা হয়। এরপর থেকে রাজনীতিবিদরাও নির্বিঘ্নে ব্যাংকের পরিচালক হতে পারছেন। পরে ওই বিধি আরও শিথিল করে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড যোগ করা হয়। এখন ব্যবসায়ীরাও পরিচালক হতে পারছেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, সামাজিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা ২০ বছরের স্থলে করা হয় ১৫ বছর। এসব বিধি সংশোধনের ফলে বিএনপি আমলে দাঁতের ডাক্তার, ছাত্রদল নেতাও ব্যাংকের পরিচালক হয়েছিলেন। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী আইনজীবীদের বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ দেয়।

সরকারি খাতের বেসিক ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংকের দৃষ্টান্ত ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করে। পর্ষদ সদস্য ছিলেন একদল চৌকস আমলা। কিন্তু সব অনিয়মই হয়েছে বাচ্চুর নির্দেশে। চৌকস পর্ষদ সদস্যরা চুপ করে থেকেছেন। আর সভায় উপস্থিতির জন্য সম্মানী নিয়েছেন। এদিকে ব্যাংক লুট হয়ে গেল, তারা কিছুই করলেন না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে উল্টো পুরস্কৃত হলেন। আমলা হিসেবে তাদের মূল চাকরিতে পদোন্নতি দেয়া হল। চেয়ারম্যান পদ থেকে বাচ্চু পদত্যাগ করলেও তার কোনো শাস্তি হয়নি। অথচ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। ব্যাংকটি এখন খেলাপি ঋণের ভারে ও মূলধন ঘাটতিতে ধুঁকছে।

একই অবস্থা হয়েছে সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংকে। ব্যাংকিং বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞতা না থাকার পরও সোনালী ব্যাংকের এমডি করা হয় তৎকালীন আইসিবির এমডি হুমায়ুন কবিরকে। তিনি ব্যাংকে হলমার্ক জালিয়াতি ঘটান। পর্ষদ সদস্যরা থাকেন নীরব। ব্যাংকের সব শাখা থেকে নগদ টাকা গেল সাবেক শেরাটন হোটেল বা বর্তমানে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখায়। এখান থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হল। পরিচালকরা কিছুই করলেন না। এছাড়া জনতা ব্যাংকেও পর্ষদকে না জানিয়ে ক্রিসেন্ট গ্রুপকে বেপরোয়া ঋণ দেয়া হল। পর্ষদ টেরই পেল না। এসব জালিয়াতির পর এখন সরকার পর্ষদ নিয়োগে একটু সতর্ক হয়েছে। এরপরও পরিচালক হিসেবে ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞদের তেমন একটা অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে না। ফলে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে বজায় থাকছে না পেশাদারিত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব।

প্রসঙ্গত, বুধবার জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘যারা বোঝে না, তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না, এটা খেলার জায়গা নয়। না বুঝলে হবে না।’ পরিচালক নিয়োগে অনেক সুপারিশ সামলাতে হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন একজন করে দেখে দেখে ইন্টারভিউ নিয়ে ব্যাংকের পর্ষদে পাঠাব। অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে পরিচালক নিয়োগ করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার কোনো খেলাপি ঋণ আছে কিনা তা যাচাই করে অনুমোদন দেবে। কিন্তু সে নিয়মে পরিচালক নিয়োগ করা হয় না। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেই পরিচালক নিয়োগ করা হয়। যে কারণে পর্ষদেরও তেমন জবাবদিহিতা নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক রয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুল। তিনি জাতীয় সংসদে সচিব ছিলেন। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। পরিচালক হিসেবে আরও আছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক, জাতিসংঘের সাবেক নির্বাহী মুহাম্মেদ আসাদুল্লাহ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট একেএম কামরুল ইসলাম এফসিএ, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সাবেক এমডি নুরুল আলম তালুকদার, বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। পরিচালক হিসেবে আরও আছেন ডা. দৌলতুন্নাহার খানম।

অগ্রণী ব্যাংকে ৯ জন পরিচালক রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. জায়েদ বখত। পরিচালক হিসেবে আছেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদ বেগম, নারী উদ্যোক্তা ও সংবাদপাঠিকা সানজিতা আহমেদ, আইসিটি উদ্যোক্তা শামীম আহসান, নারী উদ্যোক্তা হাসিনা নেওয়াজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. নিতাই চন্দ্র নাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক যুগ্মসচিব আশিকুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক কাসেম হুমায়ুন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনসার আলী খান।

জনতা ব্যাংকের ৯ জন পরিচালক রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন নারী উদ্যোক্তা ও আইটি ব্যবসায়ী লুনা শামসুদ্দোহা। পরিচালক হিসেবে আছেন- অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি খন্দকার সাবেরা ইসলাম, ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি মানিক চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব একে ফজলুল আহাদ, নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও এমপি সেলিমা আহমাদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কাসেম, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাফর উদ্দিন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অজিত কুমার পাল, জনপ্রশাসন বিভাগের যুগ্মসচিব মেশকাত আহমেদ চৌধুরী।

রূপালী ব্যাংকের পরিচালক রয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্তি সচিব অরিজিত চৌধুরী, ব্যাংকার দীনা আহসান, ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রফেসর ড. হাসিবুর রশিদ, চট্টগ্রামের সাংবাদিক আবু সুফিয়ান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট একেএম দেলোয়ার হোসেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব রিজওয়ানুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক খলিলুর রহমান, স্বতন্ত্র পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের প্রফেসর ড. সুশীল রঞ্জন হাওলাদার, সাবেক আমলা আবুল বাসেত খান।

এছাড়া আছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। এখান থেকে বড় বড় শিল্প প্রকল্পে ঋণ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন। পরিচালক হিসেবে আছেন, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এখলাসুর রহমান, রূপালী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আবু হানিফ খান, সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী ও সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিক (সিলেটের অনেক আঞ্চলিক পত্রিকায় কাজ করেছেন) সৈয়দ এফতার হোসেন পিয়ার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা নাসরিন এনডিসি, পদার্থবিদ্যা, সাংবাদিকতা ও আইনে মাস্টার্স করা কাজী তারিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র সরকার, সাবেক যুগ্মসচিব আবু ইউসুফ।

বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এই ব্যাংকেরই সাবেক এমডি ও অভিজ্ঞ ব্যাংকার আলাউদ্দিন এ মজিদ। পরিচালক হিসেবে আছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিসেস পরাগ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হাসান মাহমুদ, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সাবেক এমডি রায়হানা আনিসা ইউসুফ আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মামুন আল রশিদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাহিদুল হক, সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সাবেক এমডি আফরোজা গুল নাহার, সাবেক যুগ্মসচিব শাহেব আলী মৃধা।

কৃষি ব্যাংকে ৮ সদস্যের পর্ষদ রয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসলাম, এমডি হিসেবে আছেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আলী হোসেন প্রধানিয়া, পরিচালক হিসেবে আছেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শফিকুল আজম, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মাওদুদুর রশিদ সাফদার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. একেএম মনিরুল হক, কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি সৈয়দ ফশিয়ার রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ কামরুজ্জামান।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে পরিচালক রয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক আমলা নুরুল ইসলাম। তিনি সাবেক সচিব ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে কাজ করেছেন। পদাধিকারবলে পরিচালক পদে আছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর রহমান, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মাদ জয়নুল বারী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রুস্তম আলী আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাজশাহী বিভাগের মৎস্য বিভাগের উপপরিচালক রেজাউল ইসলাম।

সূত্র জানায়, এদের মধ্যে এমন অনেক পরিচালক রয়েছেন যাদের ব্যাংকিংবিষয়ক কোনো অভিজ্ঞতা নেই। পর্ষদে ঋণ প্রস্তাব বা তারল্যবিষয়ক প্রস্তাব এলে তারা কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই আসেন, যান আর সরকারি সুবিধা নেন। এর বাইরে কিছুই করেন না।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত বলেছেন, ব্যাংকের পরিচালক কে হবেন তা চেয়ারম্যান হয়েও আমি জানতাম না। একদিন বোর্ডসভা করছি। এর মধ্যে একজন ব্যক্তি একটি চিঠি নিয়ে এসে বলে আমি ব্যাংকের পরিচালক। এমন হলে পরিচালকরাই বা কি করবে?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×