ডাকসুর পুনর্নির্বাচন দাবি

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি আজ * ‘টক অব দ্য ক্যাম্পাস’ নূর

  মাহমুদুল হাসান নয়ন ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘টক অব দ্য ক্যাম্পাস’ নূর
ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর। ফাইল ছবি

ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেলগুলো। রোববার পৃথক তিনটি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইলেই শুধু দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এদিকে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয় নিয়ে আজ সকাল ১০টায় ভিসির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত ৭ শিক্ষার্থীর। ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে রোববার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য।

বিকাল সাড়ে ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করে ভিপি নূরের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এই সংবাদ সম্মেলনের পরেই একই স্থানে পাঁচ প্যানেলের ব্যানারে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ভোট বর্জন করা স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ এবং সেখানে দেয়া বক্তব্যকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নূরের মন্তব্যই আলোচনার কারণ।

কেউ প্রশংসা করছেন তার শিষ্টাচারের। কেউ তিরস্কার করছেন ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে। নূরকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিমানী স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে তার দীর্ঘদিনের সতীর্থদের অনেককেই।

তবে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূর জানিয়েছেন, কোনো দলের হয়ে নয়, বরং অতীতের ন্যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়েই কাজ করবেন তিনি। কারচুপির অভিযোগে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও একাত্মতা রয়েছে তার।

এ অবস্থায় রোববার বিকালে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র জোটের ভিপি পদে নির্বাচন করা অরণী সেমন্তী খান ঘোষণা করেন, আগামীকাল (আজ) দুপুর ১২টায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি ডাকসু নির্বাচন বাতিল, নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ, হামলাকারীদের বহিষ্কার ও মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাম জোটের ভিপি পদে নির্বাচন করা লিটন নন্দী বলেন, গণভবনে গিয়ে ডাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি নূরুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ধোঁয়াশাপূর্ণ। এটি পুনর্নির্বাচনের যে আন্দোলন চলছে, সেটির জন্য ক্ষতিকর।

পুনর্নির্বাচনের দাবি নূরুল হক নূরের : সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যে দাবি তুলেছে, আমরা দেখেছি এই নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপি হয়েছে, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কালিমা লেপন করা হয়েছে। সে জন্য আমরা বলেছি, এ নির্বাচন পুনরায় দিতে হবে। এবং এর সঙ্গে জড়িতদের পদত্যাগ করতে হবে। ভিপি পদপ্রার্থী হয়ে আমি রোকেয়া হলে শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কলঙ্কিত নির্বাচন চাই না। আমরা সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।

ভিপি হিসেবে কার্যক্রম চালানোর পর পুনর্নির্বাচন চান কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন পর্যন্ত কার্যক্রম চালাইনি বা দায়িত্ব নেইনি। আর সেটা পরিবেশ পরিস্থিতি এবং আমরা যারা একসঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব- দায়িত্ব নেব কি না।

পুনরায় নির্বাচনের দাবির বিষয়ে নূর বলেন, ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, এটা সরকারের কোনো বিষয় নয়। এ নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছে সেখানে (গণভবন) তাদের ডাকা হয়েছে, সেই হিসেবে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।

ডাকসুর বাইরেও আবাসন সমস্যাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। আর ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। আমি শুধু তার (প্রধানমন্ত্রীর) নজরে এনেছি যে, এই নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, ছাত্ররা সেটির সমাধান চাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি যেন প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন- আমি সেটি বলেছি।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘নির্বাচনে দু-একটা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে’ এমন বক্তব্য প্রদান ও নূরকে নমনীয় মনে হওয়ার কারণ কি- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভবনে আমরা শুনেছিলাম যে শুধু ডাকসুর কেন্দ্রীয় নেতা ও হল সংসদের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কিন্তু আমরা গিয়ে দেখি, এর বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। ফলে সেখানে যাওয়ার পর আমি নিজেই একটু অস্বস্তিতে পড়েছি, ভুল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই একবার যদি মানুষের কনসেনট্রেশন (মনোযোগ) নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কথা বলার মুডটা থাকে না। সে কারণে আমি অনেক কথা বলতে পারিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, ওখানে যেটা ছিল, আমরা জাস্ট ওখানে গিয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে। কারণ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ব্যক্তি, রাষ্ট্রের অভিভাবক।

৫ প্যানেল একসঙ্গে আন্দোলনে গেলেও আজ আলাদাভাবে কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কিছু কথা হয়েছে। সেই মেসেজগুলো এবং কী ধরনের কথা হয়েছে সেগুলো আমার সংগঠনের সবার সঙ্গে আমাকে শেয়ার করতে হয়েছে।

সে জন্য তখনকার (দুপুরের) সংবাদ সম্মেলনে আমরা থাকতে পরিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেছি।

নূরকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা সমালোচনা : আমন্ত্রণ পেয়ে শনিবার বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে যান নূরসহ ডাকসু ও হল সংসদে নবনির্বাচিত নেতারা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নূরুকে সমর্থকদের বড় একটি অংশ গণভবনে যেতে উৎসাহ জোগালেও, না যাওয়ার আহ্বান জানান অনেকে।

আর গেলেও ডাকসু নির্বাচনের অসঙ্গতি তুলে ধরাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছিল তাকে। এ অবস্থায় সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আলাদাভাবে গণভবনে যান নূর। সেখানে ডাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে নূরুল হক নূর বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নিজের মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’ পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার ইচ্ছা পোষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগ দেন এবং ডাকসু ভিপির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। মঞ্চে নিজের ডান পাশে বসান নূরুল হককে।

রোববার সারা দিন ক্যাম্পাসে এ ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সমর্থক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। নূরুর সমর্থকদের অনেকেই তাকে ‘বেইমান’, ‘স্বার্থপর’, ‘লোভী’, ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করেন। ফেসবুকে নিলুফা ইয়াসমিন নামে একজন লিখেছেন, ‘নূর মনসুরকেও হার মানাইছে’।

কামাল পাশা নামের একজন লিখেছেন, ‘সাধারণ ছাত্ররা নূরদের নেতা বানায়, সামনে নূরের চেয়েও বড় নূর তৈরির ক্ষমতা সাধারণ ছাত্রদের আছে।’ মাজহারুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেন, ‘নূর তো বেইমান’।

আরেকজন লিখেছেন- ‘যারা আমাদের রক্তাক্ত করেছে, তাদের সঙ্গে আপস নেই’। এসএম তাইজুল ইসলাম লিখেছেন, ‘ নূরুল হক নূর একজন আদর্শিক রাজনীতিবিদ। এটি সে প্রমাণ করেছে।’ হোসাইন বিন নূর লিখেছেন, ‘সহজ বিষয়গুলোকে এত কঠিন করে দেখার কিছুই নেই। সম্মানী ব্যক্তিকে সম্মান দেয়ার মানে এই নয় যে, উনি তার কাছে হার মেনে নিলেন।’

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক ফেসবকু স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘কোনো ছলনাময়ী কথায় আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মম নির্যাতন ভুলতে পারি না। শেষ নিঃশ্বাস থাকা অবধি নির্যাতকদের সঙ্গে হাত মিলাব না।’

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান বলেন, ‘১৫ দিনের রিমান্ড, রাস্তায় রাস্তায় আমার মায়ের কান্না, গত কয়েকদিন আগে আমাকে গুলি করে মারার হুমকি। আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।’ তবে যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান লিখেছেন, ‘নূর ভাইয়ের ওপরে আস্থা রাখুন। পরিস্থিতির কারণে অনেক কথাই বলতে হয়। সে পরিস্থিতির শিকার।’ তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নূরের বিষয়ে ছাত্রলীগকে অনেকটা নীরব ভূমিকায় দেখা গেছে।

এদিকে সমর্থকদের এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রোববার আরেক ফেসবুক স্ট্যাটাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর এজিএস প্রার্থী ফারুক হাসান লেখেন, ‘একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদের বন্ধন ভাঙতে চেষ্টা করছে।

তাদের হীনস্বার্থ কখনোই সফল হবে না। আমাদের এ বন্ধন অটুট থাকবে সারা জীবন।’ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা অবস্থান থেকে একটুও সরিনি। ছাত্রদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে নূরুল হক নূরসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ পূর্বের ন্যায় কাজ করবে। এটি নিয়ে কোনো সংশয়ের কারণ নেই। সময়ই প্রমাণ করবে আমরা ঠিক বলছি কি না।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, ‘অনেকেই ভাবছে আমি হয়তো ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে গেছি। এ জন্য আমার যারা সমর্থক ও বিএনপি ঘরানার, তারা অনেকে আমার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ যে, আমি কেন সেখানে গেলাম। আমি তাদেরকে এটুকুই বলব- আমি আমার নীতি-আদর্শে চলি। কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করব না। সবার জন্যই কাজ করব। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন। নূর আগের মতোই আছে।’

ঘটনাপ্রবাহ : ডাকসু নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×