আরও ৫ ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের উদ্যোগ

ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বহুমুখী পদক্ষেপ

  হামিদ বিশ্বাস ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

বিপর্যয়ের হাত থেকে ব্যাংকিং খাতকে উদ্ধারে বহুমুখী পদক্ষেপের আওতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দ্বিতীয় দফায় আরও ৫টি ব্যাংকে বিশেষ তদন্ত পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- বেসরকারি খাতের ওয়ান ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।

এসব ব্যাংক তদন্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা অচিরেই তদন্ত কাজ শুরু করবে। মডেলভিত্তিতে এসব ব্যাংক তদন্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব ব্যাংকের শীর্ষ ৫ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান, শীর্ষ ৫ প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ, শীর্ষ ৫ প্রতিষ্ঠানের ঋণ নবায়ন, ৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপন ও ৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ সিআইবিতে নিয়মিত করে রাখার বিষয়ে পর্যালোচনা করবে কমিটি।

এছাড়াও ওইসব ব্যাংকের ২৫ গ্রাহকের ঋণের জন্য আবেদন, শাখার মূল্যায়ন, প্রধান কার্যালয়ের মূল্যায়ন, পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, মঞ্জুরিপত্র, প্রকল্প পরিদর্শন প্রতিবেদন, সহযোগী জামানতের মূল্যায়ন, আইনগত মতামত, ডকুমেন্টেশন, ঋণ বিতরণ ও তদারকির বিষয়াদি খতিয়ে দেখা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব ঋণ বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক ম্যানজমেন্টের মূল্যায়ন কি ছিল এবং পরে ওই ঋণ মনিটরিংয়ে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল কিনা তাও পর্যালোচনা করে দেখা হবে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট বিভাগ ও আঞ্চলিক অফিস থেকে ওইসব ঋণের বিষয়ে যতগুলো অডিট পরিচালিত হয়েছে সেসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।

এসব প্রতিবেদনে যেসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে। বাইরের অডিটরদের দিয়ে তৈরি বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোনো নেতিবাচক মতামত রয়েছে কিনা তাও যাচাই করা হবে।

সেগুলোর বিষয়ে তারা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা সে বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে। এসব ঋণের বিষয়ে বাণিজ্যিক অডিট বিভাগের আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করা এবং পর্ষদকে বিভিন্ন সময়ে ওইসব ঋণের হালনাগাদ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে কিনা, এতে পর্ষদের কোনো মতামত ছিল কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওইসব ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শনে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে তা পরিপালনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে দেখা হবে। ঋণের বিষয়ে ব্যাংকের সম্পদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির (এলকো) মতামত প্রদান করে।

এসব মতামত যথাযথ ছিল কিনা সেসবও যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়াটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে এবং মিথ্যা বা প্রভাবিত হয়ে কোনো তথ্য না দিলে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে বিগত ২ বছরে ব্যাংক থেকে কি পরিমাণ জনবল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছে বা অপসারণ ও ছাঁটাই করা হয়েছে এবং কি পরিমাণ জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার বিবরণী পর্যালোচনা করা হবে। ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ অবস্থার ওপর প্রণীত কোনো প্রতিবেদন থাকলে তাও পর্যালোচনা করবে কমিটি।

এছাড়াও ব্যাংক পরিচালকদের অন্য ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের বিবরণী ও ব্যাংক পরিচালনায় পর্ষদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে। এর আগে গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনটি ব্যাংকে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেগুলোর জন্য তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই সব কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- সরকারি খাতের জনতা ব্যাংক, বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক ও ইসলামী শরিয়াভিত্তিতে পরিচালিত আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

এর আগে ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিসহ মোট ৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন ৫টি কমিটিসহ এখন কমিটির সংখ্যা দাঁড়াল ১২টি। একই সঙ্গে আগের তিনটিসহ মোট ৮টি ব্যাংক তদন্তের আওতায় আসছে।

এজন্য পরিদর্শন কমিটি করা হয়েছে ৮টি। এসব কমিটির কার্যক্রম সমন্বয় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্য হিসেবে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেই ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এর আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধান করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা প্রয়োজন ছিল। তাহলে এ খাতে বড় ধরনের সংস্কার আসত।

এছাড়া ব্যাংক বিশ্লেষকদের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, শুধু কমিটি গঠন করে যেন দায়সারা না হয়। মূলত কমিটিগুলোকে স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে অনুসন্ধান করার পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। যাতে তারা বাস্তব অবস্থা সুচারুরূপে বের করে আনতে পারে। এরপর কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোথাও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×