গর্জে উঠেছিল গাজীপুরের বীর জনতা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গর্জে উঠেছিল গাজীপুরের বীর জনতা
ছবি-যুগান্তর

আজ ১৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের (তৎকালীন জয়দেবপুর) বীর জনতা গর্জে উঠেছিল। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লড়েছিল তারা।

সে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন জয়দেবপুর (বর্তমান গাজীপুর) সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে।

এ সময় কুর্মিটোলা (ঢাকা) ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে- এমন অজুহাতে জয়দেবপুরে ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করে রেজিমেন্টে রক্ষিত অস্ত্র সরিয়ে নিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রের সংবাদ বঙ্গবন্ধুকে জানাই।

করণীয় জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু বাঘের মতো গর্জে উঠে বলেন, ‘তুই একটা আহম্মক। কি শিখেছিস যে আমাকে বলে দিতে হবে?’ একটু পায়চারি করে রাগত স্বরে বললেন, ‘বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে দেয়া যাবে না। যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।’ নেতার হুকুম পেয়ে গেলাম।

এদিনে আকস্মিকভাবে পাক ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়বেদপুরের ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়। এ সময় মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, ডিজেল প্লান্ট ও সমরাস্ত্র কারখানায় শ্রমিক-জনতা চারদিক থেকে লাঠিসোটা, দা, ছেনি, দোনালা বন্দুকসহ জয়দেবপুরে উপস্থিত হয়। জয়দেবপুর রেলগেটে মালগাড়ির বগি, অকেজো রেললাইন, স্লিপারসহ বড় বড় গাছের গুঁড়ি, কাঠ, বাঁশ, ইট ইত্যাদি দিয়ে বিশাল ব্যারিকেড দেয়া হয়। জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আরও ৫টি ব্যারিকেড দেয়া হয়।

২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন-কমান্ড মেজর কেএম শফিউল্লাহকে (পরবর্তীকালে প্রধান সেনাপতি) জনতার ওপর গুলিবর্ষণের আদেশ দেয়া হয়। সৈন্যরা জনতার ওপর গুলি না করে আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে সামনে আসতে থাকলে আমরা বর্তমান গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওপর অবস্থান নিয়ে বন্দুক ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর পালাক্রমে গুলিবর্ষণ করি। ব্যারিকেড দেয়ার সময় টাঙ্গাইল থেকে রেশন নিয়ে একটি কনভয় জয়দেবপুর আসছিল। কনভয় থেকে ৫ সৈন্যের চাইনিজ রাইফেল ও এলএমজি কেড়ে নেয়া হয়।

রেলগেটের ব্যারিকেড সরানোর জন্য ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে আদেশ দিলে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন শহীদ হন, আহত হন শত শত। বর্তমানে সেই স্থানে ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামে ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা চলাকালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান বলেন, জয়দেবপুর জনতা পাক বাহিনীর ওপর আধুনিক অস্ত্র ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে আক্রমণ করেছে। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক সৈন্য আহত হয়েছে।

১৯ মার্চের পর সারা বাংলাদেশে স্লোগান ওঠে- ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো, জয়দেবপুরের পথ ধরো, সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করো।’

আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, একাত্তরের ১৯ মার্চের সশস্ত্র যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক মাইলফলক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি দিন। এদিকে দিনটি উপলক্ষে আজ গাজীপুরে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের বীরদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। এছাড়া সকাল ১০টায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×