যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টের প্রতিবাদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। ছবি-সংগৃহীত

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে রিপোর্টটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানোর পরই এর প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে রিপোর্টটি একপেশে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাপা হওয়া বিরোধী দলের বক্তব্য এবং এনজিওদের (বেসরকারি সেবা সংস্থা) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির তথ্য দেয়া হয়।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পক্ষপাতমূলক ছিল।নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। আগের রাতে সিল মারা ব্যালট পেপার দিয়ে বাক্সভর্তি, বিরোধী নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা ও মারধরের যথাযথ প্রমাণ আছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, বাকস্বাধীনতায় বাধা, দুর্নীতি ও এনজিও আইনে ‘অতিরিক্ত কড়াকড়িকে’ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই এই রিপোর্ট করা হয়। এ বছর পত্রিকার রিপোর্ট এবং কোনো কোনো বিশেষ মহলের তথ্য সেখানে তারা তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, এই রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অনুসন্ধান কতটুকু হয়েছে, সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারা বিভিন্ন লোকের নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের যে অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রেই সে সব অধিকার বেশি ক্ষুণ্ণ হয়। তিনি বলেন, আমেরিকাতে কারাগারে মানুষকে অনেক বেশি নির্যাতন করা হয়। গুয়ান্তামামোর কাহিনী আমরা জানি। ইরাকে আমেরিকানরা কীভাবে নির্যাতন করেছে, তা সবার জানা। এ ধরনের রিপোর্ট তারা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করেন। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, এই রিপোর্টে অধিকারের কাছ থেকে নিয়ে অনেক ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অনেক লোক মারা গেছে। কিন্তু আমেরিকায় প্রতিবছর এভাবে অনেক লোক মারা যায়। কিন্তু এসব তথ্য বাজারে বের হয় না।

তিনি বলেন, ড. জাফর ইকবালকে একটি ছেলে মারতে এসেছিল, তা নিয়েও ওই রিপোর্টে বেশ কথাবার্তা বলা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের প্রশংসা করা উচিত, কারণ দুষ্ট ছেলেটাকে ধরা সম্ভব হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনাকে সন্ত্রাসী আক্রমণ বলা হয়েছে। আমেরিকাতে এটি নিয়মিত ঘটনা। কারণ কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রে কম নম্বর দেয়ায় একজন শিক্ষককে মারতে এসেছিল একজন ছাত্র।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিনা পয়সায় বেসরকারি চ্যানেলে জোর করে সরকার তার তথ্য প্রচার করছে। বিভিন্ন জায়গায় চেক পয়েন্ট করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে গেলে কড়াকড়িভাবে চেক করা হয়।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সব দেশেই কঠোরতা অবলম্বন করা হয়। আমরাও এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে আছি। আমরা কোনোভাবেই দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ্য করছি না।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিরোধী দলের ফলাফলে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিএনপির কোনো নেতা ছিল না। নির্বাচনী ইশতেহার নেই। কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা কেউ জানে না। এ অবস্থায় মানুষ কেন তাদের ভোট দেবে। এছাড়াও তারা যেভাবে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে আগুনসন্ত্রাস করেছে, মানুষ তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে, মানুষ তা খুব ভালোভাবে নিয়েছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বাড়ানো, স্কুলে সঠিক সময়ে বই দেয়া এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মানুষ আওয়ামী লীগকে বেছে নিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×