প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়া ভোটে অযোগ্য কিনা সে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি ও উচ্চ আদালত

আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই : ব্যারিস্টার মওদুদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়া

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজার রায় হওয়ায় তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা উচ্চ আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এ রায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হল।’ এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই।’ রায়ের পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ভোটে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে বলা আছে নৈতিক স্খলনের জন্য দুই বছরের অধিক সময় যদি কারও সাজা হয় তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের দুটি রায় আছে, যেখানে এ ব্যাপারে কিন্তু সুনিশ্চিত বলা হয়েছে যে, আপিল যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হবে ততক্ষণ এই মামলাটা পূর্ণাঙ্গ স্থানে যায়নি সেজন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হননি সেজন্য ইলেকশন করতে পারবেন, আবার আরেকটা রায়ে আছে পারবেন না। এখন তার ব্যাপারে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা তাদের ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, ‘মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর তারা আপিল করতে পারে এবং আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে তারা বেইল পিটিশনও দিতে পারে।’

সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট থেকে আপিল বিভাগে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। যে মুহূর্তে রায় দেয়া হয় সেই মুহুর্তে সময় গণনা শুরু হয়। কিন্তু যে মুহূর্তে সার্টিফায়েড কপির জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দরখাস্ত করেন সেই মুহূর্ত থেকে সময় গণনা বন্ধ হয়ে যায়, সার্টিফায়েড কপি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত। যে মুহূর্তে সার্টিফায়েড কপি প্রস্তুত হবে সেই মুহূর্তে আবার সময় গণনা শুরু হবে। তার মানে হচ্ছে সার্টিফায়েড কপি তিনি যতদিন না পাবেন ততদিন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এই ৬০ দিনের সময় গণনা করা হবে না।’ রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হওয়ায় বৃহস্পতিবার সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রীর সাজা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং আইনের ঊর্ধ্বে যে কেউ নয়, তা প্রমাণ হল। তিনি (খালেদা জিয়া) দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমি শুধু বলতে পারি, এই রায়ে প্রমাণ হল যে, বাংলাদেশে বিএনপি আমলে অপরাধীদের যে স্বর্গ ছিল তার অবসান হয়েছে। এখন এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অপরাধ করলে তার বিচার হয় এবং সুষ্ঠু বিচার হওয়ার পর তার শাস্তি হয়। আমি যতদূর জানি দুদক কাগজপত্রে প্রমাণ করেছে এবং সেজন্য আজকে এই সাজা।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পুরান ঢাকার বকশিবাজারে জনাকীর্ণ আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান রায় দেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যে দুর্নীতির আখড়া ছিল সেখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার প্রচেষ্টায় যে ছিলাম তার সাফল্য এটা। আমি নিশ্চয় বলতে পারি, একজন রাজনীতিবিদ দুর্নীতি করেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করার পর সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এটা আমাদের ভাবমূর্তি খুব একটা উজ্জ্বল করে না। তবে আমরা অন্ততপক্ষে পৃথিবীর কাছে বলতে পারব, যারা দুর্নীতি করেন তাদের এ দেশে বিচার হয়। যারা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন তাদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে, এই বিচার প্রক্রিয়াটাই আমাদের সাফল্য।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে উনি (খালেদা জিয়া) যা যা বেনিফিট পাওয়ার কথা, উনাকে তার সব দেয়ার পরে মামলা শেষ হয়েছে। আমার মনে হয় না এটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না-এটি কি আইনমন্ত্রী ঠিক করবেন? যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে রায় আদালতে গড়াবে। তখন সুপ্রিমকোর্টই সিদ্ধান্ত দেবেন খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কী না। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সর্বাচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটা বলা যাবে না যে, তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×