নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : নিহত ২

গুলিবিদ্ধ দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

  নরসিংদী প্রতিনিধি ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : নিহত ২

রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছে। এতে আরও তিনজন আহত হয়। আহতদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনরা ভিড় জমায়। তাদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভোরে উপজেলার মির্জাচরে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে দ্রুত নেয়া হলে চিকিৎসকরা দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন- মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের ভাতিজা ইকবাল হোসেন (৩০) ও মানিকের চাচাতো ভাই আমানউল্লাহ (২৭)। আহতরা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (২৮), আজিজুল ইসলাম (২৬) ও রহমতউল্লাহ (১৮)। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, দেড় বছর আগে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাফর ইকবাল মানিকের সঙ্গে একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়ার ছেলে ফারুকুল ইসলাম ফারুকের বিরোধ চলে আসছিল। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ফারুক আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মানিকের কাছে হেরে যান। এর জের ধরে একাধিকবার দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

একাধিক হতাহতের ঘটনাও ঘটে। কয়েকশ’ বাড়িঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। বারবার হামলা ও সংঘর্ষের কারণে চেয়ারম্যান মানিকের সমর্থকরা এলাকাছাড়া হয়।

সম্প্রতি মানিকের সমর্থকরা গ্রামে প্রবেশ করার চেষ্টা চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষরা তাদের রুখতে এলাকায় পাহারা বসায়। সর্বশেষ মঙ্গলবার ভোরে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা গ্রামে প্রবেশ করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

নিহত আমানউল্লাহর বোন মুক্তা বেগম বলেন, ‘ফারুকের লোকরা আমার ভাইকে মাইরা ফালাইছে। আমি এর বিচার চাই।’ ভাগিনা আলকাস মিয়া বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনের পর থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গ্রাম থেকে আমাদের বিতাড়িত করেছে। নিকটতম আত্মীয়ের বিয়েতে সোমবার রাতে আমরা গ্রামে আসি। এ খবর পেয়ে ফারুক ও তার লোকজন মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ আমাদের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুলিতে আমার চাচা ও মামা নিহত হয়েছে।’

মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে প্রতিপক্ষ ফারুক তার পিছু নেয়। গ্রামের মধ্যে অস্ত্রধারীদের নিয়ে ফারুক সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। জেল থেকে বের হয়েই ফারুক আমার ভাই-ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘নানারকম মামলা-মোকদ্দমায় তারা গ্রামছাড়া। গ্রামের আধিপত্য ফিরে পেতে মানিকের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করছিল। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে জানিয়েছি। এরই মধ্যে গ্রামের মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়। নিজেদের গুলিতেই তারা নিহত হয়েছে।’

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন নাহার বলেন, পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে বুকে গুলি লেগে দু’জন মারা গেছে। বাকি তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রায়পুরা থানার ওসি (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন জানান, হতাহতরা সবাই চেয়ারম্যান মানিকের সমর্থক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×