বিইউপি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

সাত দিনের আলটিমেটাম

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল রাজধানী * দাবি না মানলে ২৮ মার্চ থেকে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন * আজ ফের অবরোধের ঘোষণা অন্যদের * সুপ্রভাত ও জাবালে নূরের বাস চলাচলে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা * আবরারকে মারার আগে এক তরুণীকে চাপা দেয় ঘাতক চালক, ছিল না লাইসেন্স

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিইউপি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত
বিইউপি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত। ছবি-সংগৃহীত

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। সাত দিনের মধ্যে দাবি না মানলে ২৮ মার্চ থেকে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।

তবে বিইউপি ছাড়া অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আজ সকাল ১০টায় ফের রাজপথে নামবেন বলেও ঘোষণা দেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে বিইউপির প্রথমবর্ষের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পরপরই রাজধানীর প্রগতি সরণিতে ১০ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ছিল বুধবার। এদিনও একই দাবিতে উত্তাল ছিল ঢাকা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সকাল ১০টা থেকে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন রুটে বন্ধ থাকে যান চলাচল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। শেষ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে বিকালে বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থীরা সকালে রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ দিন প্রগতি সরণি ছাড়িয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। শাহবাগ, ফার্মগেট, রামপুরা, উত্তরা, রায়সাহেববাজার, ধানমণ্ডি, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোডসহ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আওয়াজ তোলেন।

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বিক্ষোভে অংশ নেন। সব মিলিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে উত্তাল ছিল রাজধানী। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে এক রকম অচল হয়ে পড়ে ঢাকা।

পরিবহন সংকটে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে তাদের বিপাকে পড়তে হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিমানবন্দরের যাত্রীরাও। গাড়ি না পেয়ে পথচারীরা দীর্ঘপথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান।

রাজপথ অবরোধ করলেও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি গাড়ি যাওয়ার সুযোগ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনে আগেই সংহতি জানিয়েছিলেন ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর। বুধবার ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানান। এছাড়া একই দাবিতে বুধবার ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোথাও কোথাও রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা।

আবরারের নিহতের ঘটনায় তার বাবা গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি সুপ্রভাত বাসের চালককে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বাসটির লাইসেন্স ও রুট পারমিট।

জানা গেছে, ঘাতক চালকের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। মোটরসাইকেলের লাইসেন্স দিয়ে সে ভারি যান চালাত। শুধু তাই নয়, আবরারকে মারার আগে এক তরুণীকেও চাপা দেয় ঘাতক চালক।

গুলশান থানার পরিদর্শক অপারেশন আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে সুপ্রভাত পরিবহনের দুটি বাস পাল্লাপাল্লি করে এসে শাহজাদপুরে একটি মেয়েকে ধাক্কা দেয়। এরপর বেপরোয়া গতিতে এসে প্রগতি সরণিতে বিইউপির ছাত্র আবরারকে একটি বাস চাপা দেয়। তিনি বলেন- শুনেছি, ওই মেয়েটির কলার বোন ভেঙে গেছে। ওই মেয়েটি কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে ভর্তি আছে, তা পুলিশ জানার চেষ্টা করছে।

এদিকে নিহত আবরারের পরিবারকে ‘জরুরি খরচ’ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সুপ্রভাত পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।

পাশাপাশি আবরারের মৃত্যুতে তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ কোটি টাকা কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছেন আদালত। সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সুপ্রভাত পরিবহন কোম্পানিসহ আট বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে সুপ্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাস-মিনিবাসের চলাচলে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বুধবার বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) শফিকুজ্জামান ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বছরের ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মারা যান রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মিম। ওই ঘটনার প্রায় সাত মাস পর ১৯ মার্চ সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মারা গেল আবরার আহমেদ চৌধুরী।

মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এর ৭২ ধারা মোতাবেক এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। চিঠিতে বলা হয়েছে- ঢাকা মহানগরীর (রুট নং এ-১৩৮) উত্তরা রানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে চলাচলকারী সুপ্রভাত প্রা. লিমিটেডের সব বাস ও মিনিবাস এবং ঢাকা মহানগরীর (রুট নং এ-১৮৪) বসিলা থেকে আবদুল্লাহপুরে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত সুপ্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাস ও মিনিবাসের চলাচল বন্ধ থাকবে। বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সুপ্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাস ও মিনিবাসের কাগজপত্র (রেজিস্ট্রেশন সনদপত্র, ফিটনেস সনদপত্র, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি) ঢাকা বিভাগের বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) ও ঢাকা মেট্রো আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সদস্য সচিব শফিকুজ্জামান ভূঞার কাছে দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দাখিলকৃত কাগজপত্র বিআরটিএ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় দিনের উত্তাল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকাল থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে তৎপর ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। সকালে দুর্ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

আবরারের নামে ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মেয়র। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও তাতে ভরসা পাননি তারা। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আহ্বান জানান তিনি।

এজন্য মেয়রের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে গাড়িও পাঠানো হয়। মেয়রের অনুরোধে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দুপুরে মেয়র ভবনে যায়। সেখানে মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে করেন তারা।

এতে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ভিসি মেজর জেনারেল এম এমদাদুল বারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিক্ষার্থীরা তাদের আট দফার সঙ্গে নতুন করে আরও কিছু দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- আবরার আহমেদ চৌধুরীকে বাসচাপা দেয়া চালকের ফাঁসি কার্যকর, জাবালে নূর ও সুপ্রভাত পরিবহনের সব অনুমোদন বাতিল ও ঢাকার সব হকার উচ্ছেদ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণ।

এদিকে বৈঠকের শুরুতেই আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার মৃত্যু যেমন শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছে না, তেমনি আমরাও মেনে নিতে পারছি না।

তিনি জানান, আমরা আলোচনা করে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুপ্রভাত পরিবহনের সব বাস চলাচল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জাবালে নূর পরিবহনের বাসগুলোর চলাচল স্থগিত করতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি বিইউপির ছাত্র ফয়সাল এনায়েত বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ২৮ মার্চ বেলা ১১টায় তারা আবার মেয়রের কার্যালয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানে দাবি পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

অগ্রগতি দেখে যদি আমরা সন্তুষ্ট না হই, তাহলে আবার বিক্ষোভ শুরু হবে। দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে না। সারা দেশের সব শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তবে সেটা ২৮ তারিখের পর।

বিইউপির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুজ্জামান বলেন, আমরা ছাত্রদের নিয়ে মেয়রের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছি। আমরা বলেছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট দিতে হবে।

মেয়র বলেছেন, তিনি সেই ব্যবস্থা করবেন। দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন। এছাড়া স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কথাও বলেছেন তিনি। এজন্য আমরা পরবর্তী সাত দিন সময় দিচ্ছি। ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার মেয়রের সঙ্গে আবার আমাদের বৈঠক হবে। তাই এখন থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের আন্দোলন আমরা স্থগিত করছি।

এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় প্রগতি সরণিতে আসে। এ সময় তারা বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন। শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।

এরপর যান চলাচল শুরু হয়। তবে সেখানে উপস্থিত বিইউপি ছাড়া অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান। প্রগতি সরণিতে অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত নর্থ সাউথ, ইনডিপেনডেন্ট, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন।

তারা জানান, দোষী চালকের শাস্তিসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঘোষিত ৮ দফা দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবারও তাদের সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। সকাল ১০টায় তারা রাস্তায় নামবেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কাওসার হাবিব বলেন, ‘আমাদের সব দাবি নিয়ে প্রতিনিধি দল কথা বলেনি। যারা গেছে, তারা আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলেতে পারেনি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রভাত বাসচালকের শাস্তি নিশ্চিত ও পাল্লাপাল্লি বাস চলাচল বন্ধসহ অন্যান্য দাবির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তা না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ এ সময় অন্য তিনটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা তার এ ঘোষণাকে সমর্থন জানান।

এছাড়া রাজধানীর ধানমণ্ডি-২৭, শুক্রাবাদ, সাইন্সল্যাব, ফার্মগেট, শাহবাগ, রামপুরায় শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ করার পর বিকাল ও সন্ধ্যায় প্রতিটি এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করে রাস্তা ছাড়েন।

বিকাল পৌনে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ চত্বর ছেড়ে চলে যান। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, ‘রাতের মধ্যে আমাদের ৮ দফা দাবি পূরণ না হলে আমরা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

সাইন্সল্যাবে আন্দোলনরত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আর সাইন্সল্যাবের কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমণ্ডি গভ. বয়েস হাইস্কুল ও তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী অনিক বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা বৃহস্পতিবার সকালে ফের ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করব। ধানমণ্ডি-২৭ নম্বরে অংশ নেয়া ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বৃহস্পতিবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের শিক্ষার্থী আফজাল হোসেন বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রগতি সরণিতে বিইউপির শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণার আগেই এসব এলাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের পরবর্তী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গাড়ির কাগজপত্র চেক করতে দেখা যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, হেলমেট, লাইসেন্স না থাকায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন অনেকে।

তাদের গাড়ির সামনে ‘ভুয়া’ লিখে দেয়া হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘এ শহর জাদুর শহর, খুনের শহর আহারে’ ‘বাসের নিচে মরতে চাই না’ ‘হ্যালো হানি মানি চল আইন মানি’, ‘আমার ভাই কবরে খুনি কেন বাইরে’, ‘সড়ক আইন পাল্টান’।

প্রগতি সরণি : দ্বিতীয় দিনে বুধবার সাড়ে ৯টার দিকে বিইউপি, এআইইউবি, নর্থ সাউথ ও স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা গেটের সামনে মূল রাস্তা অবরোধ করেন। প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুপুরে ঘটনাস্থলে আসেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আবরারের নামে ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলেন তারা। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের আশ্বাস মেনে না নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নর্দায় বসুন্ধরা গেটে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ৯টার দিকে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শুরু করেন বিক্ষোভ।

বিইউপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ, ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজসহ স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও বুধবার নর্দার বিক্ষোভে অংশ নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’- এরকম নানা স্লোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে প্রগতি সরণি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে দুপুরে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর শিক্ষার্থীদের সামনে মেয়র ও পুলিশ কমিশনার এবং বিইউপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কথা বলে তাদের শান্ত করে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে বলেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের দাবিগুলো তাদের সামনে তুলে ধরেন।

পরে মেয়র বলেন, তোমাদের দাবিগুলোর একটি বাস্তবায়নের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, তোমাদের সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হবে।

বাস স্টপেজ ছাড়া কোনো জায়গায় বাস থামবে না, তোমাদের সমন্বয়ে আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে নিয়মিত বসে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে করণীয় এবং আপডেট সম্পর্কে জানানো হবে।

তোমাদের মতো নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আমরা সমস্ত সমস্যা মোকাবেলা করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বলে ওঠেন- দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

কোনো আশ্বাস আমরা আর শুনতে চাই না। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে- এমন দেখতে চাই। যখন আমাদের দাবি পূরণ হবে তখন আমরা আন্দোলন ছেড়ে শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাব। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ স্লোগান দিতে থাকে।

ঘটনাস্থলে এসে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। তাৎক্ষণিকভাবে সুপ্রভাত বাসটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে এই বাস চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। ঘাতক চালকের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অপরাধের উপযুক্ত শাস্তির বিধান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।

কমিশনার বলেন, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা দফায় দফায় ট্রাফিক সপ্তাহ ও পক্ষ পালন করেছি। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে নানা কারণে পুরোপুরি সাফল্য আসেনি। তবে আমরা সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। চালক ও মালিককের দায়িত্বের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এখন আমরা কঠোর আইন প্রয়োগের দিকে যাব।

বিইউপির ভিসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ এমদাদুল বারী বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দাবি নয়। এটা সারা দেশের মানুষের দাবি। ঘটনার পর পরই মেয়র তোমাদের দাবি নিঃশর্তে মেনে নিয়েছেন।

আমরা আগেও দেখেছি আন্দোলন চলাকালে দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেটা বাস্তবায়ন হয় না। তবে আমরা বুঝি সব দাবি-দাওয়া দু’একদিনে সমাধান করে ফেলা সম্ভব না।

যেটা সম্ভব ছিল মেয়র মহোদয় আজকেই সেটা করেছেন। এটা কোনো সমাধান নয় আমরা জানি। তবে এটা মেয়রের সৎ ইচ্ছার বহির্প্রকাশ। পর্যায়ক্রমে তোমাদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে বলে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শাহবাগ এলাকা : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধে মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় জাদুঘরের সামনের বিকল্প রাস্তা দিয়ে কিছু গাড়ি চলতে দেখা গেছে।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে কলা ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা ইন্সটিটিউট প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ গিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন তারা।

শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাস্তায় বসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ ছাড়া তারা মোট আট দফা দাবি জানান। আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর ও এজিএস সাদ্দাম হোসেন।

ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী এ যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে। গত বছর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্টের দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা এ রাষ্ট্রের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। তখন প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করা হলেও এ আন্দোলন দমনের জন্য রাষ্ট্র বর্বর ভূমিকা পালন করেছিল, হাতুড়ি-হেলমেট বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছিল।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ‘এ দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা রয়েছে, এগুলোর প্রত্যেকটি সমাধান করতে হবে। যদি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসে সমস্যার সমাধান করবে।’ এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকটি দাবি মেনে নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান নূরুল হক।

পুরান ঢাকা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে। শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল হয়ে পড়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে রাজপথ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ফার্মগেট এলাকায় নিরাপদ সড়কের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার এএসআই রানা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। এত সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

রাজধানীর রামপুরায় ব্রিজের কাছের ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আফতাবনগরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। অন্যান্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন। এ সময় চালক ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে দুপুর থেকে এখানে বিক্ষোভ করছেন। তারা ফুটওভার ব্রিজ দাবি করছেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ধানমণ্ডি-২৭ এর মোড়ে মিছিলসহ এসে সড়ক অবরোধ করেন।

এছাড়া ইউনিভার্সিটির সামনেও অবস্থান নেন শত শত শিক্ষার্থী। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাসে বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেন, হাফ ভাড়া নেয়া হয়েছে কিনা। সেই সঙ্গে গাড়িতে লেখা ‘হাফ পাস নাই’ স্টিকার ছিঁড়ে ফেলেন।

এ সময় তারা বাস চালকের লাইসেন্সও চেক করেন। বেলা ১১টার দিকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় সড়ক অবরোধ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, উত্তরার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারাও আবরার হত্যার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুই শিক্ষার্থীর ওপর জবি শিক্ষকের গাড়ি : পুরান ঢাকায় নিরাপদ সড়কের আন্দোলন চলাকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে দুই শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

আহত দুই শিক্ষার্থীর একজনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত এক শিক্ষার্থীকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার রায়সাহেববাজার মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কর্মসূচি শেষ করে ক্যাম্পাস ফিরতে থাকেন। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ- ১৭৯৫৬৩) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমা আক্তার (১০ম ব্যাচ) ও আয়েশা মোমেনাকে (১৪তম ব্যাচ) ধাক্কা দেয়।

গাড়ির ধাক্কায় ইমা আক্তার দূরে ছিটকে পড়ে। কিন্তু আয়েশা মোমেনা ধাক্কা খেয়ে গাড়ির সামনে পড়লে তার পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা তুলে দেন। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক নতুন গাড়ি কিনে নিজেই চালাচ্ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা গাড়িটি আটক করে আহত আয়েশাকে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করে। এ সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাংচুর করেন।

পরে গাড়ি ভাংচুর থামালে শিক্ষক গাড়িটি নিয়ে চলে যান। পরে আয়েশাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এ্যাপালো হাসপাতালে নেয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী ইমা আক্তার জানান, আমরা দু’জন ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় একটি প্রাইভেট কার আমাদের ধাক্কা দেয়। আমি দূরে ছিটকে পড়লেও আয়েশার ওপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয়া হয়। পরে আহত আয়েশাকে ওই শিক্ষকের গাড়িতে নিতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ব্রেক কাজ না করার জন্য দুর্ঘটনা ঘটে। আমি আহত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। আর আমি তাকে গাড়িতে নিতে চাই কিন্তু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে কিছু শিক্ষার্থী আমার গাড়িতে হামলা চালায়।

ঘটনাপ্রবাহ : বাসচাপায় আবরার নিহত

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×