বিশ্ব পানি দিবস আজ

নদী দূষণরোধে পদক্ষেপ নেই

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নদী দূষণরোধে পদক্ষেপ নেই

ঢাকার চারপাশের নদীর পানি প্রতিনিয়ত দূষণ করছে ১৪৮টি উৎসমুখ। এ তালিকায় রয়েছে সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, নামিদামি শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

এসব উৎসমুখ থেকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার পানিতে পড়ছে নানা ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল, রেডিমিক্স, পয়ঃনিষ্কাশন, শিল্প বর্জ্য, বাজারের বর্জ্য ও ড্রেনের পানি।

অনেকেই সরাসরি পাইপ দিয়েই নদীতে ফেলছে এসব বর্জ্য। এতে একদিকে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে, অপরদিকে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। দুই বছর আগেই এসব উৎসমুখ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

তবে এখনও উৎসমুখগুলো বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এ সংস্থা। অথচ এসব নদীর পানি পরিশোধন করে বিতরণ করছে ওয়াসা। এমন পরিস্থিতিতে আজ উদযাপন করা হবে ‘বিশ্ব পানি দিবস’। এ দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’।

এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নদীর উৎসমুখ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিআইডব্লিউটিএ’ চেয়ারম্যান কমডোর মাহবুব উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদফতর, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করব। শিগগিরই এসব বন্ধে অভিযান শুরু হবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের একার পক্ষে এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামনে গ্রীষ্ম মৌসুম। এ সময় পানির চাহিদা বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির সংকট। এমনকি নলকূপের পানিতেও কেমিক্যালের উপাদান পাওয়া যায়। এ সময় বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়। নদীর পানিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করলে তা সহজেই পরিশোধন করা যায়।

জানা গেছে, নদী দূষণে যুক্ত উৎসমুখের তালিকা সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এতে দেখা গেছে, সোয়ারীঘাট, কামরাঙ্গীরচরসহ এসব এলাকায় ওয়াসার অন্তত ২৭টি উৎসমুখ রয়েছে। এসব উৎসমুখ দিয়ে নদীতে পানি ও গৃহস্থালি বর্জ্য পড়ছে।

কেরানীগঞ্জের নবাবচর এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের অন্তত সাতটি উৎসমুখ থেকে নদীতে বর্জ্য পড়ছে। মিরপুর, ঢাকা উদ্যান ও গাবতলী এলাকায় রেডিমিক্স, কাঁচাবাজার, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, গরুর হাট, গার্মেন্ট কারখানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডও নদী দূষণ করছে।

এ এলাকাতেও রয়েছে ওয়াসার অনেকগুলো উৎসমুখ। এছাড়া আশুলিয়া থেকে সুলতানা কামাল ব্রিজ পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি উৎসমুখ থেকে নদীতে বর্জ্য পড়ছে।

এ এলাকায় তুরাগ নদ দূষণ করছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অন্তত ১০টি উৎসমুখ। এছাড়াও রয়েছে আইচি হাসপাতালসহ কয়েকটি গার্মেন্ট, আবাসিক ভবন, বিসিক টঙ্গী ও কাঁচাবাজার।

অপরদিকে শীতলক্ষ্যা দূষণ করছে নারায়ণগঞ্জের অনেকগুলো সিমেন্ট, আটা, লবণ কারখানা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনও নদী দূষণ করছে। এ এলাকায় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নদী দূষণ করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×