ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে বাদ পড়ছেন বয়স্করা

বেঁধে দেয়া হবে বয়স * শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু * সিন্ডিকেটমুক্ত কমিটির প্রত্যাশা অনেকের * বাদ পড়ারা স্বেচ্ছাসেবক ও যুবদলে স্থান পাবেন

  তারিকুল ইসলাম ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে বাদ পড়ছেন বয়স্করা
ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে বাদ পড়ছেন বয়স্করা

মেয়াদ পার হওয়ার আড়াই বছর পর গঠিত হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নতুন কমিটি। এতে স্থান দেয়া হবে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের। ত্যাগী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতারা পাবেন অগ্রাধিকার। বাদ পড়তে পারেন বয়স্করা। এজন্য বেঁধে দেয়া হবে বয়সসীমা। বাদ পড়া নেতাদের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে স্থান দেয়া হবে।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইতিমধ্যে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর ছাত্রদলে চাউর হয়ে গেছে। এ কারণে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকেই ধরনা দিচ্ছেন দলের শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের কাছে।

কেউ কেউ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য নেতাদের বেশির ভাগই চান ছাত্রদল সিন্ডিকেটমুক্ত হোক। সংগঠনে বিরাজমান ‘ভাইতন্ত্র’ তিরোহিত করা গেলে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার বিচারে নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে বলে নেতাদের বিশ্বাস।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, খুব শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেয়া হবে। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মেধাবীদের দিয়েই কমিটি হবে। এক্ষেত্রে বয়স বেঁধে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রদলের কমিটি হচ্ছে। আহ্বায়ক কমিটি নাকি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি আরও বলেন, ছাত্রদের নিয়েই ছাত্রসংগঠন।

তাই ছাত্রদের মধ্যে থেকেই কমিটি করার চিন্তা রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও নতুন কমিটি দেয়া হবে। এজন্য প্রত্যেকের জীবন বৃত্তান্ত নেয়া হবে।

এমনকি পারিবারিক ইতিহাসও খোঁজ নেয়া হবে। সব কিছু পর্যালোচনা করেই ত্যাগী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে; যাতে কমিটি নিয়ে পরে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে যাদের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা ছিল, নির্যাতন ও মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তারা বয়সের কারণে অনেকেই বাদ পড়তে পারেন। কিন্তু তাদেরও যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তাদের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে পদ দেয়া হবে।

রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৪৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর গত আড়াই বছরেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত ১০ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় কলেজে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারেনি ছাত্রদল। নেতৃত্বে নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকায় তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সংগঠনটিতে ইতিমধ্যে নতুন কর্মী সংকটও দেখা দিয়েছে। বন্ধ হয়েছে নেতা তৈরির পথ। সূত্র জানায়, ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের ভরাডুবিতে সংগঠনের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে।

ডাকসুতে বয়সসীমা ৩০ করে দেয়া হলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেননি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোনো নেতা। সেখানে ছাত্রদলকে প্যানেল দিতে হয়েছে অপরিচিত মুখের সমন্বয়ে। প্যানেলে শীর্ষ তিনটি পদে যারা নির্বাচন করেছেন হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়কই হচ্ছে তাদের সর্বোচ্চ পদ।

কয়েকটি হল সংসদে প্যানেলই দিতে পারেনি সংগঠনটি। নির্বাচনে ছাত্রদল ডাকসুর ২৫টি পদের একটিতেও জয় পায়নি। এমনকি প্রার্থীদের মধ্যে সম্পাদকীয় একটি পদ ছাড়া কেউ হাজারের উপরে ভোট পাননি। ডাকসু নির্বাচনে এমন অবস্থার পর এখন ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা বলছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে মেধাবী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষদেরই প্রাধান্য পাওয়ার কথা। কিন্তু ছাত্রদলকে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন বিএনপির কতিপয় কেন্দ্রীয় নেতা। তারা নিজেদের অনুগত ও অনুসারীদের পদ-পদবিতে বসিয়ে নিজের প্রভাব বাড়াতে প্রতিটি কমিটি গঠনের আগে লবিং-তদবির করেন। কখনও একক, কখনও গ্রুপভিত্তিতে তাদের লবিং-তদবিরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও বিভ্রান্ত এবং অসহায় হয়ে পড়েন।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের কয়েকজনের এমন তৎপরতা দলে বেশ প্রতিষ্ঠিত। যার কারণে ছাত্রদল একটি বৃহত্তর ছাত্রসংগঠন হলেও প্রতিটি কমিটিতেই শীর্ষ পদগুলোতে প্রাধান্য পায় কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলার নেতারা। এবার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় দেখার জন্য বিএনপি হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনের অনেকেই চান একবারেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হোক। আবার একটি গ্রুপ চায় আহ্বায়ক কমিটি। যারা একটি কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে নতুনদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে বিদায় নিতে চান। ছাত্রদলের একজন যুগ্ম সম্পাদক যুগান্তরকে বলেন, জুনিয়র কমিটি হলে ভালো হয় এমন দাবি আছে।

সময়মতো কমিটি হলে একটা সময় জুনিয়র কমিটি এমনিতেই চলে আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করে দীর্ঘদিনের জট একবারে শেষ করলে অনেক নেতার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান কমিটির অধিকাংশ নেতা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিরোধিতা করছেন। কারণ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কতগুলো প্রেক্ষাপট থাকে। এখন তা ছাত্রদলে নেই। যেমন- সম্প্রতি কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে। যেখানে শামসুজ্জামান দুদু ছাড়া অন্যদের খুঁজে পাওয়াই মুশকিল ছিল। ছাত্রদলের তো এ রকম পরিস্থিতি নেই। সেক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটি করা জরুরি বলে মনে হয় না। একেবারে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিলেই ভালো হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, বর্তমানে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে সরকার অবৈধভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। এখন বিএনপির সাংগঠনিক বিষয়টি দেখছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই কমিটি হবে। সবার অংশগ্রহণে সুন্দর একটি কমিটি হবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×