২৮ বছর পর ডাকসুর কার্যকরী সভা আজ

অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেই দায়িত্ব নিচ্ছি, পুনর্নির্বাচন দাবিতে আন্দোলনও চলবে- ভিপি নূর

  ঢাবি প্রতিনিধি ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২৮ বছর পর ডাকসুর কার্যকরী সভা আজ
২৮ বছর পর ডাকসুর কার্যকরী সভা আজ। ফাইল ছবি

২৮ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ‘দ্বিতীয় পার্লামেন্ট’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যকরী সভা। ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর এ সভায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দায়িত্ব নিলেও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ডাকসুর প্রথম কার্যকরী সভা ডাকসু ভবনে নয়, বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত হবে। ১৮টি হল সংসদের কার্যকরী সভা আজ নিজ নিজ হলে অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯০ সালের পর ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। ১৮টি হলের ১২টিতেই ভিপি-জিএসসহ অধিকাংশ পদে জয় পায় তারা। বাকি ৬টিতে স্বতন্ত্র পদে ভিপি-জিএসসহ কিছু পদে জয় পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ছাত্রলীগ ছাড়া কারচুপি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন ভিপি নূরুল হক নূরের সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ প্রায় সব প্যানেল। তবে এরপরও দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক সভায় বৃহস্পতিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নূর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ভিপি নূর বলেন, শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে ডাকসুর কার্যকরী সভায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করব। পুনর্নির্বাচনের দাবিসহ শিক্ষার্থীদের অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। পুনর্নির্বাচনের চাওয়া আমাদের বরাবরের মতোই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম এবং ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরও বেগবান করার জন্য আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অঙ্গসংগঠন বা কথা বলার জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেই আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি।

দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করে নূরুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে মেধাভিত্তিক সুস্থধারার ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তে অর্থ ও পেশিশক্তিনির্ভর অপরাজনীতির বিকাশ ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হল আর বিজয় একাত্তর হল ছাড়া অন্য হলগুলো প্রশাসন যেন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কাছে ইজারা দিয়েছে। যে মেধা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, সেই মেধা ও অর্থনৈতিক অবস্থা দেখেই হলে তাদের আসন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে মিছিল-মিটিং করানো যাবে না এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে হলে সিট দেয়া যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্যে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ডাকসুতে নির্বাচিত নূরুল হক নূর ও আখতার হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারে আমাদের সংগঠন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর ম্যান্ডেটকে প্রাধান্য দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর জিএস পদে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করা রাশেদ খান বলেন, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন হলে অনিয়ম হয়েছে। রোকেয়া হলের মেয়েরা হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন, যা এখনও মেনে নেয়া হয়নি। আমরা রোকেয়া হলের আন্দোলনকারী ছাত্রীদের সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি এবং রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি। পরিষদ থেকে ডাকসুর এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফারুক হোসেন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা নূরুল হককে ভিপি পদে নির্বাচিত করেছে।

আমরা তিন দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মোটিভ ও মতামত জানার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, নূরুলের দায়িত্বভার গ্রহণ করা উচিত। কলঙ্কিত নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তাকে ত্বরান্বিত করার জন্য নূরের দায়িত্ব নেয়া উচিত। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও তিনি কাজ করে যাবেন।

২৮ বছরে ৭ বার ভেস্তে যায় নির্বাচনের উদ্যোগ : সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনের পর ৭ বার ভেস্তে যায় ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯২৪ সালে ডাকসু প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৩ সালে। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার ডাকসুর ভোট হয়। এরপর ২৮ বছর অতিবাহিত হলেও আর নির্বাচন হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে ৭ বার ভোটের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ভেস্তে গেছে। এর মধ্যে ২০১২, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আদালতের নির্দেশনার কারণে ডাকসু ফের ব্যাপক আলোচনায় আসে।

২০১৭ সালের শেষদিকে ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ডাকসুর পক্ষে কথা বলেন। এর মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের জন্য বেশ কিছু আইনি জটিলতায় পড়তে হয় তাকে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হয়। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট জানান, মার্চে ডাকসু নির্বাচনের কোনো বাধা নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : ডাকসু নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×