১১৭ উপজেলায় ভোট আজ

অনিয়মের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে ইসি

সতর্ক করা হয়েছে পাঁচ এমপিকে, পক্ষপাতের অভিযোগে ৩ ইউএনও ও ৪ ওসি প্রত্যাহার * সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোট হচ্ছে না ৬ উপজেলায় * বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ৩৩ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ জন নির্বাচিত

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ২৫ জেলার ১১৭টিতে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মাঠে নেমেছে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। এদিকে দ্বিতীয় ধাপে সহিংস ঘটনার পর তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে নিরাপত্তা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সাংবিধানিক এ সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় ধাপের নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগে পাঁচ এমপিকে সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়াতে ২৪টি উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অনিয়ম হলেই ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পক্ষপাতের অভিযোগে তিনজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চার থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণের আগের দিন শনিবার বিকালে নির্বাচন ভবনে সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। যেসব উপজেলায় সমস্যা আছে বলে মনে হয়েছে, সেখানে আমরা বিজিবি ও র‌্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছি। এছাড়া নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত নির্বাহী হাকিমও।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করেছি। এছাড়া বেশ কয়েকজন ওসি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। তাদের নাম জানান তিনি। সচিব জানান, ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সব উপকরণ পৌঁছে গেছে। তৃতীয় ধাপে রংপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর ও মেহেরপুর সদরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, এ ধাপে তিনজন ইউএনও ও চারজন ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে ২৫টি জেলার ১১৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ধাপে ১২৭টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। বাকি ১০টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলায় সব পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না। এছাড়া চট্টগ্রামের লোহাগড়া ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। আর নরসিংদী সদর ও কক্সবাজার সদরের নির্বাচনের ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের ভোটে নেয়া হবে।

আরও জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট হতে যাওয়া ১১৭টি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৪০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৮৪ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ধাপের নির্বাচনে ৯ হাজার ২৯৮টি ভোট কেন্দ্র ও ১ কোটি ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫১ ভোটার রয়েছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ এমপিকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। তাদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে গত কয়েকদিন পৃথক চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- নড়াইল-১, কক্সবাজার-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, রাজবাড়ী-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য।

ভোটের আগের দিন শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তি এলাকায় অবস্থান করায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বন্ধ করে নোটিশ দিয়েছে ইসি। ওই উপজেলায় পুনঃভোট করতে হলে তার ব্যয় সংসদ সদস্যকে বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করে দেয়া হয়।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তিকে সতর্ক করার পরও তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন এমন তথ্য ইসির কাছে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার তিনি নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলে কালিয়া উপজেলার ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে- এ মর্মে তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

মুক্তিকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, যেহেতু আপনি বিধিবহির্ভূতভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, তাই আপনাকে নড়াইল-১ (কালিয়া) নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার জন্যে ইসি নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে নির্বাচন বন্ধ হলে এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার জন্যে ইসি তথা সরকারের যে আর্থিক ব্যয় হবে পরবর্তীতে তার দায়দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে।

সংসদ সদস্যদের সতর্ক ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসি সচিব বলেন, আমরা প্রাথমিক ভাবে এভাবে পত্র দিয়ে থাকি- আপনি এ ধরনের আচরণ বিধি ভঙ্গ করছেন। সুতরাং আপনি অমুক তারিখের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করবেন, না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে আমরা খেয়াল করেছি আমাদের সংসদ সদস্যরা এ ধরনের পত্র দেয়ার পর এলাকা ত্যাগ করে চলে গেছেন। পত্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। সম্মান প্রদর্শন না করা হতো তাহলে আমরা দ্বিতীয় পদক্ষেপে যেতাম।

বিভিন্ন উপজেলায় সহিংসতা : যুগান্তরের প্রতিনিধিরা জানান, ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন মাহমুদ বাচ্চুর সমর্থকদের মধ্যে সহিংস ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ স্বপন ও বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। হামলা হয়েছে এক বাড়িতে। কুমিল্লার বরুড়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাছিমুল আলম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম কামরুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলাতেও সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×