মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

উন্নত দেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উন্নত দেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকারে মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে উদযাপনের মূল কেন্দ্র সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছিল জনতার ঢল।

বিভেদ ভুলে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল সবার কণ্ঠে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সংঘাত-সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়।

একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোটা বাঙালি জাতি।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৪৮ বছর পূর্ণ করা বাংলাদেশে এবারের স্বাধীনতা দিবস এসেছে নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে।

মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটের দিকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।

সাভারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে যান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সড়কে জমায়েত হতে থাকে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ও তার আশপাশের সড়কে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজার মানুষের ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। ‘স্বাধীনতার অপর নাম শেখ মুজিবুর রহমান’ ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল হাই ও মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকা ও সংসদের পতাকাসহ মিছিল নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যান। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি মো. হুমায়ন কবির ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বিভিন্ন দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে ঢাকায় স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে। তার উপস্থিতিতে সেখানে এবং সারা দেশে একই সময় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন সরকারপ্রধান। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের শিশু-কিশোর সমাবেশে ১০-১৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুদ্ধ সুরে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে ইতিহাস বিকৃত করেছে। এ দায় এড়াতে তারা একাত্তরের গণহত্যার বিচারে বাধা দিয়েছে। সে কারণে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে এত বিলম্ব হচ্ছে। এ স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি। সরকার এ স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্র ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দেশের মালিক জনগণ। নির্ভেজাল গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করে দেশের ক্ষমতা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে হবে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে সংবিধানের ১৬ আনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দেশ অনেক এগিয়েছে। দেশে এক সময় চাঁদাবাজি হতো, এখন কোথাও কোনো চাঁদাবাজি নেই। গ্রামে কোনো অস্থিরতা নেই। শ্রদ্ধা জানানো শেষে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও ধর্মের অপব্যবহার চলছে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাঙালি জীবনের অনেক বিপর্যয় ঘটেছে। এ বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রত্যাশা অনুপাতে প্রাপ্তির পাল্লাই ভারি। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা হরণ ও দেশকে বিকলাঙ্ক রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মহাবিপর্যয় থেকে দেশ ও জাতিকে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এখন অনেকাংশ পূরণের পথে। এভাবে এগিয়ে গেলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

রাজারবাগে স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির শ্রদ্ধা : রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শহীদ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। সকাল সাড়ে ৭টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন তারা। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা বেগম। অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির সব ইউনিটে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ইউনিটগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সোয়া ৭টায় পিলখানার স্মৃতিসৌধ ‘সীমান্ত গৌরব’- এর বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিজিবি মহাপরিচালক এবং ঢাকায় কর্মরত বিজিবির অফিসাররা। এ সময় বিজিবির একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এছাড়া ফজরের নামাজের পর পিলখানার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ বিজিবির সব ইউনিট মসজিদে জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার শান্তি এবং বিজিবির উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিজিবি হাসপাতালে রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যার পর পিলখানার গুরুত্বপূর্ণ অফিস ভবন ও গেটগুলোয় আলোকসজ্জা করা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাব : জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিনসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। প্রেস ক্লাবে মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘লালজমিন’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এছাড়া সদস্যদের জন্য বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করা হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি : মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সকালে সংগঠনের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ডিআরইউ সদস্যরা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বিদেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাসেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। কলোম্বিয়া ডিসির মেয়র ২৬ মার্চকে ‘বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। করাচির বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হয়। জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস গুরুত্ব সহকারে নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়। ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া আশুলিয়া প্রেস ক্লাব, সাভার টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতি, জাবি কর্মকর্তা সমিতি ও বিভিন্ন হল এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জেএসডি), রাজউক, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইন্সটিটিউট, ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মহিলা ক্লাব, সিআরপি, সিডাব ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশ প্রভৃতি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ, আলফাডাঙ্গা উপজেলা কল্যাণ সমিতি ঢাকা, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় জনতা পার্টি, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বিজেএমসি কেন্দ্রীয় কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল), বিজেএমসি কেন্দ্রীয় কর্মচারী সংসদ, স্বাধীনতা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুব উন্নয়ন অধিদফতর, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

হাতিরঝিলে নৌকা বাইচ : বাংলা লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান নৌকা বাইচ বিকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ রোইং ফাউন্ডেশন। এ সময় দর্শকদের করতালি আর সাইড ড্রামের বাজনায় মেতে উঠে পুরো হাতিরঝিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় পুরুষদের ১১টি এবং নারীদের চারটি ক্লাব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।

বেরাইদে আলোচনা ও দোয়া : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯ উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, বক্তৃতা, আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বেরাইদের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠানগুলো হল- ৪২নং ওয়ার্ড, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কার্যালয়, ৪২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, একেএম রহমতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বেরাইদ গণপাঠাগার ও আর্কাইভ, বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল, রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ রহিমুল্লাহ মোল্লা দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বেরাইদ মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, শতদল নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেরাইদ মডেল স্কুল, আল ফালাহ আইডিয়াল স্কুল, প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কিডস গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

ডেমরায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল : রাজধানীর ডেমরায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হাজীনগর এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. শওকত হোসেন সুমন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহিদুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৬৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহমুদুল হাসান পলিন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. নারায়ণ চন্দ্র দাশ, পিজি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সাইফুল ইসলাম, ডা. শাহীন মাহমুদ ও ডা. ফিরোজ আলম প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×