খালেদা জিয়ার প্রতি ন্যায়বিচারের আহ্বান জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। বাংলাদেশের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মুখপাত্র এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মুখপাত্র বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি আমরা সম্যক অবগত আছি। মামলার প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা খালেদা জিয়ার বিচার প্রক্রিয়ায় আইনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের শাসনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। আমরা আবারও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার এবং মুক্তভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিষয়টি ছিল সাংবাদিকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রেসব্রিফিংয়ে দুই বাংলাদেশি সাংবাদিকসহ তিন সাংবাদিক জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের কাছে খালেদা জিয়ার মামলায় সাজা ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ‘এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই’ বলে মন্তব্য করেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকালে জাতিসংঘের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি জাতিসংঘ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে কিনা, তা জাতিসংঘ খতিয়ে দেখছে।

পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে ভারত : দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি। প্রতিবেশী এ দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না ভারত। এ দেশটিতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চীন অনেকখানি এগিয়ে গেছে। এ বিষয়টি পুরোপুরি জানে ভারত। তা সত্ত্বেও তারা এমন অবস্থান নিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা বিদেশি সাহায্যের ২ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও অন্য চারজন। এ অভিযোগে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালত খালেদা জিয়াকে এ মামলায় ৫ বছরের জেল দিয়েছেন। তার ছেলে তারেক রহমান ও অন্য চারজনকে ১০ বছরের জেল দিয়েছেন। এ বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। কারণ, আইন অনুযায়ী ৫ বছরের জেল হওয়ার কারণে খালেদা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এটা যদি হয় তাহলে তা হবে অবশ্যই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বিরাট রাজনৈতিক অর্জন। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকায় ভারতের সাবেক এক হাইকমিশনার বলেন, দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়া একটি ‘ট্রিকি’ পরিস্থিতি।

খালেদার রায়ে জবুথবু বিএনপি : এক দশকেরও বেশি সময় আদালতে আসা-যাওয়া করেছেন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন ৩৭টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর বেশিরভাগই তিনি দুইবার (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের স্মৃতিতে নির্মিত একটি এতিমখানা ট্রাস্ট থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী প্রমাণিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান হচ্ছেন শেখ হাসিনা ওয়াজেদ। বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই পালাবদলে বহু বছর ধরে সরকার গঠন করে আসছে। তবে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড দেশের দুই দলীয় সিস্টেমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। গত দশকজুড়ে ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ছে খালেদা জিয়ার প্রভাব। প্রথমে সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকার ও পরে আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা দায়ের করে। এ সবের মধ্যে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দেয়ার জন্য সংবিধানে পরিবর্তন আনলে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ফলস্বরূপ দলটি হয়ে পড়ে সংসদবিহীন। বিএনপির একসময়কার স্লোগান ছিল- ‘খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী। জিয়াউর রহমান আমাদের আদর্শ। তারেক রহমান আমাদের ভবিষ্যৎ।’ কিন্তু বর্তমানে খালেদা জিয়ার বয়স ৭২। তিনি অসুস্থ। আর রায়ের কারণে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লড়ার সুযোগ হারাতে পারেন তিনি। অন্যদিকে ছেলে তারেক রহমান ও দলের উত্তরাধিকারী বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসনে আছেন। তার বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এসব বিবেচনায় একরকম জবুথবু অবস্থা বিএনপির।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter