বিএনপি প্রস্তুত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ নেতারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি। দল পরিচালনা, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার মধ্যে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। আবার নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে আন্দোলনে যাওয়া না যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে করণীয় চূড়ান্ত করাও দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিএনপি আগের চেয়ে এখন অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ। তাই দল পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত নিতে তেমন বেগ পেতে হবে না বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, এবার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়তে হবে। অন্য কোনো বিকল্প নেই। দলের ঐক্যের ব্যাপারে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। এবার কেউ দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও তাদের আর ক্ষমা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। চেয়ারপারসনের এমন কঠোর বার্তার পর গুটিকয় নেতার ভিন্ন চিন্তা থাকলেও সেখান থেকে সরে এসেছেন তারা।

দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া সাজা হলে কারাগারে যেতে পারেন এমন আশঙ্কায় বেশ কিছুদিন আগ থেকেই দলের ঐক্যের দিকে জোর দেন চেয়ারপারসন নিজেই। দীর্ঘদিনের চলমান দুটি বলয়ের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব কমিয়ে আনতে সিনিয়র এক নেতাকে দায়িত্ব দেন চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়ার নির্দেশে ওই নেতা সম্প্রতি বিএনপির প্রভাবশালী ওই দুটি বলয়ের নেতাদের নিয়ে একসঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই পক্ষের মনোমালিন্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। একপর্যায়ে অতীতের সবকিছু ভুলে এখন থেকে একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার করেন তারা। এ সময় দুই বলয়ের প্রভাবশালী দুই নেতা কোলাকুলি করেন। তাদের মধ্যে দূরত্ব কমেছে এ বার্তাটি পৌঁছে দিতে সিনিয়র ও মাঝারি সারির নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে বৈঠক করেন তারা। এছাড়া তারা অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী আলোচনা ঘুরপাক খেলেও এবার দলের সিনিয়র নেতারা এ প্রশ্নে বেশ ঐক্যবদ্ধ। গত কয়েক দিনে নিজেদের মধ্যে তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। আলোচনায় তারা একমত হয়েছেন যে, কারাগারে থাকলেও খালেদা জিয়াই দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আর বাইরে দলের স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতারা দল পরিচালনা করবেন। খালেদা জিয়ার রায়ের দিনেই এর প্রতিফলন দেখা যায়। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ সিনিয়র নেতাদের একসঙ্গে মুভ করতে দেখা যায়। রায় ঘোষণার পর তারা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। কর্মসূচি ঘোষণার আগে মহাসচিবের কক্ষে সিনিয়র নেতারা আলোচনা করেন। সবার মতামত নিয়েই রায়ের প্রতিক্রিয়া ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফখরুল। এদিকে খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়ার পথে ঢাকার নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসায় তৃণমূলও চাঙ্গা ও উজ্জীবিত বলে দাবি দলটির নীতিনির্ধারকদের।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর চেয়েও কঠিন সময় বিএনপি পার করেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর এবং ‘ওয়ান-ইলেভেন’র চরম দুঃসময় পার করেছে দলটি। তবে এবার নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা মোকাবেলায় আমরা উদ্বিগ্ন নই। কারণ, বিগত সময়ে দলের মধ্যে বিভেদ বা ভাঙন সৃষ্টির কারণে কঠিন বেগ পেতে হয়েছে। তবে এবার সেই ধরনের কোনো শঙ্কা নেই। চেয়ারপারসনের মামলা ও কারাগারে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেকটা ঐক্যবদ্ধ। যে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। তাই আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপিকে কোণঠাসা করতে সরকারের এ ষড়যন্ত্র এবার সফল হবে না। সরকার চাইলেও এবার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে পারবে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে অনড় তারা। এ নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমে জয়ী হয়ে সরকারের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে চায় দলটি। যে কোনো পরিস্থিতিতে দলটি আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমন ইঙ্গিত খালেদা জিয়াও দিয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ময়দান ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে একদলীয় শাসন কায়েম ও খালি মাঠে গোল দেয়ার খায়েশ পূরণ হবে না। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই খালেদা জিয়ার সঙ্গে এমন আচরণ করছে। তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে এর মাশুল গুনতে হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম। অতীতের চেয়ে আমাদের দল এখন অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে। সব প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা, অনেকে কারাগারে। বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। এরপরও একজন কর্মী দল ছেড়ে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর অটুট আস্থা ও বিশ্বাস আছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন অনেক ঐক্যবদ্ধ। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে বিএনপি বলতে কোনো কিছুই নেই। কিন্তু এটা আওয়ামী লীগ সহ্য করতে পারছে না। বিএনপির নেতৃত্ব কে নেবে তা নিয়ে তারা মন্তব্য করছেন। কিন্তু চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে আমাদের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে কে হবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেই অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। চেয়ারপারসনের নির্দেশে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শে স্থায়ী কমিটি ও আমরা সিনিয়ররা মিলেই দল চালাব।

তিনি বলেন, আন্দোলন এবং আগামী নির্বাচনসহ যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থী বাছাইসহ অনেক কাজই শেষ পর্যায়ে। দুলু আরও বলেন, নির্বাচন থেকে বিএনপিকে দূরে রাখতেই দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনের পথেই থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter