ভাষা বাঙালিকে সর্বমানবিক ও অসাম্প্রদায়িক করেছে

  মুহম্মদ নূরুল হুদা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণিজগতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রধান নিয়ামক তার ভাষা, প্রকাশভঙ্গি। মানুষ যে কোনো বিষয় সচেতন বলে বুঝতে পারে এবং তা যুক্তিসহকারে তার জানা ভাষায় প্রকাশ করতে পারে- এটিই তাকে অন্য যে কোনো প্রাণীর চেয়ে আলাদা ও যোগ্যতর করে তুলেছে। দার্শনিক প্ল্যাটোর এই যুক্তি আজ পর্যন্ত সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তার পরের স্তর হচ্ছে মায়ের ভাষা। অর্থাৎ মানুষ তার প্রকাশভঙ্গির মাধ্যম হিসেবে যে ভাষা শেখে, সেটি তার মায়ের মুখ থেকে শোনা ও তার কাছ থেকেই শেখা। এ কারণে প্রত্যেক ব্যক্তি মানুষ ও জাতি মানুষের কাছে তার মাতৃভাষাই তার যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ উপকরণ।

১৯৫২ সালে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর যখন আঘাত আসে, তখন বাঙালি এই প্রমাণিত সত্যটি নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। বাঙালির কাছে তখন তার ভাষিক স্বাধীনতা তার ব্যক্তিক এবং জাতীয় স্বাধীনতার সমান্তরাল হয়ে দাঁড়ায়। সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। তাই সে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ভাষা যুদ্ধের সূচনা করে এবং নিজের বুকের অজেয় রক্তে তার বিজয় কিনে নেয়। এ বিজয় ভাষিক বিজয়, ব্যক্তিক বিজয়, জাতীয় বিজয় এবং সর্বোপরি সর্বমানবিক বিজয়। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ভাষা দিবস তথা একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা জাতীয় স্তরে এবং পরিশেষে ১৯৯৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে উদযাপন করছি। বিশ্বমানুষ বুঝতে শিখেছে- ভাষাই শক্তি, ভাষাই অস্তিত্ব, ভাষাই স্বাধীনতা। তাই জগতের ৮ হাজারেরও অধিক মাতৃভাষাকে রক্ষা ও বিলুপ্তির হাত থেকে নিরাপদ রাখার জন্য ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে। বিশ্বের সব মাতৃভাষার মানুষ আন্তর্জাতিক ভাষাগুলোকে গ্রহণ করেও নিজের মাতৃভাষাকে নতুনভাবে চর্চা এবং শক্তিশালী করছে। আর বাংলাদেশে একুশ বা ভাষাযুদ্ধ প্রথমে ছিল তার অস্তিত্বের যুদ্ধ এখন তার মানুষ হিসেবে মানবিক বোধ নিয়ে ও মঙ্গলময়তা নিয়ে টিকে থাকার যুদ্ধ। ভাষা বাঙালিকে সর্বমানবিক ও অসাম্প্রদায়িক করে তুলেছে। মানুষের মূল পরিচয় যে মানবতা, সেই কথাটি একুশ শিখিয়েছে। যে কোনো সংকটে বাঙালির তথা মানুষের তথা বিশ্বমানুষের- তার উত্তরণের একটি প্রধান নিয়ামক ভাষিক সচেতনতা।

বাংলাদেশের একুশ আসে ধ্বংসের বিরুদ্ধে সৃষ্টিশীলতার বার্তা নিয়ে। তার সব যুক্তিকে মুক্ত বা স্ফূর্ত হিসেবে মূর্ত ও বিমূর্ত তুলে ধরার প্রয়াসে। সবশেষে বলতে চাই- একুশ বাঙালির সর্বসংকটে বিজয়ের হাতিয়ার।

অনুলিখন : শুচি সৈয়দ

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.