আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ে হারের শঙ্কা

বাংলাদেশ ১১০ : শ্রীলংকা ২২২ ও ২০০/৮

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই উইকেট হাতে রেখেই শ্রীলংকার লিড হয়ে গেছে ৩১২। লিডটা আরও বাড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই আজ মিরপুর টেস্টের তৃতীয়দিনে মাঠে নামবে লংকানরা। তারপর কী হবে? ম্যাচ কী তৃতীয়দিনেই শেষ, নাকি নতুন রেকর্ড গড়ে জিতবে বাংলাদেশ? দ্বিতীয়টির সম্ভাবনা ভীষণ ক্ষীণ। সিরিজ জয়ের আশায় মিরপুরে ঘূর্ণি উইকেট বানিয়ে এখন হার এড়ানোই দায় স্বাগতিকদের! প্রথম ইনিংসে দলের দায়িত্বজ্ঞানহীন আত্মঘাতী ব্যাটিং জয়ের সম্ভাবনা ধূসরতম করে তুলেছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই। ২০১০ সালে মিরপুরে সর্বোচ্চ ২০৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এই মাঠে রান তাড়া করে বাংলাদেশ একটি টেস্টই জিতেছে। চার বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১০১ রান তাড়া করে জিততেই সাত উইকেট হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। এবারের উইকেট তো ব্যাটসম্যানদের জন্য রীতিমতো বধ্যভূমি। প্রথম ইনিংসে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে ১১০ রানে অলআউট হওয়ার পর তিনশোর্ধ্ব রান তাড়া করে জয়ের স্বপ্ন দেখাটাও কঠিন। তার পরও ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চিত চরিত্র আশার আলো দেখাতে পারে স্বাগতিকদের। বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হতে পারে গত বছর শ্রীলংকার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্টে ১৯১ রান তাড়া করে জয়ের সুখস্মৃতিও। তবে দ্বিতীয়দিন শেষে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি চলে গেছে লংকানদের মুঠোয়। প্রথম ইনিংসে ১১২ রানের লিড পাওয়া শ্রীলংকা দ্বিতীয় ইনিংসে আট উইকেটে ২০০ তুলে দ্বিতীয়দিন শেষ করেছে।

প্রথমদিনের মতো শুক্রবার দ্বিতীয়দিনেও পড়েছে ১৪ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের আত্মহননের মিছিলে হতাশায় দ্বিতীয়দিনের শুরু। মাত্র তিন রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১১০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ফিল্ডিংয়ে নেমে তিন ক্যাচ মিসের হতাশায় পুড়তে হয়েছে। সারাদিনে বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম মুহূর্তটা ছিল মোস্তাফিজুর রহমানের দশম ওভারটি। টানা দুই বলে দিলরুয়ান পেরেরা ও ধনঞ্জয়াকে আউট করার পর তার সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হ্যাটট্রিক আর হয়নি। পরের বলেই অবশ্য পেতে পারতেন আরেকটি উইকেট। কিন্তু দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান ব্যাটিংয়ের মতো ব্যর্থ হলেন প্রথম স্লিপে লাকমলের ক্যাচটা নিতেও। সেই লাকমল ২২ বল খেলে অপরাজিত রয়েছেন সাত রানে। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে হাল ধরেছেন রোশেন সিলভা। এই উইকেটেও করলেন টানা দ্বিতীয় ফিফটি। দিনশেষে ৯৪ বলে রোশেন অপরাজিত ৫৮ রানে। থিতু হতে পারেননি শ্রীলংকার আর কেউই। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রান করা কুশাল মেন্ডিসকে এবার শুরুতেই ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আরেক ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ১০৫ বল খেলে করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ২৪ বলে ২৮ রানের ইনিংসটাও শ্রীলংকাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। আগের ইনিংসে ব্যর্থ অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল করেন ৩০ রান। ডিকভেলা ৭ ও ৯ রানে দু’বার জীবন পান। দু’বারই বোলার মিরাজ। অবশ্য তাইজুল তাকে ফেরান ১০ রানেই। সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। এ ছাড়া তাইজুল ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। তার পরও সবার ছোট ছোট অবদানেই শ্রীলংকা বাংলাদেশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে রানটা। প্রথম ইনিংসের ১১২ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসের ২০০ রান মিলিয়ে এখনই বাংলাদেশের জন্য কাজটা প্রায় অসম্ভব করে ফেলেছে হাথুরুসিংহের দল।

সকালে চার উইকেটে ৫৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১১০ রানে। ২১ বলের মধ্যে তিন রানে পড়ে শেষ পাঁচ উইকেট। মিরপুরে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংস। দেশের মাটিতে প্রায় ১০ বছর পর ১২০ রানের নিচে অলআউট হল স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতে লিটন দাস যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটা একরকম আত্মহননই। লাকমলের অফ-স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হয়ে ২৫ রানে ফেরেন লিটন। সেই ধাক্কা সামলে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ জুটি। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বলের লাইনে গেলেও ধনঞ্জয়ার বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। দারুণ টার্নিংয়ে বোল্ড হন অধিনায়ক। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১০৭/৬। এরপর ফিল্ডার নড়েচড়ে দাঁড়াতে দেরি তো সাব্বিরের আউট হতে সময় লাগল না। ওভারের পঞ্চম বলেই চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে। এরপর তিন রানের সঙ্গে পড়েছে তিন উইকেট। আগেরদিন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামা মিরাজ দারুণ খেললেও সঙ্গীর অভাবে এগোতে পারেননি। অপরাজিত ছিলেন সর্বোচ্চ ৩৮ রানে। ১০৭/৫ থেকে ৪৫.৪ ওভারে ১১০/১০। শেষের পাঁচ উইকেট ভাগাভাগি করে স্বাগতিকদের দ্রুত গুটিয়ে দিয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরা ও ধনঞ্জয়া।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.