আড়াইদিনেই প্রতিরোধহীন পরাজয়

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ম্যাচ শেষ হয়ে এক ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম খাঁখাঁ করছে। তখনও শ্রীলংকা দল তাদের ড্রেসিংরুমের সামনে ফুটবল খেলে শরীর গরম করেই যাচ্ছে। শনিবার মিরপুর টেস্টের তৃতীয়দিনে বাংলাদেশকে অলআউট করতে কার্যত ঘামই ঝরাতে হয়নি লংকানদের। বোলিং করতে হয়েছে মাত্র ২৯.৩ ওভার। খেলতে হয়নি দিনের অর্ধেকটা সময়ও। টেস্টের রোমাঞ্চ ফিকে হয়ে গিয়েছিল আগেরদিনই, সফরকারীরা বড় লিড নিয়ে ফেলায়। চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে স্বাগতিকরা ম্যাচটা চতুর্থ দিনে টেনে নিতে পারলে কিছুটা উত্তেজনা হয়তো ফিরত। কিন্তু সেই ইচ্ছা বা সামর্থ্যরে কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। সেটার জন্য ইচ্ছার প্রতিফলন মিলল না মাঠে। উল্টো দেখা গেল হতশ্রী ব্যাটিংয়ের আরেকটি প্রদর্শনী।

ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য ছিল যেন উইকেটে গিয়ে এক লাফেই ৩৩৮ রানের পাহাড় টপকে যাওয়া। নেমেই আক্রমণাত্মক খেলা। আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ের ফলটা হল অনুমিতই। ব্যাটসম্যানদের জন্য বধ্যভূমি হয়ে ওঠা মিরপুরের টার্নিং উইকেটে অভিজ্ঞ রঙ্গনা হেরাথ ও অভিষিক্ত আকিলা ধনঞ্জয়ার ঘূর্ণিতে হাবুডুবু খেয়ে গুটিয়ে যেত হল দুই ঘণ্টার মধ্যেই। ম্যাচ শেষে প্রশ্ন উঠে গেল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য ও প্রয়োগ ক্ষমতা নিয়ে। আগেরদিনের ২০০ রান নিয়ে খেলতে নেমে শেষ দুই উইকেটে কাল আরও ২৬ রান যোগ করে লংকানরা। প্রথম ইনিংসে ১১২ রান পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৩৯। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট হয়ে দ্বিতীয় টেস্ট আড়াইদিনেই ২১৫ রানে হারল স্বাগতিকরা। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও ১-০-তে জিতে নিল হাথুরুসিংহের শ্রীলংকা।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ইনজুরির কারণে এ সিরিজে খেলতে পারেননি। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্যগুলো তার হাত ধরেই এসেছে। ২০১৫ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারল স্বাগতিকরা। আগামী বৃহস্পতিবার ও রোববার দুটি টি ২০ ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ।

চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে অনেক পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ম্যাচ ড্র করে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য দেখে মিরপুরে কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে স্পিন সহায়ক উইকেট বানাতে বলা হয়েছিল। সেটাই তৈরি করেছেন তিনি। এখানে ফল হবে সেটা টেস্ট শুরুর আগেই দুই অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণির ফাঁদ বুমেরাং হয়ে আড়াইদিনেই বিব্রতকর হারের তেতো স্বাদ উপহার দেবে মাহমুদউল্লাহদের, সেটা কে ভেবেছিল। দু’দিন আগে হেরে যাওয়ায় একটি উপকার হয়তো হয়েছে স্বাগতিকদের। অনন্ত টি ২০ সিরিজের আগে দুই দিন বেশি অনুশীলন করতে পারবেন ক্রিকেটাররা! ম্যাচের প্রথম দুদিনে কেউই বলেননি এই উইকেটে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টই রোশেন সিলভা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন এই উইকেটেও কীভাবে রান করা যায়। মূলত ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যানই। প্রথম ইনিংসে ৫৬, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০*। আগেরদিনে ২০০ রানে আট উইকেট হারানোর পরও ইনিংস ছাড়েনি লংকানরা। কাল সকালে তারা আরও ১৫.৩ ওভার ব্যাটিং করে তুলেছে ২৬ রান। রোশেন ১৪৫ বলে করেন ৭০*। এমন উইকেটেও ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে হয়েছেন ম্যাচ ও সিরিজসেরা।

প্রথম ইনিংসের মতো বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেও দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র চার ব্যাটসম্যান। পঞ্চাশের বেশি (৫১) বল খেলেছেন শুধু মুশফিকুর রহিম। করেছেন ২৫ রান। সর্বোচ্চ ৩৩ রান এসেছে আগের ইনিংসে রানআউট হয়ে শূন্যতে ফেরা মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে। কাল মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ১৪ ওভার, বিরতির পর ১৫.৩ ওভার টিকতে পেরেছে বাংলাদেশ। উইকেট ব্যাটিং প্রতিকূল হলেও আড়াইদিনে এমন লজ্জার হারের বড় দায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরই। আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ে লংকান বোলারদের উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন তারা। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশ টিকতে পেরেছে মাত্র ৭৫.১ ওভার। প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও একই পথে হেঁটেছে স্বাগতিকরা।

প্রথম ইনিংসের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসের অনেক মিল রয়েছে। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়েছিল মাত্র তিন রানের ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে পড়েছে শেষ ছয় উইকেট। ১০০/৪ থেকে ৩৪ বলের ব্যবধানে স্কোর ১২৩/১০। অভিষিক্ত ধনঞ্জয়া দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন আট উইকেট। কাল টানা পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ধনঞ্জয়া। লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমানকে ফেরানোর পর রাজ্জাককে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। রাজ্জাককে স্টাম্পিং করে তাকে অভিষেক টেস্টেই পাঁচ উইকেট নিতে সাহায্য করেছেন উইকেটকিপার ডিকভেলা। আরেক স্পিনার ও বাঁ-হাতিদের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে সফল টেস্ট বোলার রঙ্গনা হেরাথ ইমরুল, মুমিনুল ও মুশফিককে আউট করে স্বাগতিকদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তাইজুলকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতিও টানেন তিনি। মিরপুর টেস্ট শেষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্য ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter