এবার গণিতের প্রশ্ন ফাঁস

পরীক্ষার দেড় ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফেসবুকে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার অনুষ্ঠিত গণিত বিষয়ের প্রশ্নপত্রও পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আসে। অনলাইনে তা দেশের বিভিন্ন স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার আগে ফাঁস হওয়া ওই প্রশ্নসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২১ জন গ্রেফতার হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭ দিনে মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হল। এছাড়া পরীক্ষার হলে ঢুকে প্রশ্ন সংগ্রহ ও প্রশ্নের উত্তর তৈরির অপকর্মে জড়িত থাকার দায়ে কয়েকজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে নকলের মহোৎসব। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকটাই ফ্রিস্টাইলে চলছে এ অপকর্ম। বিশেষ করে উপজেলা সদরের বাইরে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোতে নকলের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। ওইসব কেন্দ্রে একশ্রেণির অসাধু শিক্ষক প্রশ্নের উত্তর লিখে সরবরাহ করেছেন। অনেক স্থানেই প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি জেনেও নিশ্চুপ ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তিন ঘণ্টার পরীক্ষা চার ঘণ্টা ধরে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গণিতের পরিবর্তে কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানানোর পর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এই ফাঁকে চলে যায় দেড় ঘণ্টা। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার গণিত প্রশ্নে নানা ভুল ধরা পড়েছে। তবে ব্যতিক্রমী খবরও পাওয়া গেছে। নকলের সুযোগ না দেয়ায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাংচুর চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর রায় ওই কেন্দ্রে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরীক্ষার্থীরা ইউএনওর গাড়িও ভাংচুর করে।

এদিকে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নফাঁসের পর অভিযোগ তদন্তসহ সার্বিক বিষয়ে সুপারিশের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি একজন সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। কাজ শুরু দূরের কথা, ছয় দিনে তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশই জারি হয়নি। ফলে কার্যপরিধি না জানায় কমিটি কাজও শুরু করতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করে কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য যুগান্তরকে বলেন, কমিটি গঠনের আদেশ, কমিটির কার্যপরিধি ইত্যাদি ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা শনিবার পর্যন্ত পাননি তারা। যে কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। আরেকজন সদস্যও একই কথা জানান। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তদন্ত ও তথ্য উদঘাটনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রশ্নফাঁস বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কমিটির আহ্বায়ক একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর। তিনি শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তবে আমরা এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’ কমিটি সংক্রান্ত কোনো অফিস আদেশ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সার্বিক দিকে আমাদের সতর্ক নজরদারি আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ কাজ করছে। অচিরেই আপনারা দৃশ্যমান অগ্রগতি পাবেন।’ কমিটির আরেক সদস্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, ‘মিটিং না হলেও আমরা কমিটির সদস্যরা যার যার অবস্থানে কাজ করে যাচ্ছি। শিগগিরই এ নিয়ে বৈঠক হবে।’

গণিত প্রশ্নও ফাঁস : শনিবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটের পর ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপ, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন সাইটে এসএসসির কথিত গণিত প্রশ্ন তুলে দেয়া হয়। এর মধ্যে ফেসবুকের একটি গ্রুপে দেয়া হয় গণিতের বহুনির্বাচনী ‘চাঁপা’ নামের ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্রের উত্তরসহ ছবি। গণমাধ্যমকর্মীদের ওই খবর পেতে অবশ্য ২০-২৫ মিনিট সময় লাগে। অনেকেই ৯টার মধ্যে সেই প্রশ্নপত্র পেয়ে যান। পরীক্ষার পর মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আগে পাওয়া প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে।

ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, ‘এ রকম অভিযোগ আমরাও শুনি। কিন্তু অনেক সময়েই তো মিল পাওয়া যায় না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখি কী করা যায়। টেকনিক্যাল পারসনরা এ নিয়ে কাজ করছেন। সচিব স্যার আপনাদের এ নিয়ে ব্রিফ করবেন। তার কাছে জানতে পারবেন।’ তবে কবে নাগাদ ও কী ব্রিফিং করা হবে, একাধিকবার জানতে চেয়েও তার জবাব পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব এবং প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আলমগীর বলেন, ‘কারিগরি বা মাদ্রাসা বিভাগের ব্যাপারে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ ব্যাপারটি ছাড়া অন্য বিষয়ে আমি কথা বলতে পারি না। যদি দাখিল বা এসএসসি ভোকেশনাল প্রশ্নের বিষয় থাকে তাহলে সেটা আমার কাছে জানতে চাইতে পারেন। অন্য বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

ফাঁস, নকল ও গ্রেফতার : এদিকে প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন পন্থা। এতদিন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস হচ্ছিল। শনিবার স্থানীয় পর্যায়েও প্রশ্নফাঁস বা ফাঁসের চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একশ্রেণির শিক্ষক নকল সরবরাহ বিশেষ করে বাইরে লেখা উত্তরপত্র কেন্দ্রে সরবরাহের মতো অপকর্ম করছেন। হাতেনাতে ওইসব ঘটনা খুব কমসংখ্যকই ধরা পড়ছে বলে যুগান্তরের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। আবার কোথাও ধরা পড়ার পর ব্যবস্থা না নেয়ার মতো ঘটনা আছে। তবে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও, রংপুরের পীরগঞ্জ, গাজীপুরের শ্রীপুর, যশোর, শেরপুর, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, রাজশাহীসহ কয়েকটি এলাকা থেকে ২১ জনকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। নড়াইলে একজনকে ধরে জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। মাদারীপুরের টেকেরহাটে ২ শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক পরীক্ষার্থীর বাবা-মাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যশোর ব্যুরো জানায়, পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইল ফোনে এসএসসির গণিত প্রশ্ন দেখানোর সময় মনিরুজ্জামান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ৯টার দিকে যশোর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে অভিভাবকদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ফাঁস হওয়া এমসিকিউ প্রশ্ন ও উত্তর স্মার্টফোনে পরীক্ষার্থীদের দেখানোর সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর মডেল গার্লস ইন্সটিটিউটের গেটের সামনে থেকে সোলেয়মান (২৪) নামে এক যুবককে স্মার্টফোনসহ আটক করা হয়। পরীক্ষা শুরুর পর ‘খ’ সেটের প্রশ্ন এর সঙ্গে হুবুহু মিলে যাওয়ায় ওই যুবককে শেরপুর সদর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এইচএসসি পাস আটক ওই যুবকের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর গ্রামে। পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার জাবরহাট হেমচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গণিতের প্রশ্নপত্র বিক্রির সময়ে মাধবপুর গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে ইউনুস আলী (৩২) ও মহনপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে সাইদুর রহমানকে (২৯) হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রের বাইরে ফাঁস হওয়া গণিত পরীক্ষার হুবুহু প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহকালে খায়রুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। আটক ওই যুবককে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত খায়রুল ইসলাম চিরিরবন্দর উপজেলার গলাহার গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে। সে দিনাজপুর সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

খায়রুল ইসলাম চিরিরবন্দর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে স্মার্ট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গণিত পরীক্ষার হুবুহু প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহের চেষ্টা করে। এ সময় চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে এবং মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। পরীক্ষা শুরুর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল খুঁজে পায়। তদন্তের স্বার্থে পড়ে আটক ৩ যুবকের নাম জানায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় মামলা করেছেন।

এভাবে মুলাদী, সিলেট, শেরপুর, রাজশাহী, বরগুনা, শ্রীপুরে একজন করে, নবাবগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন করে গ্রেফতার হয়েছে। মাদারীপুরের টেকেরহাটে কেন্দ্র সচিব সৈয়দ আলী মিয়া ও সহকারী সচিব মাহমুদুল আল সিদ্দিকীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রে ৬ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়। নড়াইলে ইবাদত হোসেন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তাৎক্ষণিক বিচারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

শিক্ষকের সহায়তায় নকল : এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকদের সহায়তায় নকলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরের বাইরে অবস্থিত কেন্দ্রগুলোতে নকল প্রবণতা বেশি। যুগান্তরের বাউফল প্রতিনিধি জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে প্রশ্ন এনে তার সমাধান করে পুনরায় হলে পাঠিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের নকলে সহযোগিতা করা, কৌশলে বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে সিসিটিভি অকার্যকর করে নকলে সহায়তার মতো ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের গ্রুপ রাইটিংয়ে সহযোগিতা করাসহ নানাভাবে শিক্ষার্থীদের নকলে সহযোগিতা করছে বাউফল উপজেলার চারটি কেন্দ্রের কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা। শিক্ষকরা এমন অনিয়ম করলেও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একেবারেই নিশ্চুপ। শনিবার গণিত পরীক্ষা চলাকালে বাউফলের কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে এ অনিয়ম দেখা গেছে।

পশ্চিম নওমালা সিনিয়র মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা গ্রুপ রাইটিং করলেও সেখানে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা তাদের পাহারা দেয়ার কাজ করছে। ওই কেন্দ্রের তিন নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায় সেখানে লাগানো সিসি ক্যামেরাটি টেবিলের ওপর নিবদ্ধ করে রাখা। ফলে কক্ষে কি হচ্ছে তা বোঝার উপায় নেই। নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের হল সুপার মো. জহিরুল ইসলাম ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীদের নকল প্রদানে সহায়তার অভিযোগে বহিষ্কার হয়েছিলেন বলে সর্বত্র চাউর আছে। কিন্তু সেই শিক্ষকই শনিবারও একই দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ওনার কোনো কক্ষে প্রবেশের অধিকার নেই। ওনি অফিস কক্ষে থাকেন।’

ওই কেন্দ্রের ১০ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মো. সাদিকুল নামে এক শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তার বুকে লেখা তিনি ২ নম্বর কক্ষের পরিদর্শক। এ প্রতিনিধি কক্ষের দিকে গেলে ওই শিক্ষককে পরীক্ষার্থীদের সাবধান করতে শোনা যায়।

উপজেলার কালিশুরি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের নকলে সহায়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাউফল সদর কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পর দুই শিক্ষক প্রশ্নপত্র বাইরে এনে উত্তর লিখে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার জন্য আমার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। যদি শিক্ষকরাই নকলে যুক্ত থাকেন তাহলে তা দূর করাটা অনেক দুরূহ। তবে যদি কোনো শিক্ষক এমন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকে তার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে নওমালা কলেজ কেন্দ্রের এক শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

৭ দিনে ৭৫২ বহিষ্কার : গণিত পরীক্ষায় শনিবার ২০৫ জন বহিষ্কার হয়েছে। এর আগে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় সর্বোচ্চসংখ্যক ২৩৫ জন বহিষ্কার হয়েছিল। ৭ দিনে মোট ৭৫২ জন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হল। ওদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক বহিষ্কারের তথ্য এলেও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পাঠানো তথ্যে তা অনুপস্থিত থাকে।

দুই শিক্ষক আটক : কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার নোয়াপাড়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনে মেসেঞ্জারে গণিতের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র ফাঁস করার সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ২ শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৯ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিব মো. গোলজার হোসেন কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আটক দুই শিক্ষক হলেন- চুপাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক সঞ্জীব কুমার দেবনাথ ও জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক নজরুল ইসলাম।

১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখের বেশি। এর মধ্যে গণিতের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ৪৮৮ জন।

প্রশ্নে ভুল : হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. সাঈদ যুগান্তরকে বলেন, দুপুর ১২টায় বেশকিছু শিক্ষার্থীর মাঝে গণিতের ৭ নম্বরের খ ও গ প্রশ্নে প্লাস এবং মাইনাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। ৭ নম্বরের খ-তে দু’জায়গায় প্লাস দেয়া আছে। একই হলে আরেকটি প্রশ্নে খ-তে মাইনাস দেয়া আছে এবং গ-তে একটি অংশে একটিতে প্লাস একটিতে মাইনাস দেয়া আছে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। পরে কুমিল্লা বোর্ডে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি নিজে উপস্থিত থেকে সমাধান করে দিয়েছি। এটি প্রিন্টজনিত সমস্যা ছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter