মোকাব্বির ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত গণফোরাম

চেম্বারে মোকাব্বিরকে দেখে ক্ষুব্ধ ড. কামাল

  বিশেষ সংবাদদাতা ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোকাব্বির ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত গণফোরাম

দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে গণফোরাম।

মোকাব্বিরের পক্ষে দলটির একাংশ অবস্থান নিলেও আরেকটি অংশ মনে করে, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সংসদ সদস্য হিসেবে ২ এপ্রিল গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান এবং ৭ মার্চ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ শপথ নেন।

শপথ নেয়ার দিনই গণফোরাম থেকে মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর চিঠিও দেয়া হয়। আর মোকাব্বির ইস্যুতে করণীয় ঠিক করতে আগামী ২০ এপ্রিল গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করেছেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বেলা ১১টায় ঢাকার আরামবাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান নির্বাচিত হন।

এ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ আনে গণফোরামসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ অভিযোগে তারা শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান। তবে দল ও জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৭ মার্চ প্রথমে শপথ নেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ।

গণফোরাম থেকে মনোনয়ন নিয়ে মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। শপথ নেয়ার দিন বিকালেই গণফোরাম থেকে মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর চিঠিও দেয়া হয়।

এ ইস্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এখন পর্যন্ত এ চিঠি দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, গণফোরামের শীর্ষ নেতাদের বিভক্তির কারণেই মোকাব্বিরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। গণফোরামের একটি অংশ মনে করেন, দল হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম তাদের কেউ নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় সংসদে রেকর্ড রাখার জন্য তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। এ অংশের নেতাদের মতে, এতে দলের নিবন্ধনও পোক্ত হবে। শপথ না নিলে একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হবে বলেও মনে করেন তারা।

অন্যপক্ষ মনে করে, শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল ও জোট। এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের কাছেও গণফোরাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যদিও শপথ নেয়ার পর মোকাব্বির দাবি করেছেন তিনি দলের প্রধান ড. কামাল হোসেনের অনুমতি নিয়েই শপথ নিয়েছেন। মাঝখানে একদিন বিরতি দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখাও করেছেন মোকাব্বির। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মোকাব্বিরের সঙ্গে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিন আহম্মেদ আফসারী। তবে ড. কামালের সঙ্গে কি আলোচনা হয়েছে- সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মোকাব্বির খান। ড. কামাল হোসেনও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক যুগান্তরকে বলেন, মোকাব্বিরকে দেখার পর ড. কামাল হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, মোকাব্বির দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিয়েছেন। এটা দুঃখজনক। তার বিরুদ্ধে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ২০ এপ্রিল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণফোরাম জরুরিভাবে মোকাব্বির খানের ব্যাপারে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে। তার শপথ নেয়ার ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের অন্য কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণমাধ্যমে মোকাব্বির খানের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যের জবাবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোকাব্বির খানের শপথ নেয়ার বিষয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত নন। তিনি (মোকাব্বির) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছায় শপথ নিয়েছেন। তার এ সংগঠন ও আদর্শবিরোধী কাযর্কলাপে গণফোরাম মর্মাহত। মিডিয়াতে সভাপতি ও সংগঠনের বিষয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন মোকাব্বির। এটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

বিশ্বনাথে বিএনপির ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ : বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে ৩১ মার্চ বিশ্বনাথে মোকাব্বির খানের সমাবেশে অংশ নেয়ায় বিএনপির ৯ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়েছে জেলা বিএনপি। বুধবার কারণ দর্শানোর নোটিশগুলো পাঠান জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ফখরুল হক। শোকজপ্রাপ্ত নেতারা হলেন- বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তাহিদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল ইসলাম রুহেল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এটিএম নুর উদ্দিন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর আসাদ, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান রিপন ও গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন মেম্বার এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও লামাকাজী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রইছ উদ্দিন মাস্টার ও জেলা বিএনপির সদস্য জসিম উদ্দিন জুনেদ।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, মোকাব্বির খানের জনসভায় উপস্থিত হওয়ায় তাদের শোকজ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×