খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির গণঅনশন

প্যারোল নয় জামিন তার প্রাপ্য

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির গণঅনশন
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির গণঅনশন। ছবি: যুগান্তর

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণঅনশন করেছে বিএনপি। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে কর্মসূচি শুরু হয়ে বেলা ৪টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ শীর্ষ নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টায় অনশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মিলনায়তনের বাইরে অনুমতি না পাওয়ায় আধা ঘণ্টা দেরিতে মিলনায়তনের ভেতরে মাদুর বিছিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। অনশনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও অংশ নেয়।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। প্যারোলে নয়, জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। জামিন তার প্রাপ্য।’

অনশনে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনের সড়কে খণ্ড খণ্ড ভাবে জড়ো হয়ে তারা নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সংবলিত ব্যানার।

এছাড়া নেতাকর্মীদের হাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের বাইরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, গৌতম চক্রবর্তী, আবদুস সালাম, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান শামীম, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল আলম নীরব, মোরতাজুল করীম, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, মাইনুল ইসলাম, রাজিব আহসান, কালিয়াকৈরের মেয়র মজিবুর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মহাসচিব হাবিবুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইছাহাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদির, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ অনশনে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবিলম্বে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন শুরু করতে হবে। জামিন তার প্রাপ্য। যে মামলায় তিনি কারাগারে আছেন, সেই মামলায় অন্যরা জামিনে আছেন। তিনি কেন জামিন পাবেন না?’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারোলের কথা বলিনি। আমরা জামিনে মুক্তির কথা বলেছি। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’

ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এজন্য আমরা বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা চেয়েছি। কিন্তু সে সুযোগ দেয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘পিজি হাসপাতাল সরকারি হাসপাতাল। সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ। এজন্য সেখানে দেশনেত্রীর চিকিৎসা সম্ভব নয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অবৈধ সরকারের কাছে মুক্তি দাবি করে লাভ নেই। কারণ গণতন্ত্রও খালেদা জিয়ার মতোই সরকারের বাক্সে বন্দি। তাই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আদালতে সরকারের প্রভাব থাকায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আইনজীবী হিসেবে আপনাদের বলব, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করা সম্ভব।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনুকম্পা বা দয়ায় হবে না, আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। সময় আসবে, ঘোষণাও আসবে, প্রস্তুতি নিন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে।’

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সময় বেশি দিন নেই। শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া প্যারোল নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, খুব বেশি দিন নেই, আপনাদের নেতাকে জনগণের কাছে প্যারোল চাইতে হবে। জনগণের নেত্রী জনগণের মধ্যে আসবেন আন্দোলনের মাধ্যমে। কারও অনুকম্পা চাই না।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় নামলে দু-চারটা মামলা হবে। তাতে কী যায় আসে। দেশটাই তো একটি কারাগারে পরিণত করেছে। যদি রাস্তায় নামতে পারেন তাহলে শেখ হাসিনা এক সময় বলবে- ছেড়ে দে মা, আমি গেলাম, আমাকে মাফ করো।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি, তেমনি খালেদা জিয়াও প্যারোলে মুক্তি না নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। আশা করব, এ কর্মসূচি ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন থেকে রাজপথে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ সৃষ্টির অবকাশ নেই। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার প্রথম দফাই হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি।’

২০ দলীয় জোটের শরিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জিয়াউর রহমানের নাম নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন তাদের দিয়ে জাতীয় ঐক্য কতটা হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

নয়াপল্টনে রিজভীর অনশন : খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি গণঅনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অনশন করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেন- বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মাদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×