হাজারও মানুষের অশ্রুজলে রাফির বিদায়

এ লাশ পাহাড়ের চেয়ে ভারি

দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, গণঅনশন * আসামির পক্ষে অবস্থান নেয়ায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা বুলবুল বহিষ্কার * রিমান্ডে আরও দু’জন

  যুগান্তর রিপোর্ট, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এ লাশ পাহাড়ের চেয়ে ভারি

হাজারও মানুষ অশ্রুজলে চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়েছেন অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ফেনীর সোনাগাজী সাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। অসময়ে চলে যাওয়া রাফির এ লাশ স্বজনদের কাছে ছিল যেন ‘পাহাড়ের চেয়ে ভারি’।

আর কখনও নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে হাজির হবেন না হতভাগ্য এ তরুণী। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর চোখের জলে অসীমের পথে যাত্রা শুরু রাফির। শেষবার দেখতে তার গ্রামের বাড়িতে ঢল নামে মানুষের। সকাল থেকেই শোকার্ত এলাকাবাসী রাফির বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিকাল ৫টার দিকে এ অপেক্ষার পাল শেষ হয়।

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছার পর স্বজনদের আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নেয়ার পর সেখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক রাখা হয়। এরপর নেয়া হয় সোনাগাজী সাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

রাফির মৃত্যুতে শুধু ফেনী নয়, সারা দেশেই বিরাজ করছে শোকাতুর পরিবেশ। পুরো জাতি শোকে স্তব্ধ। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও গণঅনশন হয়েছে।

দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তদন্তে গাফিলতি হলে হস্তক্ষেপ করা হবে- এমন মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। স্বারষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাফি হত্যায় জড়িত কেউ ছাড়া পাবে না।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাফি হত্যা মামলা প্রয়োজনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। শুধু তাই নয়, আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ায় ফেনীর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ আহমেদ বুলবুলকে বৃহস্পতিবার বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিন গ্রেফতারকৃত আরও দু’জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী রাফি। ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি।

মাদ্রাসাছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে এমন সংবাদে ছাদে যান। সেখানে বোরকা পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

অগ্নিদগ্ধ রাফিকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে এবং পরে শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা।

এ ঘটনায় ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই দিনই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ বুধবার থেকে ৭ দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া ৫ দিন করে রিমান্ডে আছেন আরও আট আসামি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ বুঝে নেয়ার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এদিন সকাল থেকে রাফির লাশের অপেক্ষায় মর্গের সামনে বসে ছিলেন স্বজনরা। ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বুকফাটা আর্তনাদের মধ্যে বাবা, দুই ভাই, মামাসহ স্বজনরা রাফির মরদেহ বুঝে নেন।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে রাফির লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজীর পথে রওনা হন স্বজনরা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার অনেকে।

মরদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা একেএম মুসা মানিকসহ অন্যরা। সোনাগাজী রওনা হওয়ার আগে মেয়ের খুনিদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন বাবা। এর আগে সকালে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।

ঢামেক হাসপাতালে রাফির বাবা মুসা মানিক বলেন- ডাক্তার, নার্স, এলাকার মানুষ, মন্ত্রী, সাংবাদিকসহ আপনারা সবাই আমার মেয়ের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার একটি মাত্র মেয়ে। আমার কলিজা। দোয়া করবেন আল্লাহ যেন ওকে কবুল করেন। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র মেয়ের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মুসা মানিক। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে ঠিকমতো কথাই বলতে পারছেন না। মেয়ের নাম মুখে এলেই অঝোরে কাঁদছেন।

নুসরাতের চাচা নুরুল হুদা শামীম বলেন, রাফিকে হারিয়ে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। তার মা আহাজারি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একমাত্র বোনকে হারিয়ে শোকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন দুই ভাই। যখনই জ্ঞান ফিরছে তখনই কাঁদছেন। তারাও মেনে নিতে পারছেন না বোনের অকাল মৃত্যু। বৃহস্পতিবার সকালেও মর্গের সামনে ছিলেন দুই ভাই। কিন্তু কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদের কোলে তুলে অন্য জায়গায় নিয়ে যান আত্মীয়রা।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ৮০ পার্সেন্ট বার্নের যে কনসিকোয়েন্স, ভেতরে ফুসফুসের যে ইনহেলিশন ইনহেলিটি হয়, সেটিই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরাও তাকে রক্ষা করতে পারলেন না। নুসরাতের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়া হবে। ঢামেক পরিচালক বলেন, আজ পুরো জাতির সঙ্গে ঢামেক পরিবার মর্মাহত।

নুসরাতের দাদা মোশারফ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার নাতিনটা অনেক কষ্ট করেছে। সারা গা পুড়ে গিয়ে ৫টা দিন অমানুষিক কষ্ট করে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। নাতিনকে আল্লাহ জান্নাত নসিব করুক। আমার নাতিনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সুরতহাল, ময়নাতদন্ত : সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পরে নুসরাতের সুরতহাল সম্পন্ন হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানার এসআই শামছুর রহমান। শাহবাগ থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি নম্বর-৬০২) বিপরীতে পুলিশ সদস্যরা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপরই তিন সদস্যের বোর্ড ময়নাতদন্ত কাজ শুরু করে। ডিএনএ (ডি-অক্সি-রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) নমুনা সংগ্রহ করেছে ময়নাতদন্তকারী টিম। ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে গঠিত বোর্ডে অন্য দুই সদস্য হলেন- প্রদীপ বিশ্বাস ও জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সময় পাশেই ছিলেন নুসরাতের বাবা। মাথা নুয়ে মেয়ের মরদেহের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- রাফির দুই কান, থুঁতনি, গলা ও ঘাড় ঝলসানো ছিল। উভয় হাতের আঙুল পর্যন্ত রাউন্ড গজ-ব্যান্ডেজ, যাতে পোড়া ঝলসানো দাগ ছিল। সুরতহাল প্রতিবেদনে নুসরাত প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা সে বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন ঢেলে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার পৃথক কর্মসূচিতে তারা এ দাবি জানান। ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের শাস্তি দাবিতে বেলা ১১টায় রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। একই স্থানে বেলা ১২টায় মানববন্ধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ফেনী জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ফেনী (ডুসাফ)। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের মানববন্ধন থেকে হত্যায় জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। নুসরাত হত্যার জন্য ব্যাপক প্রতিবাদ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় কর্মসূচি থেকে। এতে বক্তব্য রাখেন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসান, মাহফুজুর রহমান, লুৎফুন নাহার লুমা প্রমুখ। এদিকে রাফি হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেনীর শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ফেনী (ডুসাফ)। কর্মসূচিতে থেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে খুনিদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়েছে ৪ শিক্ষার্থী। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নেন তারা।

ফুঁসছে ফেসবুক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। পরীক্ষাকেন্দ্রে তার গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার বিচার দাবি করার পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ফেসবুক ব্যবহারীরা। ফেসবুক খুললেই নুসরাতের শরীর ব্যান্ডেজ করা ছবি। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজের প্রোফাইল ছবি বদলে দিয়েছেন নুসরাতের ওই ছবি দিয়ে। স্ট্যাটাস ও পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। কারও কারও মনে সংশয় রয়েছ নুসরাত হত্যার বিচার নিয়ে। এ ঘটনার জন্য দায়ী করে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন তারা। ফেসবুকে কেউ লিখেছেন নুসরাতের দেয়া শেষ বক্তব্যের অংশ; কেউ লিখেছেন তার লেখা শেষ চিঠির অংশও। সবাই তার হত্যার বিচার চান।

এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিলেট, খুলনা, দেওয়ানগঞ্জ, উলিপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে।

আরও ২ জন ৫ দিনের রিমান্ডে : রাফিকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দুই জনকে ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন। কোর্ট ইনসপেক্টর গোলাম জিলানী জানান, মাদ্রাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি ও জোবায়ের হোসেনকে আদালতে উপস্থিত করে প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার একই আদালতে নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ড ও ১০ এপ্রিল মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদদৌলাকে ৭ দিন, একই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও সহপাঠী আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে মঞ্জুর করেন করেন আদালত। এ নিয়ে গ্রেফতারকৃত ৯ জনকে রিমান্ডে নেয়া হল। এদের মধ্যে সিরাজউদদৌলা ছাড়া সবাইকেই ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার : রাফির গায়ে আগুন দেয়ার মামলায় আসামিদের আইনি সহায়তাদানকারী অ্যাডভোকেট কাজী বুলবুল আহাম্মদ সোহাগকে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় কাজিরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান। খবরটি নিশ্চিত করেছেন ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম উল্যাহ বিকম। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জানান, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ ও সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির খুনিদের আইনি সহায়তা দেয়ায় তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়নের আবদুর রউফকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত বুলবুলকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটির : এদিকে রাফির গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে যান। গত ৬ এপ্রিল রাফির গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার পরদিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। এ কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্যাহ। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান। কিন্তু তিন কার্যদিবস ১০ এপ্রিল বুধবার শেষ হলেও এতদিন কাজ শুরুই করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শুরু না হলেও আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে তদন্ত শুরু করেছি। আমার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছি। এখনও আমরা জানতে পারিনি যে, তদন্তের জন্য কতদিন সময় বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক যতদিন সময় বর্ধিত করবেন ওই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×