মামলার পাহাড়ে বিএনপি

আ’লীগ নির্বাচনী প্রচারে, বিএনপি আদালতের বারান্দায় * নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র অভিযোগ দলের * অনেক মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে * চূড়ান্ত সাজা হলে হবেন নির্বাচনের অযোগ্য

  হাবিবুর রহমান খান ও হাসিব বিন শহিদ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির নেতারা

বিএনপির সামনে মামলার পাহাড়। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের বেশির ভাগ নেতাই মামলার জালে বন্দি। প্রতিনিয়তই তাদের নামে মামলা হচ্ছে। দলটির চেয়ারপারসন যেদিন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান সেদিনও দলটির নেতাকর্মীর নামে নতুন মামলা হয়েছে। একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব মামলা নিয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় দলের হাইকমান্ড। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের সময় কাটছে আদালতের বারান্দায়। নির্বাচনের বছরেও তাদের বেশির ভাগ সময় আদালতে কাটাতে হবে এমন শঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

বিএনপি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চার হাজার ৫৫১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অন্তত দুই লাখ ২৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া ২০১৫ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনেও নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দেয়া হয়। সর্বশেষ খালেদা জিয়ার রায়ের দিনও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেয়া হয়। বিগত ওয়ান-ইলেভেন থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগের দুই আমলে সবমিলে সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। এসব মামলায় নামে ও বেনামে প্রায় বারো লাখের মতো আসামি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, এসব মামলার উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট। বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের চেয়ারপারসনকে দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মামলা দেয়া হচ্ছে। হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। সরকার পুরো দেশটাকে একটা কারাগারে পরিণত করেছে। তিনি দাবি করেন, আমাদের নেত্রীসহ সারা দেশে ১১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪৯ জন নেতাকর্মীকে ৫০ হাজারের মতো মামলায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সম্পূরক চার্জশিট এবং একতরফাভাবে রায় দেয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি মামলার বোঝা নিয়ে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচারের চেয়ে আদালতের বারান্দায় বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। এটা সরকারের আরেকটি কূটকৌশল।

সূত্র জানায়, মামলার কারণে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। বাধ্য হয়ে তাদের আদালতে সময় দিতে হচ্ছে। পুলিশের ভয়ে এলাকায় থাকতে পারছেন না। নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় গিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না। ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসবে মামলা সংক্রান্ত ব্যস্ততা আরও বাড়বে। ফলে তারা নির্বাচনের প্রচারের দিকে খুব বেশি সময় দিতে পারবেন না। অথচ সরকারি দলসহ অন্যান্য দলের নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গণসংযোগ চালাচ্ছেন নির্ভয়ে। আগামীতে আরও জোরেশোরে তারা মাঠে নামবেন। এদিক থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, তাদের জন্য ভোটের মাঠ অনুকূল নয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে যা বোঝানো হয় তা তাদের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, শাসক দলের প্রার্থীদের সুবিধা দিতেই বিএনপির বিরুদ্ধে মামলার কৌশল নেয়া হয়েছে। পুরনো এবং নতুন মামলা দিয়ে প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। এ সুযোগে প্রায় ফাঁকা মাঠে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে শাসক দলের নেতাকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় এতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নির্বাচনের বছরে সবার প্রত্যাশা সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু সেই ধরনের কিছু দেখছি না।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পরও তাদের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। এটা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বা অনুকূল নয়। এতে লেভেল প্লেয়িং বিঘিœত হবে।

বদিউল আলম আরও বলেন, সব দল যাতে নির্বাচনে সমান সুযোগ পায়, অবাধে প্রচার চালাতে পারে সেই পরিবেশ নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। সিডিউল ঘোষণার পর পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বললেও শুধু তা করার জন্য ইসিকে নিয়োগ দেয়া হয় না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। ইসির অগাধ ক্ষমতা। তারা ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে পারেন।

জানা গেছে, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা রয়েছে। ইতিমধ্যে এক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরও একটি মামলার বিচার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও দুই মামলায় দণ্ড দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সারা দেশে শতাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। দণ্ডের তালিকায় আছেন ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাও। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় দ্রুত চার্জশিট দেয়া হচ্ছে। জামিনের মেয়াদ বাড়ানোসহ এসব মামলায় নিয়মিত আদালতেই থাকতে হচ্ছে তাদের। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তারাও ভয়ে আছেন । কারণ বেশির ভাগ মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদের এসব অজ্ঞাতনামার অজুহাতে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গ্রেফতার এড়াতে বর্তমানে অনেক নেতাই বাড়িছাড়া।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র নেতাদের নামে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম সরকার দ্রুতগতিতে শেষ করতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলার দ্রুত বিচার নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা : খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা চলমান। এসব মামলার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে তিনি কারাভোগ করছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া অন্য মামলাগুলো বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুদক প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক চলছে। আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় আসামিপক্ষের পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়াও বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার আরও ১৪টি মামলার বিচারকার্য পরিচালনার আদেশ হয়েছে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ওই আদেশ দেয়া হয়েছে। মামলাগুলো হল- রাজধানীর দারুসসালাম থানার আটটি নাশকতার মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার যাত্রী হত্যা মামলা, মানহানি মামলা দুটি, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা, নাইকো দুর্নীতি মামলা ও বড়পুকুড়িয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার শুনানি ১২ মার্চ ও ১০ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে।

এদিকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় চলতি মাসের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসানের আদালতে আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চার্জ (অভিযোগ) গঠন শুনানি হয়েছে। আংশিক চার্জ শুনানিতে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার হকদার বলে আদালতকে জানিয়েছেন। আংশিক শুনানি শেষে ওই দিন বিচারক পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ মার্চ দিন ধার্য করেন।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন দুই আসামির পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় চার্জ শুনানি পেছানোর আবেদন করেন আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে চার্জ শুনানির জন্য আগামী ৪ মার্চ দিন ধার্য করেন।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন সংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ারের মৃত্যুসংক্রান্ত প্রতিবেদন ও দুই আসামির পক্ষে মামলা হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ থাকায় আসামিপক্ষে সময় আবেদন করা হয়। হরতাল-অবরোধে ৪২ জনকে পুড়িয়ে হত্যা মামলাও রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। সারা দেশে হরতাল-অবরোধে ৪২ জনকে পুড়িয়ে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি গুলশান থানা পুলিশ তা দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. খুরশীদ আলম প্রতিবেদন দাখিলের ওই দিন ধার্য করেন।

ড্যান্ডি ডাইং কোম্পানির ঋণ খেলাপির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৬ বিবাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। খালেদা জিয়া ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উনকানি ও বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা অপর একটি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

যে দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা : ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিল আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। এ ছাড়া মানহানি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলায় বেশ কয়েকটি ধার্য তারিখে উপস্থিত না হলে ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ শতাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হয়েছে। আর সিঙ্গাপুরে অর্থপাচার মামলার রায় দেয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে ২১ আগস্ট মামলার বিচার কার্য প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে দুটি মামলার। আর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে অন্তত তিনটি মামলার। এ ছাড়া আরও চারটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

ফখরুলসহ সিনিয়র নেতাদের মামলা : বিএনপি, আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৮৫টি মামলা আছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মামলার বিচারকার্যও শুরু হয়েছে। সব মামলাতেই তিনি জামিনে আছেন। এসব মামলায় সপ্তাহে দুইদিন তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ৮টি এবং বর্তমান সরকারের আমলে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দুদকের করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় করা মামলাগুলো বিচারাধীন। বর্তমান সরকারের আমলে দেয়া প্রায় সব মামলার চার্জশিট হয়েছে। বিচারকাজও শুরু হয়েছে কয়েকটির। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা রয়েছে। অবৈধ প্লট বরাদ্দ দিয়ে সরকারের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে তার নাম চার্জশিটে যুক্ত করেছে দুদক। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৪০টি মামলার কয়েকটিতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নামে ২২, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামে ১৯ ও সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে ৪৭টি মামলা রয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৭টি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে ৩৭, এজেডএম জাহিদ হোসেন ১৫, বরকতউল্লা বুলুর বিরুদ্ধে ৮৮টি, আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামে ১২, শামসুজ্জামান দুদু ২২, শওকত মাহমুদ ৪৫, আবদুল্লাহ আল নোমান ১৩, সেলিমা রহমান ১১, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৮, মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদের নামে ৬টি মামলা রয়েছে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান ১২৬, জয়নুল আবদিন ফারুক ৩১, মিজানুর রহমান মিনু ১৩, দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামে ৫০টি, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামে ১৩০টি, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ১১০টি, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুদুর বিরুদ্ধে ৫০টি, ফজলুল হক মিলন ১২ ও নাদিম মোস্তফার নামে ২৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগেরই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এছাড়া যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের নামে ২১৫ ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ২১২টি মামলা রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবুর নামে ৩১টি মামলা রয়েছে। এসব নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চলছে বিচারকাজও।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"organization";s:[0-9]+:"বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি".*')) AND id<>16646 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter