বিলম্বে কর পরিশোধ

ফারমার্স ব্যাংকের আবেদনে এনবিআরের ‘না’

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রাহকের কাছ থেকে সেবার বিপরীতে উৎসে কর ও উৎসে ভ্যাট আদায় করলেও তারল্য সংকটের কারণে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে পারছে না ফারমার্স ব্যাংক। এ অবস্থায় কর জমা দিতে ৬ মাস সময় চেয়ে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও ওই প্রস্তাবে সায় দেয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)। মঙ্গলবার ব্যাংকটির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে এনবিআর। একই সঙ্গে যথাসময়ে কর পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী জরিমানা হতে পারে বলে ফারমার্স ব্যাংককে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু যুগান্তরকে বলেন, তারল্য সংকট থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। যেহেতু এনবিআর থেকে আবেদনটি নাকচ করে দেয়া হয়েছে, তাই আদায়কৃত করের টাকা ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে পরিশোধ করে দেয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে বড় অংকের আমানত ব্যাংকে জমা হবে। আয়কর বিধিমালার ১৩ বিধিতে বলা আছে, উৎসে কর যে মাসে আদায় করা হয়েছে ওই মাস শেষ হওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে আদায় করা অর্থের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপযোগ্য হবে। সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার এ জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

ফারমার্স ব্যাংকে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান কর আইন অনুযায়ী উৎসে আদায়কৃত কর সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার একটি সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারিত আছে। এ নির্ধারিত সময়সীমা বর্ধিত করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উৎসে আদায়কৃত কর সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আইনি বিধান ভঙ্গের কারণে জরিমানা আরোপেরও বিধান আছে।

মূলত ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের সুদ আয়ের বিপরীতে উৎসে কর, বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের ওপর ভ্যাট, কনসালটেন্সি ফির বিপরীতে উৎসে কর ও ভ্যাট আদায় করে। মাস শেষে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।

২২ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক দুরবস্থার কথা জানিয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনবিআরে চিঠি দিয়ে বিলম্বে কর পরিশোধের আবেদন জানায়। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ফারমার্স ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির ৫৬টি শাখা আছে। আমানত আছে ৪ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। ঋণ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। সংবাদপত্রে ব্যাংকটি ঘিরে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় আমানতকারীরা অর্থ উঠিয়ে নিতে শুরু করেন। ৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা থেকে আমানত ৪ হাজার ৫৯২ কোটি টাকায় নেমে আসে। এতে তারল্য সংকট দেয়া দিয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মূলধন ৪০১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্যাংকটি। এতে তারল্য সংকট কাটবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ দেয়ার কারণে আলোচনায় আসে ফারমার্স ব্যাংক। ঋণ বিতরণ, নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব কারণে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর পদত্যাগ করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন ব্যাংকের আরেক পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ। তৎকালীন এমডি একেএম শামীমকে সরিয়ে এহসান খসরুকে দেয়া হয় এমডির দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণ যাচাই কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়াই বিপুল অংকের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বেশ কিছু বড় অংকের ঋণের সুবিধাভোগী ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকা ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়। বিতরণ করা অধিকাংশ ঋণের মঞ্জুরিপত্র নেই। কিছু ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের আগেই নজিরবিহীনভাবে তা বিতরণ করা হয়েছে। শুধু ভাউচারের মাধ্যমেও লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিপুল অংকের নগদ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি বন্ধের দিনেও (শুক্র ও শনিবার) অর্থ সরানোর ঘটনা ঘটেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter