সংসদে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণে ধ্বংস হচ্ছে ব্যাংকিং খাত

জাতীয় পার্টির প্রতি জনসমর্থন ক্রমেই বাড়ছে, বিকল্প বড় শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টিকে জনগণ বড় দায়িত্ব দিতে পারে

  সংসদ রিপোর্টার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের কারণে দেশে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হতে বসেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়া ছাড়াও খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। বাড়ছে খেলাপি ঋণ। ব্যাংক পরিচালকরাও ঋণের নামে ব্যাংক উজাড় করছেন। আবার অবলোপনের নামে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কিছু ব্যাংক যেমন দেউলিয়া হয়ে যাবে, তেমনি সাধারণ আমানতকারীদের পথে বসতে হবে। ওদিকে গ্যাসের অভাবে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে বসেছে। এপ্রিলে এলএনজি পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অব্যাহত প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, ঋণখেলাপির সংস্কৃতি, মানুষের অধিকার, আগামী নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, ‘এ বছর জাতীয় নির্বাচনের বছর। সবার মতো আমার দল জাতীয় পার্টি ও আমারও প্রত্যাশা একাদশ জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ সবার কাছে যেন এ নির্বাচন একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাাশি নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কেননা সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। আমরা দেশে কোনো হানাহানি দেখতে চাই না। চাই না হরতাল কিংবা নৈরাজ্যকর কোনো পরিস্থিতি। আমরা চাই, সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার গঠিত হবে। যে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ তৈরি হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে এর আগেও আমি সংসদে তথ্যভিত্তিক অনেক কথা বলেছি। কিন্তু অগ্রগতি বলতে যা হয়েছে তা হল- ভেতরে ভেতরে ব্যাংকগুলো উজাড় হতে বসেছে। বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সঙ্গে আছে ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের বোঝা আর অবলোপনের নামে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করা। সর্বোপরি পণ্য আমদানির নামে কোনো পণ্য না এনেই বিশেষ কৌশলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে এ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্টও দেখেছি। কিন্তু ওই রিপোর্টের বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো পর্যায় থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যদি না দেয়া হয়ে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে- অবিশ্বাস্য এ পন্থায় টাকা পাচার সত্যিই হচ্ছে। সেটা হলে অবশ্যই তা উদ্বেগের বড় কারণ।’

তিনি বলেন, ‘এসব খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে শেষমেশ পরিস্থিতি এই দাঁড়াবে হঠাৎ বেশ কিছু ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে এবং সাধারণ আমানতকারীদের পথে বসতে হবে। এমনকি সরকারের বড় বড় প্রকল্পে তহবিল ও বিভিন্ন ফান্ডও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ইতিমধ্যে বিপর্যয়ে পড়া একটি ব্যাংক পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু ফান্ডের বিপুল অংকের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘সম্প্রতি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর একটি বক্তব্য আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।’ তিনি একটি ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে বলেছেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সরকারও দায়ী।’ হয়তো অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সত্য। কিন্তু প্রশ্ন হল- তিনি কাকে ব্লেম করছেন। তিনিই তো অর্থমন্ত্রী, ব্যাংকের ভালোমন্দ দেখভাল করার দায়িত্ব তার। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী তিনিই মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী এ খবরগুলো আমাদের খুবই ব্যথিত করে। আমরা ঋণখেলাপি ও অর্থ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির বড় মাধ্যম ব্যাংকগুলো এক সময় নিঃশেষিত হয়ে যাবে। তখন গানের ভাষায় বলতে হবে- ‘আমার বলার কিছু ছিল না, চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে...।’ খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ সংসদে এভাবে কথাগুলো বলতে হচ্ছে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘খুবই অবাক হই, যখন দেখি ঋণখেলাপিদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি হিসেবে ১০০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ হয়েছে, অথচ সেখানে সমাজের চিহ্নিত রাঘববোয়ালদের নাম নেই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তালিকা থেকে নিজেদের নাম বাদ রাখতে তারা হয় আদালতে গিয়ে স্থিতাবস্থা অবস্থা নিয়ে আসেন, না হয় ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘সবাই জানেন, আমি কাদের কথা বলছি। তারা এ সমাজে খুবই প্রভাবশালী বলে দাবিদার। প্রায় পত্রিকায় পাতায় তাদের অর্থ লোপাটের কত কাহিনী ছাপা হয়। কিন্তু অবস্থা এমনটিই জানান দিচ্ছে যে- তাদের টিকিটি স্পর্শ করার ক্ষমতা মনে হয় কারও নেই। ভালো। খুব ভালো। এমন অবস্থা চলতে থাকলে উন্নয়নের লাগাম আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে তা কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। আশঙ্কা হয়, কখন যেন পুরো অর্থনীতি চোরাবালিতে হারিয়ে যায়।’

গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস বিদ্যুৎ নিয়ে কথা আজ বলতেই হবে। বিশেষ করে গ্যাসের অভাবে প্রতিটি শিল্প কারখানার অবস্থা নিভু নিভু। আবার কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের অনুমতি পেলেও বাস্তবে সংযোগ মিলছে না। আর বৈষম্য তো আছেই। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এখন সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বলা হচ্ছে- এপ্রিলে এলএনজি বা তরলীকৃত গ্যাস আসলেই সবাইকে সংযোগ দেয়া হবে। কিন্তু সম্প্রতি সেই এলএনজি নিয়েও পত্রিকায় হতাশার খবর দেখলাম। কারণ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণই শেষ কথা নয়; বিদেশ থেকে তরলীকৃত এই গ্যাস আমদানি করার জন্য যে অর্থ লাগবে তার এখনও কূলকিনারা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সাড়া দিচ্ছে না। ফলে এপ্রিলে এলএনজি পাওয়া নিয়ে ভরসার জায়গায়টা কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। প্রশ্ন হল- তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১০০টি অথনৈতিক অঞ্চলের কী হবে? সেখানে সময়মতো প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা মিলবে কীভাবে। এছাড়া এর বাইরে থাকা অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবস্থা যে কী হবে তা সহজে অনুমান করা যায়। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সবাই গ্যাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। তাহলে বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তাদের কী হবে? যারা কোনোদিন ঋণখেলাপি হননি এবং ভবিষ্যতে হতে চান না। সৎভাবে ঘাম ঝরিয়ে ব্যবসা করতে চান তাদের জন্য সরকার কী করবে? আমাদের সামনে এ রকম অনেক প্রশ্ন এখন হাতছানি দিচ্ছে। কিন্তু উত্তর কারও জানা নেই।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে শুধু মুখে মুখে বা কাগজকলমে সবকিছু দিয়ে দিলে হবে না- বাস্তবে যথাসময়ে তার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে অর্থনীতির চাকা স্বাভাবিকভাবে আর সচল হবে না।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর কোথাও সরকার ব্যবসা করে না। ব্যবসা করেন ব্যবসায়ীরা। তারা নানান ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করেন। অর্থ ও নীতি সহায়তা দিয়ে তাদের প্রতিটি লাইফলাইন ঠিকমতো সচল রাখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু অনেক সময় শুনি, সরকারের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি অর্থনীতির নানা সংকট নিয়ে ‘কিছুই হবে না’ বলে আশার বাণী শোনান। কিংবা তুড়ি মেরে শঙ্কার কথা উড়িয়ে দেন। এখানে বলতে চাই, তারা যদি প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসা করতেন তাহলে এভাবে বলতে পারতেন না। কারণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেক ব্যবসায়ী আমাদের এমন অনুযোগের কথা প্রায় বলে থাকেন। আর এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে- আমি নিজেও শিল্পপতি পরিবারের একজন অন্যতম সদস্য। তাই অর্থনীতির নানা সংকট প্রতিনিয়ত আমাকেও তাড়িত করে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘যেমন ধরুন- চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জট। এটি যেন গণমাধ্যমের নিত্যদিনকার খবর। দুঃখের বিষয়, আমরা এই ঘেরাটোপ থেকে আজও বের হতে পারলাম না। কত বড় বড় প্রকল্প নিয়ে খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছি। বাহবা নিচ্ছি। কিন্তু দেশের অন্যতম সমুদ্র বন্দরের অবস্থা যে কত ভয়াবহ তা কেবল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরাই বলতে পারেন। নানা রকম হয়রানি জটে পড়ে তাদের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। সময়মতো মালামাল খালাস করতে না পেরে অনেক সময় তো শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। জানি না এ সমস্যার কবে সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যতম শিল্প অঞ্চল গাজীপুরে গ্যাস সংযোগে বিড়ম্বনার খবর নিশ্চয় আপনার চোখও এড়িয়ে যায় না। এখানকার শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান চাহিদামাফিক গ্যাস না পেয়ে বিপর্যয়ের মুখে আছে। প্রায় সময় দেখা যায়, সারা দিন গ্যাস নেই। রাতে কোনোমতে আছে। তাহলে এখানকার ফ্যাক্টরিগুলো চলবে কীভাবে? সময়মতো উৎপাদন না হওয়ায় রফতানি পণ্যের অর্ডার প্রায় বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কোথা থেকে আসবে? বাস্তবে এর উত্তর যেন কারও জানা নেই। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রী নিজে যতক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, মনে হয় ততদিন এ সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘আরেকটি বিষয়ে কথা না বললেই নয়। তা হল- প্রশ্নপত্র ফাঁস। এটি রীতিমতো এখন গলার ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে। কিন্তু কেন? আর কতদিন এ অবক্ষয় চলবে। কী হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। সব কিছু কি আমাদের এভাবে ফাঁস দিয়েই চলবে। একসময় পরীক্ষায় নকল হতো। সেখান থেকে আমাদের কতটা উন্নতি ঘটল? এখন দেখছি, আস্ত প্রশ্নই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। আর প্রশ্ন ফাঁস রোধে গত কয়েক মাস থেকে কত কথাই না শুনে আসছি। কেবল যুদ্ধ ঘোষণাটাই বাকি।’

তিনি বলেন, ‘সবে শুনলাম, পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। একসময় শুনতাম শীর্ষ সন্ত্রাসী ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেয়া হবে, আর এখন শুনছি প্রশ্ন ফাঁসকারী ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার। ভালো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে- ভাবতে অবাক লাগে। তবু ধরা পড়–ক তারা- যারা জাতির ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ড বিকল করে দিচ্ছে। আমাদের মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু একটা কথা বলতেই হবে- যারা এর দায়িত্বে আছেন তারা কেন ব্যর্থ হচ্ছেন? তারা কি অদক্ষ, না তাদের কথা কেউ শোনেন না।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এ মন্ত্রণালয়ে সত্যিই কোনো মন্ত্রী আছেন কিনা- সাধারণ মানুষ আমাদের অনেক সময় এমন প্রশ্নও করে বসেন। আমরা বিব্রত হই। যা হোক, আমি মনে করি- এটি জঙ্গি সন্ত্রাসের চেয়েও বড় অপরাধ। আমরা জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে সফল হলে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের কেন সমূলে উচ্ছেদ করতে পারব না। আমাদের অনেক সহকর্মী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক কথা বলেছেন, আমি আর বেশি কিছু বলতে চাই না। প্রত্যাশা থাকবে, ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে যেন আমাদের কথা বলতে না হয়।’

তিনি বলেন, ‘মূল্যবান সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, এখানে এই মহান সংসদে যারা আছি তাদের বড় দায়িত্ব এ ধরনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া। আমার মতে, যে দেশ শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারবে না সে দেশ কোনোভাবে এগোতে পারবে না। পৃথিবীর যত দেশ উন্নত হয়েছে তাদের পেছনের ইতিহাস শিল্প বিপ্লব। তারা এক হাতে দুর্নীতি দমন করেছে, আরেক হাতে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে। দেশের সব ধরনের অর্থ বা পুঁজি বিনিয়োগকে অভিবাদন জানানো হয়েছে। এ সুবাদে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ছাড়াও চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের মাত্র আট বছর আগে স্বাধীন হয়েছে সিঙ্গাপুর। তাদের মাথাপিছু আয় এখন ৫২ হাজার ৬০০ ডলার। আর আমরা দাঁড়িয়ে আছি এক হাজার ৬১০ ডলারের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘কবি বলেছেন, পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর তা অর্ধেক করেছে নর, অর্ধেক নারী। তাই এখানে নারী পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য সবার আগে প্রয়োজন নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুঃখের বিষয় পত্রিকার পাতা খুলে প্রতিদিন যত খারাপ সংবাদ চোখে পড়ে তা অনেকটা জুড়ে থাকে নানা ধরনের নারী নির্যাতন। একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে এসব খবর আমাকে আরও বেশি পীড়া দেয়। বিষয়টি নিয়ে সরকার অনেক কিছুই করছে। আমি বলব, আমাদের যেকোনো মূল্যে এসব দমন করতে হবে। আরও কঠোর হতে হবে। সমাজে এ ধরনের অপরাধ যারা করবে তাদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

নির্বাচনী এলাকা সম্পর্কে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘আমার সম্মানিত ভোটারদের প্রাণের দাবি দ্রুত গ্যাস সংযোগ পাওয়া। রাজধানী থেকে কেরানিগঞ্জে গ্যাসলাইন চলে গেছে। কিন্তু সেখান থেকে খুব কাছে হলেও আমার নির্বাচনী এলাকা নবাবগঞ্জ-দোহারের মানুষ গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ এখানে গ্যাস সংযোগ দেয়া হলে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমি বিগত কয়েক বছর থেকে জোরালোভাবে এ দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজও গ্যাসের দেখা মেলেনি। এজন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমার নির্বাচনী এলাকায় দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিতে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় জ্বালানি উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

পদ্মার ভাঙন রোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মার ভাঙন থেকে আমার নির্বাচনী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে রক্ষা করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। ভাঙন রোধে প্রকল্প নিতে অনেক চেষ্টা করেছি। আশার কথা, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এ বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সে সুবাদে ২১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের আবারও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া দোহারের নয়াবাড়ি থেকে মুকসেদপুর পর্যন্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। আশা করছি, তিনি আমার নির্বাচনী এলাকার এ দাবিটি পূরণ করবেন। বাঁধটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষ পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক সহায়তায় ইতিমধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক কাজ পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক এখনও চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে আসছে বর্ষা মৌসুমের আগে কিছু রাস্তা সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে। এ ছাড়া নবাবগঞ্জের পাতিঝাপ-দত্তখণ্ড খেয়াঘাটে কালীগঙ্গা নদীর ওপর এবং নয়ানগর হাসনাবাদে ইছামতি নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অপরদিকে নবাবগঞ্জে ৫০ হাজারের বেশি তাঁত শ্রমিক রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ প্রায় অবলুপ্তির পথে। তাই তাঁত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

আলোচনার শুরুতে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দানের সুযোগ দেয়ায় আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি উপস্থিত সংসদ সদস্যদের। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। আর যারা এতক্ষণ ধৈর্যসহকারে আমার বক্তব্য শুনে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। তাই পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব ভাষা শহীদকে, যারা ভাষার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতিও সশ্রদ্ধ সালাম এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা জীবনের বিনিময়ে লাল-সবুজের পতাকা দিয়ে গেছেন।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘আমি স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তার মতো রাজনৈতিক নেতার জš§ না হলে আমি, আমরা এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না। একই সঙ্গে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ শক্ত ভিত পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, জাতীয় পার্টির প্রাণপুরুষ আমাদের দলের চেয়ারম্যান সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি, যিনি আমাকে এই মহান সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আজ শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে না, আগামীতে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আবহ তৈরি হয়েছে।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘আমি আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের প্রতি। দলের জন্য তারও রয়েছে বিশেষ অবদান। যার সময়োপযোগী পরামর্শ আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে।

নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১ আসনের দোহার-নবাবগঞ্জবাসী আমার সব প্রেরণার উৎস। তাদেরকে ঘিরেই আমার রাজনীতি। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাটা আমার জন্য বড় আনন্দের। আমি সব সময় সে চেষ্টায় করি। তাই আমার প্রতিটি সম্মানিত ভোটারসহ নির্বাচনী এলাকার সবার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। তাদের কাছে আমি চিরদিন ঋণী হয়ে থাকব। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগফল মিলিয়ে তারা আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন- এমন আশায় প্রবল আশাবাদী আমি।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘এটি নির্বাচনের বছর। একাদশ জাতীয় নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। তাই ভোটাররা আমাকে যে মহান সংসদে পাঠিয়েছেন সেই সংসদ থেকে তাদের কাছে ভোট চাওয়ার আনন্দটা হাতছাড়া করলাম না।’

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতির দেয়া ১৫৬ পৃষ্ঠার ভাষণ ভূয়সী প্রসংসার দাবি রাখে। গঠনমূলক ও সময়োপযোগী এ ভাষণে সরকারের সাফল্যের দিক ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অনেক দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পথনির্দেশিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এজন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘রাজনীতি মানেই জনসেবা, তাই একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সব সময় আমার কাছে জনগণের কিভাবে কল্যাণ করা যায় সে বিষয়টি প্রাধান্য পায়। আমি জনগণকে ভালোবাসি, ভোটারদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে পছন্দ করি। তাদের পাশে থাকতে এবং কাছে রাখতে চাই। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ দফায় তাদের কাছে যেতে যেতে এখন আমার নির্বাচনী এলাকা একটা পরিবার হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমার ক্ষুদ্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা এখনও সেই ধরনের ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবেশ গড়ে তুলতে পারিনি। অথচ আইনপ্রণেতা হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে তেমনটিই আশা করেন। কিন্তু বাস্তবতা এমন পর্যায় গিয়ে ঠেকেছে যে, আজ আমরা শুধু ক্ষমতার রাজনীতিই করছি। এক পক্ষ চায় ক্ষমতায় যেতে, অপর পক্ষ ক্ষমতায় থাকতে। মাঝখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। সবাই আমরা জনগণের নামে কথা বলছি। কিন্তু বাস্তবে জনগণের কথা কেউ শুনছি না। অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্য কথাও বলতে পারছে না। আসলে জনগণ যে কার তা নিয়ে গ্রহণযোগ্য জরিপ হওয়া দরকার।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ নিরীহ মানুষ নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিনা বিচারে নিরপরাধ বহু মানুষ জেল খাটছেন। হয়রানি ও গ্রেফতার এড়াতে পুলিশি ভয়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এগুলো শুভ লক্ষণ নয়। এভাবে চলতে থাকলে প্রত্যাশিত গণতন্ত্র এক সময় জাদুঘরে চলে যাবে। বিপরীতে নানা চক্রান্তে আটকা পড়ে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। ফলশ্রুতিতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে। বাড়বে বেকারত্ব। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরিবর্তে আমরা আরও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘আজ হয়তো অনেকের কাছে এসব কথা বইয়ের ভাষা মনে হতে পারে; কিন্তু যতদিন পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্রের মৌলিক দিকগুলো আঁকড়ে ধরতে না পারব ততদিন আমাদের বিপদসঙ্কুল এ সংকট কাটবে না। যে কোনো ইস্যুতে বড় আশঙ্কা তৈরি হবে। সব সময় অজানা ভয় কাজ করবে। রাজপথে প্রতিবাদী যে কাউকে দেখলেই ভয় লাগবে। সেটি যদি ন্যায্য কথা বলার জন্য কেউ অহিসংভাবেও দাঁড়ান। কিন্তু কেন? এমন বাংলাদেশ তো কেউ আমরা চাইনি। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি বলব- আসুন, আরেকবার আমরা ভেবে দেখি, নেতিবাচক কোনো পরিস্থিতি তৈরি করে আমরা দীর্ঘ মেয়াদের জন্য নিজেদের বড় ক্ষতি করছি কিনা।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘সর্বোপরি এটাই বলব, প্রত্যেককে আজ বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ হতে হবে। শুধু আমরা নিজেরা ভালো থাকলে হবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছি- অবশ্যই সেটি ভাবতে হবে। না হলে রাজনীতি করে লাভ কী? মুখে বড় বড় কথা বলে ফায়দা নেয়ার দিন শেষ। মানুষ এখন অনেক সচেতন। সব বুঝতে পারে। ধোঁকা দিয়ে আর বোকা বানিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

তিনি বলেন, মানুষ কাজ দেখতে চান। ন্যায্য কথা বলতে চান। চান অধিকার আদায়ে প্রতিবাদ করতে। তাই দায় এড়াতে আমরা নীতিসংশ্লিষ্ট কথাগুলো যেভাবেই মূল্যায়ন করি না কেন, আমি মনে করি দেশের সাধারণ মানুষ কখনও সুযোগ পেলে আমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ভুলবেন না। কিন্তু তাদের সেই মূল্যায়নের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে একদিন আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। যদিও আমরা শিখি না, কিন্তু ইতিহাস যুগে যুগে এমন শিক্ষাই দিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমার দল জাতীয় পার্টি জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশের বেশিরভাগ জনগণ যা চান, সেটিই জাতীয় পার্টির চাওয়া। এটিই দলের অন্যতম নীতি। আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান সব সময় জনগণের ভাষা বুঝে কথা বলেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ভবিষ্যতেও তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে তার রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন।’

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন সরকারের ভালো কাজের প্রশংসার পাশাপাশি খারাপ কাজের সমালোচনা করছি। এটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য। এ ধারা সব সময় অব্যাহত থাকবে। এজন্য জাতীয় পার্টির প্রতি জনসমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে আমরা মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছি। এমন জয়ের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এ পথ ধরে বিকল্প বড় শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টিকে জনগণ বড় দায়িত্ব দিতে পারে। এমন প্রত্যাশা এখন আর অমূলক নয়।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter