খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির আবেদন করবে দুদক

তারেকসহ ৫ জনের অর্থদণ্ড আদায়ের আবেদন * ব্যাংকে রক্ষিত মামলা সংক্রান্ত ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা বাজেয়াপ্তের আবেদন * জেলকোড অনুসারে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ * গৃহকর্মী ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাখার ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির আবেদন করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাইকোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনের শুনানিতেও বিরোধিতা করবে সংস্থাটির আইনজীবীরা।

রোববার খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আদালত আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

এই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ জনের অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য রোববার আদালতে আবেদন করেছে দুদক। এছাড়া তারা এই মামলার বিষয়ে ব্যংকে রক্ষিত ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে আদালতে আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। দুদকের আইনজীবীরাও আদালতের কাছে রায়ের অনুলিপি চেয়েছেন।

গত আট ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ আদালত। একই মামলায় তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

রোববার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণী পাওয়ার আবেদন নিয়ে আমরা নাজিমউদ্দিন রোড ও কেরানীগঞ্জ- উভয় কারাগারে গিয়েছিলাম। কারা কর্তৃপক্ষ এবং কারাগারের পুলিশপ্রধান আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আপনারা দরজায় দরজায় ঘুরবেন কেন? আপনারা আইনজীবী। আপনি ডিসির কাছে যান, তার কার্যালয় ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, ২৪ ঘণ্টা উনি অন ডিউটিতে আছেন। অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। তিনি বলেন, আদালত সরাসরি এটার (ডিভিশন) বিষয়ে আদেশ দিতে পারেন না। কারা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিতে পারেন।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিভিশন পাওয়ার তিনটি বৈশিষ্ট্যই উনি (খালেদা জিয়া) ধারণ করেন। প্রথমটি হল- তিনি পার্টিপ্রধান, দ্বিতীয়ত- তিনি বেশ কয়েকবার নির্বাচিত এমপি এবং তৃতীয় তিনি তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। এ তিনটি বিবেচনাতেই তিনি প্রথম শ্রেণী পান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে ডিভিশনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

শুনানি শেষে মোশাররফ হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, আমরা রায়ের কপি পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করছি। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। ওই টাকা আদায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা পরবর্তী সময়ে ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা হয়েছে। ওই অর্থও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতের কাছে দরখাস্ত করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনগত বিষয়গুলো আমাদের পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় হয়েছে। আদালত ১১টি বিচার্য বিষয় গ্রহণ করে রায় দিয়েছেন। ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দিয়ে আমরা আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করেছি। এখানে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত খালেদা জিয়ার সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের সাজা বৃদ্ধির বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখা হবে। সেখানে যদি সাজা বৃদ্ধি করার সুযোগ থাকে তাহলে পরবর্তী সময়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সাজা বৃদ্ধির বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলকোডের বিধান অনুসারে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তিকে আদালত ডিভিশন দিতে পারেন না। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়া দণ্ডিত। তিনি ডিভিশনের বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। তবে এ আবেদনের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবেন। আদালত আসামিপক্ষের ডিভিশনের আবেদনটি তাদের (জেলা প্রশাসক বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) কাছে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

এদিকে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার কাজের মেয়ে ফাতেমাকে তার সঙ্গে রাখার বিষয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত ফাতেমাকে রাখার অনুমতিও দিয়েছেন। আমরা আমাদের ওই আবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এখন ফাতেমা কি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাতেমা কারাগারেই রয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার রায়ের কপি আমরা পাইনি। আশা করছি সোমবার (আজ) মামলার রায়ের কপি আদালত আমাদের সরবরাহ করবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter