রাফির হত্যাকারীরা রেহাই পাবে না : প্রধানমন্ত্রী

ব্যাংকে চাকরি পেলেন রাফির বড় ভাই

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাসস

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পরিবার। ছবি-যুগান্তর

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মুসা, মা শিরীনা আক্তার ও দুই ভাই সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করে রাফি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এমন মেয়েকে যারা পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী মর্মান্তিক এ মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় রাফির বড় ভাইয়ের হাতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন এবং পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাফির বাবা-মা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র জানিয়েছে, রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ব্যাংকটিতে ‘ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার’ হিসেবে কাজ করবেন। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার শর্তে তাকে চাকরি দেয়া হয়েছে।

২৭ মার্চ রাফি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে। এরপর ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম পরীক্ষা দিতে যায়। ওই দিন মুখোশ পরা কয়েকজন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলে। রাফি রাজি না হলে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে মারাত্মক দগ্ধ হয় রাফি।

১০ এপ্রিল সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। প্রধানমন্ত্রী রাফিকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও রাফিকে বাঁচানো যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী রাফি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

গণভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় : প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় তিনি দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সব কর্মের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে যাব। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেখেছিলেন। আর সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা নতুন বছর ১৪২৬-এর নতুন সূর্য সবার জীবনকে সুন্দর করুক, উদ্ভাসিত করুক, সফল করুক- সেটাই কামনা করি। আমি এটুকুই আশা করব যে, আমাদের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বদরবারে বাঙালি জাতি সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।’

তিনি বলেন, ‘পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে আমরা নতুন বছরে পদার্পণ করছি। সমগ্র বাঙালি জাতিকে এ নববর্ষে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। শুভ নববর্ষ।’ নতুন বছর বাঙালি জাতির জন্য নতুন বার্তা বয়ে আনুক- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব, আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব।’

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সমগ্র দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং আমাদের সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকর্মীকে আমি বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানাই। শুভেচ্ছা জানাই গত নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জাতির সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।’

সংসদের উপনেতা এবং দলের জ্যেষ্ঠ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচটি ইমাম, আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন প্রমুখ অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে প্রবেশ করলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শিল্পীরা বর্ষবরণের গান ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশন করেন। পরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সভাপতিমণ্ডলীসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে অতিথিদের বিভিন্ন বাঙালি খাবার যেমন- মোয়া, মুড়কি, মুরলি, কদমা এবং জিলাপি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা : পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে অবস্থিত শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ-প্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন রোববার সকালে তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া মোহাম্মদপুরে ১৩ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ নির্মাণসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবাসনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই কেবল তারা যথাযথ সম্মান পান। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অলিম্পিক সভাপতি ও মহাসচিবের সাক্ষাৎ : বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, বিদেশে দল পাঠানোসহ ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে আগামী জাতীয় বাজেটে যাতে যথেষ্ট বরাদ্দ থাকে- সে বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।