পাউবোর প্রকল্পে দুর্নীতি

সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেয়েও ১৫ জনের শাস্তি শুধু ‘সতর্ক’ * টাস্কফোর্সের যারা দুর্নীতি ধরিয়ে দিচ্ছেন তাদের বদলি করে দেয়ার অভিযোগ * প্রতিমন্ত্রীর বিস্ময় প্রকাশ : বললেন, অভিযোগ সত্য হলে কাউকে ছাড়া হবে না

  নেসারুল হক খোকন ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাউবোর প্রকল্পে দুর্নীতি

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদী পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সিসি ব্লকের মান ৯ এমপিএ (ম্যাগা প্যাক্সেল) ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ার কথা।

কিন্তু প্রকল্প এলাকায় যে বালি ও পাথর রাখা হয়েছে তা দেখতে খারাপ হওয়ায় সিসি ব্লকের মান নিয়ে সন্দেহ হয় পাউবোর টাস্কফোর্স সদস্যদের। প্রকৃত চিত্র পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ল্যাবে স্যাম্পল পাঠানো হয়।

এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে সিসি ব্লক প্রস্তুত করা হয় তার স্থায়িত্ব ক্ষমতা উঠে আসে মাত্র ২.৩ এমপিএ। অর্থাৎ প্রায় ৭ এমপিএ কম ক্ষমতাসম্পন্ন ব্লক তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সূত্র বলছে, শুধু এই মাতামুহুরী প্রকল্পই নয়, পাউবোর অধিকাংশ প্রকল্পের বাস্তব চিত্র এ রকমই। ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে পাউবোর কিছু কর্মকর্তা এভাবে পানির মধ্যে লুটপাটের মহা আয়োজন করে থাকেন।

এমনকি কোনো কারণে কাজের মান খারাপ করে ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে ব্যর্থ হলে চক্রটি প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় ধরে প্রাক্কলন তৈরি করে ভাগ বসান। অবশ্য এখন বেশির ভাগ প্রকল্পে দুর্নীতির এই সহজ পথ বেছে নেয়া হয়।

এভাবে দরপত্র আহ্বানের আগেই কাজের বেশি প্রাক্কলন প্রস্তুত করে তা পছন্দের দরদাতাদের কাছে ফাঁস করে দেয়া হয়। ফলে ঠিকাদাররা প্রাক্কলন অনুযায়ী বাড়তি দরে দরপত্র জমা দিয়ে থাকেন। কাজ পাওয়ার পর প্রথমেই অতিরিক্ত প্রাক্কলের পুরো টাকায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঠিকাদারের কাছ থেকে আগাম নিয়ে নেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে মুখ রক্ষার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যথারীতি সমঝোতার ভিত্তিতে অলিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী দায়সারা প্রতিবেদন দিয়ে তাদের গুরুদণ্ড থেকে রেহাই দেয়া হয়। শাস্তি বলতে নামসর্বস্ব ‘সতর্ক’।

তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী শাস্তি হওয়ার কথা গুরুদণ্ড হিসেবে অর্থ আদায়সহ সাময়িক বরখাস্ত, পদোন্নতি স্থগিত কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তা না করে গত দুই মাসেই অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তাকে সে ফ সতর্ক করে দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অথচ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ পায় টাস্কফোর্স।

এদিকে টাস্কফোর্সের যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির সূক্ষ্ম এই ফাঁকফোকর ধরিয়ে দিচ্ছেন উল্টো তাদের বদলি করে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি টাস্কফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ ৫ সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

তারা হলেন- উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা, আনিস হায়দার খান, মো. সালাউদ্দিন ও বিজয় বশাক। এ অবস্থায় টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক পাউবোর দুর্নীতিবাজদের আতঙ্ক ও চিফ মনিটরিং কাজী তোফায়েল হোসেন দায়িত্ব থেকে সরে যেতে পারেন- এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর সদ্য বিদায়ী একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা যগান্তরকে বলেন, ‘টাস্কফোর্সের মোট সদস্য ছিল ৪০ জন। এর মধ্যে ৮ জন সম্প্রতি বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে অন্যত্র যোগ দিয়েছেন। এ অবস্থায় আরও ৫ জনকে সরিয়ে দেয়ায় মহাসংকটে পড়েছে টাস্কফোর্স। বর্তমানে কাজের মৌসুমে যেখানে টাস্কফোর্সে সদস্য বাড়ানোর কথা, সেখানে আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী তোয়ায়েল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পাউবোর শৃঙ্খলা পরিদফতরের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের প্রি-ওয়ার্কে (প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ) ভেরিয়েশন করে টাকা আত্মসাতের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিছু কর্মকর্তা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান গুরুদণ্ড দেননি। কিন্তু এটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করায় লাগামহীন দুর্নীতি আরও বেপরোয়া আকার ধারণ করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কিভাবে সম্ভব। তবে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই গুরুতর এসব অভিযোগের পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এতে নিয়ম-কানুনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।

জানা যায়, মাতামুহুরী নদী পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ দুর্নীতি ধরা পড়ার পর কর্তব্য কাজে অবহেলার অভিযোগে কক্সবাজারের সাবেক ও বর্তমান দুই নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

তারা হলেন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান, চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী তনয় কুমার ত্রিপুরা, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাহুল বিশ্বাস এবং শাখা কর্মকর্তা এসএম তারেক বিন ছগির। এর আগে আরও বেশ কয়েকটি অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন অনেকেই।

কিন্তু দায়সারা তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক প্রত্যেককেই সর্বনিু শাস্তি অর্থাৎ সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছেন। সতর্ক করে ছেড়ে দেয়ার একটি তালিকা যুগান্তরের কাছে এসেছে। এতে দেখা যায়, গুরুতর সব অভিযোগ থাকার পরও সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে।

নথিপত্রে দেখা গেছে, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ঘোষপাড়া নামক স্থানে ধরলা নদীর চর খননে অতিরিক্ত ব্যয় (ভেড়িয়েশন) ধরে প্রাক্কলন তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কয়েকজন কর্মকর্তা। পাউবোর টাস্কফোর্স সদস্যদের হাতে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর পাউবোর শৃঙ্খলা পরিদফতর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গত ২১ জানুয়ারি এসব কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দায়মুক্তি দেন শৃঙ্খলা পরিদফতরের পরিচালক ফেরদৌসি বেগম। সতর্কতার শাস্তি পাওয়া এসব কর্মকর্তা হলেন- লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন, একই জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে সৈয়দপুরে কর্মরত কৃষ্ণকমল চন্দ্র সরকার, হাতিবান্ধায় কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও লালমনিরহাটে কর্মরত শাখা কর্মকর্তা এটিএম বজলে করিম।

নাটোর জেলার আওতায় চলনবিল অংশে বাঁধ নির্মাণে প্রি-ওয়ার্কের সময়ই ৫১.৬১ পার্সেন্ট ব্যয় বেশি ধরে প্রাক্কলন প্রস্তুত করেন নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামসহ তিনজন। অপর দু’জন হলেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশেক আলী মিঞা ও শাখা কর্মকর্তা মো. আবু সোয়েব।

টাস্কফোর্স ভেরিয়েশনের বিষয়টি টের পেয়ে সরেজমিন যৌথ জরিপ করে হাতেনাতে প্রমাণ পায়। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারির এ ঘটনায় পাউবোর শৃঙ্খলা পরিদফতর থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে। গত ২৪ জুন তৎকালীন পরিচালক আকতারুজ্জামান পাউবো ডিজির অনুমোদনের কথা বলে তাদের সতর্ক করে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সি ডাইক নির্মাণ কাজের প্রি-ওয়ার্কে ভেরিয়েশনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুত কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্টরা।

২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত ব্যয় ধরে প্রি-ওয়ার্ক প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ দেয় টাস্কফোর্স। এরপর শৃঙ্খলা পরিদফতর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এই নির্বাহী প্রকৌশলী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্টও নন কর্তৃপক্ষ।

এরপর পাউবো মহাপরিচালকের অনুমোদনের কথা বলে সতর্ক করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেন শৃঙ্খলা পরিদফতরের তৎকালীন পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান।

বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রস্তাবের অভিযোগে ২০১৭ সালের ২ জুলাই সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন ঝালকাঠির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও শাখা কর্মকর্তা একেএম মাইনুল ইসলাম। এরপর অভিযোগের তদন্তও সম্পন্ন হয়।

শৃঙ্খলা পরিদফতরের দফতরাদেশে এ বিষয়ে বলা হয়, ‘তদন্ত কর্মকর্তার দাখিলকৃত প্রতিবেদন এবং আনুষঙ্গিক রেকর্ডপত্রাদি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনান্তে কর্তৃপক্ষ জাকির হোসেন ও মাইনুল ইসলামের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পরবর্তী এক বছর তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’

গত ২০ ডিসেম্বর শৃঙ্খলা পরিদফতরের পরিচালক ফেরদৌসি বেগমের স্বাক্ষরিত দফতরাদেশে ওই দুই কর্মকর্তা যে দুই মাস সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন সে সময়কালকে পূর্ণ বেতনে কর্তব্যরত ছিলেন বলে গণ্য করা হয়। এতেও মহাপরিচালকের অনুমোদনের কথা বলা হয়। এভাবে শাস্তির পরিবর্তে মূলত তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।

এর আগেও টাস্কফোর্সের ভেরিয়েশন জরিপ রিপোর্টের পর একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১০ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া দু’জন প্রধান প্রকৌশলী, দু’জন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে শোকজ করা হয়।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কর্মরত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ উল্লাহ, উপসহকারী প্রকৌশলী সতেজ দেওয়ান, উপসহকারী প্রকৌশলী শৈ মং সিং, পটুয়াখালীর বাউফলে কর্মরত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল, উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন আকন্দ, গলাচিপার উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল হুদা।

পরে রাজনৈতিক তদবিরে জাবেদ ইকবালের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেন পাউবোর মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান। এছাড়া একই ঘটনায় বরিশালের প্রধান প্রকৌশলী (বর্তমানে পিআরএল) সাজিদুর রহমান সরদার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মজিবর রহমান, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান এবং চট্টগ্রামের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী একেএম সামছুল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিদ্দিকুর রহমান চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম জুলফিকার তারেককে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শোকজ করা হয়।

উল্লেখিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আমলে নেয়া হয়, তার মধ্যে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বড় মিঠানালা ও গুইট্যাখালী খাল খনন এবং একটি অংশে বাঁধ নির্মাণ কাজের প্রি-ওয়ার্ক জরিপে বড় ধরনের অনিয়ম তুলে ধরে টাস্কফোর্স।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যৌথ জরিপের তুলনায় এই এলাকার একটি প্রকল্পের খাল খননের তিনটি স্থানে ১৭৩ পার্সেন্ট, ২৮ পার্সেন্ট ও ৩৬ পার্সেন্ট বেশি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়, যা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সংস্থান রাখা হয়েছে।

এর আগেও মাটির কাজের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। এবারের জরিপেও এর ব্যতিক্রম করা হয়নি। এ ধরনের ব্যাপক অনিয়ম বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগের মতো বর্তমান প্রি-ওয়ার্ক সার্ভেতেও ভেরিয়েশন করা হয়েছে, যা চাকরিবিধির পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

গত ২১ জানুয়ারি দেয়া টাস্কফোর্স প্রধান কাজী তোফায়েল হোসেনের আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ‘চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ইনটেরিয়র ডাইক (বন্যার পানি ঠেকাতে চতুর্মুখী বাঁধ) নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। এই বাঁধ নির্মাণের প্রি-ওয়ার্ক যাচাই করতে গিয়ে টাস্কফোর্স দেখতে পায় যৌথ জরিপের তুলনায় ৫০ দশমিক ৮ পার্সেন্ট মাটি বেশি ধরা হয়েছে।’

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দেয়া চট্টগ্রামের মহামায়া খাল পুনর্খনন কাজের প্রি-ওয়ার্ক প্রতিবেদনে টাস্কফোর্স প্রধান উল্লেখ করেন, ‘যৌথ জরিপের তুলনায় ৪৪৬ দশমিক ৮৯ পার্সেন্ট বেশি মাটি খননের সংস্থান রাখা হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভয়াবহ ঘটনা।’

ঝালকাঠির বাঁধ নির্মাণের ৬টি প্যাকেজেও বড় ধরনের অনিয়ম পায় টাস্কফোর্স। এমনকি এসব কাজের দরপত্র মূল্যায়নেও অনিয়ম করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। পরে প্রথম দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করে কার্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়।

এর আগে একই প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১৮ জানুয়ারি দেয়া টাস্কফোর্স প্রদানের আরেকটি প্রতিবেদনে, প্রয়োজনের তুলনায় ৫০ দশমিক ৮ পার্সেন্ট মাটি বেশি ধরে প্রাক্কলন তৈরি করার অভিযোগ করা হয়। শৃঙ্খলা পরিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঝালকাঠির ৬টি প্যাকেজ নিয়ে টাস্কফোর্স যে অভিযোগ করে তাদেরও সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এমনকি তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্তকালীন পাওনাও মিটিয়ে দেয়া হয়। এটা নজিরবিহীন। এছাড়া পটুয়াখালীর দশমিনা এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণের তিনটি স্থানে ৩৪ পার্সেন্ট, ১০৬ পার্সেন্ট ও ১৯৪ পার্সেন্ট অতিরিক্ত মাটির সংস্থান রাখা হয়।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×