আ’লীগ নেতা রুহুল গ্রেফতার : হত্যার পরিকল্পনাকারীর সঙ্গে কথোপকথনের সত্যতা মিলেছে

পরিকল্পনা এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়ার কথা জবানবন্দিতে জানায় পপি * পুলিশ সদস্যের গাফিলতি থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন খতিয়ে দেখবে সিআইডি * মাদ্রাসার ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটি বাতিল * রিমান্ডে থাকা মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন পিবিআইর

  যুগান্তর রিপোর্ট, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন
সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার বিকালে সোনাগাজীর তাকিয়া রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীম ফোন করে রুহুল আমিনকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। রুহুল আমিন তখন শাহাদাতকে বলেছিলেন, ‘আমি জানি, তোমরা পালিয়ে যাও।’ ৬ সেকেন্ডের সেই টেলিফোন কথোপকথনের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। প্রযুক্তিগত তদন্তে এর সত্যতা পাওয়ায় তাকে রাফি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআই ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান শুক্রবার রাত ১১টার দিকে যুগান্তরকে বলেন, রাফি হত্যার ঘটনায় রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে রাফি হত্যায় সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

রাফি হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন উম্মে সুলতানা পপি। এদিন সন্ধ্যায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিনের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে পপি বলেন, রাফিকে তিনি নিচ থেকে কৌশলে ছাদে ডেকে নেন। রাফি হত্যার পরিকল্পনা এবং হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশ নেন। এ নিয়ে ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

রাফি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ১৩ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি বাতিল ঘোষণা করেছে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন জানান, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. আহছান উল্লাহ কমিটি বাতিল (বিলুপ্তির) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২-১ দিনের মধ্যে ৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মিশনে সরাসরি অংশ নেয়া কামরুন্নাহার মণিকে নিয়ে শুক্রবার ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পিবিআইর তদন্ত দল। এ দিন পিবিআইর একজন এসপির নেতৃত্বে রিমান্ডে থাকা মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে তদন্ত দল। গ্রেফতার মণির কাছ থেকে রাফি হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

রাফি হত্যার ঘটনায় অবৈধ অর্থের ব্যবহার হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি বলছে, মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন শিগগিরই তদন্ত শুরু করবে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম।

এছাড়া শুক্রবারও রাজধানী ঢাকা ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাফি হত্যার দ্রুতবিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অব্যাহত ছিল। এদিন সন্ধ্যায় রাফি হত্যার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবার। মিছিলটি ফেনী ট্রাংক রোড শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোয়েল চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

মামলার তদন্তের বিষয়ে পিবিআইর প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, রাফি হত্যার ঘটনার রহস্য এরই মধ্যে আমরা উদ্ঘাটন করেছি। এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের কয়েকজন এরই মধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যারা রিমান্ডে আছেন তারাও মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন।

পিবিআই জানায়, রাফি হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার মণিকে বুধবার ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যেরে ভিত্তিতে পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল শুক্রবার মণিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে যায়। সেখানে গিয়ে দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে।

পরে পিবিআইয়ের দলটি সোনাগাজী মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে রাফিকে কিভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দেন মণি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রুহুল আমিনকে আটকের বিষয়ে পিবিআই জানায়, রাফি হত্যা মামলার একাধিক আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রুহুল আমিনের নাম উঠে আসে। তাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে- হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে রাফির গায়ে আগুন দেয়া পর্যন্ত সব বিষয়ে রুহুল আমিন জানতেন।

এমনকি রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর শাহাদাতের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। অর্থ লেনদেনের বিষয়েও অনেক তথ্য পেয়েছে পিবিআই। এ বিষয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর হত্যাকারীদের রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন রুহুল আমিন। থানা পুলিশ ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।

পিবিআই সূত্র আরও জানায়, রুহুল আমিনের সহযোগী পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম আগুন দিতে খুনিদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাকসুদ পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠার পর তাকে রক্ষা করতে মাঠে নামেন রুহুল আমিন।

তার নির্দেশে অধ্যক্ষের পক্ষে মানববন্ধনের আয়োজন করেন মাকসুদ আলম। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে আত্মহত্যার নাটক সাজান রুহুল আমিন। অথচ রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর মামলার আরেক আসামি শাহাদাত তা রুহুল আমিনকে ফোন করে জানিয়েছিলেন। পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগও উঠেছে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় পপি : রাফি হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার দুঃসম্পর্কের ভাগনি (শ্যালিকার মেয়ে) উম্মে সুলতানা পপি। এই পপিই রাফিকে কৌশলে ছাদে নিয়ে যান। রাফি তার জবানবন্দিতে যে শম্পার কথা বলেছিলেন তিনিই (পপি) সেই কথিত শম্পা।

পিবিআই সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে পপি ওরফে শম্পা বলেছেন, রাফি হত্যাকাণ্ডের তিনটি সভার মধ্যে প্রথমটিতে মণি ও তিনি (পপি) উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় পপি ও মণি হাত বাঁধেন। জাবেদ হোসেন ও জোবায়ের আহমেদ কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। পরে তারা পরীক্ষার হলে অবস্থান করেন।

এ হত্যায় অংশ নিতে নুরুদ্দিন ও হাফেজ আবদুল কাদের তাদের নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। পপি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার দুঃসম্পর্কের ভাগনি। এদিকে রাফি হত্যার ঘটনায় শুক্রবার এজাহারভুক্ত আসামি জাবেদ হোসেনকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পিবিআই। এর আগে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। তিনি মামলার ৬ নম্বর আসামি।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, রাফি হত্যাকাণ্ডে যে দুজন নারী সদস্য জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ওরপে শম্পা একজন। তিনি জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা তদন্তে সিআইডি : রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোটা অঙ্কের মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে শিগগিরই সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি দল ফেনীতে যাবে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে রাফির ওপর চুন হামলা হয়েছে। শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনাতেই অবৈধ অর্থের ব্যবহার হয়েছে বলে সিআইডির কাছে তথ্য রয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তা মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, কেবল মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগই নয়, রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে কিনা- তাও খতিয়ে দেখবে সিআইডি।

সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইমের এএসপি শারমীন জাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে অমরা বুধবার থেকে অনুসন্ধান শুরু করেছি। অনুসন্ধান এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কিভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে সে বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোনাগাজী থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হবে। এরপর তদন্তকাজ শুরু হবে।

মানি লন্ডারিং সংশ্লিষ্টতা নিয়ে শনিবার (আজ) বেলা ১১টায় সিআইডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে বলে এএসপি শারমীন জাহান জানান। তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে সোনাগাজীর আলোচিত ওসি (সম্প্রতি প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে। এ হত্যাকাণ্ডে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যাদেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ফেনীতে প্রতিবাদ অব্যাহত : রাফি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুতবিচারের দাবিতে শুক্রবার ফেনীতে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। শুক্রবার সকালে ছাগলনাইয়া বাজারের জিরো পয়েন্টে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগ (জাসদ) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার।

মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ন্যাশনাল চিল্ড্রেনস টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) ফেনী জেলা। ফেনীর মেয়ে নুসরাত হত্যাসহ সারা দেশে শিশুদের প্রতি শ্লীলতাহানি, নিপীড়ন, সহিংসতা বন্ধ ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও মৌন প্রতিবাদ কর্মসূচিটি ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়।

একই দাবিতে ফেনী ল’ কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট একেএম মাজহারুল হক চৌধুরীর (রাশেদ মাযহার) নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারী, ফেনীর বিবেকবান প্রতিবাদী জনতা কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে (শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলের সামনে) মানববন্ধন করেন।

এদিকে রাফি হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন ফেনী-৩ আসন থেকে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি প্রার্থী দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আকবর হোসেন। শুক্রবার বিকালে তিনি রাফির বাড়িতে এসে এ দাবি জানান। প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি।

কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×