দুদক আইনের সংশোধিত বিধিমালার খসড়া

মামলা নিজ দফতরে চার্জশিট বিশেষ জজ আদালতে

অনুসন্ধান কাজ শেষ করার সময়সীমা ১৫ দিনের পরিবর্তে ৪৫ দিন * নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

  মিজান মালিক ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মামলা নিজ দফতরে চার্জশিট বিশেষ জজ আদালতে
মামলা নিজ দফতরে চার্জশিট বিশেষ জজ আদালতে

নিজ দফতরে মামলা দায়ের এবং চার্জশিট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে না দিয়ে সরাসরি বিশেষ জজ আদালতে দাখিল করার বিধান রেখে দুদক আইনের সংশোধিত বিধিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অনুসন্ধান কাজ ১৫ দিনের পরিবর্তে ৪৫ দিনে সম্পন্ন করাসহ বেশ কয়েকটি নতুন বিধানও সংযোজন করা হয়েছে এই বিধিমালায়।

ইতিমধ্যেই খসড়াটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয় ও দুদকের মধ্যে অনুষ্ঠেয় এক বিশেষ সভায় এটি চূড়ান্ত করা হবে। পরে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের করা বিধিমালা বিলুপ্ত হবে। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধিতে কাজ করতে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ কার্যদিবসে অনুসন্ধান কাজ শেষ করার বিধান অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে এ কাজ সম্পন্ন করা দুরূহ হয়ে উঠেছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, যে কর্মকর্তার কাছে দুর্নীতির ৩০টি ফাইল আছে, তিনি একটি অনুসন্ধান শেষ করতে মাত্র ৪ ঘণ্টা সময় পান। আবার এমনও কর্মকর্তা আছেন, যার কাছে ৬০টি অনুসন্ধান ফাইল আছে। কার্যদিবস হিসাব করলে তিনি সময় পান মাত্র ২ ঘণ্টা। একই কর্মকর্তার কাছে একাধিক মামলার তদন্তের ফাইলও থাকে। কিন্তু বেঁধে দেয়া স্বল্প সময়ে কাজ করতে গিয়ে দুদকের কর্মকর্তারা রাতদিন পরিশ্রম করেও ছোট-বড় অনেক অনুসন্ধানের কিনারা করতে পারছেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়েই কোনোরকম একটি অনুসন্ধান রিপোর্ট কমিশনে দাখিল করেন। তাদের দেয়া রিপোর্টে কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়, আবার কেউ পান অনুসন্ধান পর্যায়েই নিষ্কৃতি পান।

দুদক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুদকের নতুন ও সময়োপযোগী বিধিমালা না থাকায় সংস্থাটিকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে সেই ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ করা সরকারের বিধিমালায় কাজ করা প্রকৃত অর্থেই কাজের স্বাভাবিক গতি নষ্ট হচ্ছে।

কারণ সেই সময় ছিল বিশেষ টাস্কফোর্স। তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকালে তারা যে দফতরে হানা দিত, সেই দফতর থেকে বা যে কোনো ব্যক্তিকে নোটিশ দেয়ামাত্রই দ্রুততম সময়ে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত চলে আসত। আবার মামলাও হতো ‘রুই-কাতলা’ তথা হাতেগোনা লোকদের বিরুদ্ধে। সে কারণে ওই সময়ে করা বিধিমালা অনুযায়ী ১৫ দিনে কারও বিরুদ্ধে বা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ সহজ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক কিছুই বদলে যায়। বেড়ে গেছে মামলার সংখ্যাও। কিন্তু একটি গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী বিধির অভাবে অনুসন্ধান কাজে দুদককে পদে পদে হোঁচট খেতে হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে আগের তুলনায় আরও নির্ভুল ও সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধান কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ২০০৭ সালের বিধিতে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা নতুন বিধিতে অনুসন্ধান কাজে সময় বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছি। এটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসব। তিনি বলেন, সময় বদলেছে। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে লড়তে হলে অবশ্যই আপডেট বিধি থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দুদক কার্যালয়ে মামলা হলে আসামি কোথায় রাখা হবে সে নিয়ে এখন আর আমাদের ভাবতে হবে না। নিজস্ব হাজতখানা রয়েছে।

সূত্র জানায়, দুদকের পক্ষ থেকে একটি সংশোধিত খসড়া বিধিমালা তৈরি করে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারের কাছে পাঠানো হয়। সেটি ওই বছরের মে মাসে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে তোলা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কিছু বিষয়ে দুদকের কাছে ব্যাখ্যা ও নিজ দফতরে মামলা করার নজির বা উদাহরণ চাওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল- পাশের কোনো দেশে দুর্নীতি দমনের কাজে গঠিত কোনো সংস্থায় নিজ দফতরে মামলার নজির আছে কিনা। খোঁজখবর নিয়ে পরে দুদক থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, সিঙ্গাপুর, হংকং ও মিয়ানমারে দুর্নীতি দমন সংস্থার নিজ কার্যালয়ে মামলা দায়েরের বিধান আছে। এ পর্যায়ে সরকার বিধিমালাটি চূড়ান্ত করতে দুদকের মতামতকে প্রাধান্য দেয়।

বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধি, দুদক আইন ও বিধি অনুসরণ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা থানায় হাজির হয়ে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে থাকেন। কিন্তু দুদক মনে করছে, তারা স্বশাসিত স্বাধীন সংস্থা। এ সংস্থার পক্ষ থেকে দুর্নীতির মামলা দায়েরের জন্য থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে যে কোনো জেলা কার্যালয়ে এ মামলা রুজু করা যাবে।

দুদকে এজাহার দায়েরের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে দুদকের প্রস্তাবিত বিধিতে বলা হয়, ‘২০০৪ সালের আইন অনুযায়ী দুদক স্বাধীন। এ সংস্থার নিজস্ব অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আছে। মামলা পরিচালনার জন্য আছে নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট। দুদকের তফসিলভুক্ত যে কোনো অপরাধের জন্য থানায় এজাহার দায়ের বা থানার প্রতি মুখাপেক্ষী থাকা কমিশনের স্বাধীন ও স্বশাসিত সত্তার পরিপন্থী। এছাড়া থানায় এজাহার দায়েরের অবাধ সুযোগ থাকায় অযথা হয়রানির আশঙ্কাও থাকে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘দুদক বনাম মহীউদ্দীন খান আলমগীর’ মামলায় দুদকে এজাহার দায়েরের কথা আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ২০০৭ সালের বিধিমালার ২(ছ) ধারায়ও দুদক কার্যালয়ে দুর্নীতি মামলার এজাহার দায়েরের সুযোগ ছিল। কিন্তু বিধিতে সংশোধনী না আনায় কাজটা এতদিন করা সম্ভব হয়নি।’

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রায় হওয়ার আগেই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে দুদক। নিয়োগ দিতে পারবে রিসিভার। ওই সম্পদ পাহারার কাজটিও করবে দুদক। রায়ের আগে দুর্নীতিলব্ধ সম্পদ ক্রোক এবং রায়ের পর তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে কোনো আসামি যদি বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হন তবে তার সম্পদের ওপর থেকে ক্রোক আদেশ তুলে নেয়া হবে।

বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দিয়ে আসছে দুদক। কিন্তু এতে নানা ধরনের আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের পর কোনো কোনো সময় তা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পড়ে থাকে। শুনানির নামে সময়ক্ষেপণ হয়।

সেখান থেকে বিচারিক আদালতে যেতেও অনেক সময় পার হয়। সে কারণে চার্জশিট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল না করে সরাসরি সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে দাখিলের বিধান চায় দুদক। বিধান সংশোধনের প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘চার্জশিট সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দাখিলের জন্য বিধান সুস্পষ্ট করা দরকার। অন্যথায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।’ এ সংক্রান্ত আইনটি তুলে ধরে সংশোধন প্রস্তাবে বলা হয়, ‘দ্য ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৮-র ৪(২) ধারায়ও সংশ্লিষ্ট দায়রা জজকে সিনিয়র স্পেশাল জজ ঘোষণা করে অপরাধ আমলে নেয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার দেয়া আছে।’

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দেশের যে কোনো নাগরিক বা যে কোনো সংস্থা থানায় দুর্নীতির ঘটনায় মামলা করতে পারে। দুদকের আইনে ওই মামলা হলে পরে তা তদন্তের জন্য দুদকেই পাঠানো হয়। কিন্তু দুদক বিধিতে সংশোধনীতে বলা হয়, ‘পুলিশ দুদক আইনের মামলা পেলে তা মামলা হিসেবে নয়, সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের কাছে পাঠাবে। কারণ অনুসন্ধান ছাড়া দুদকের তফসিলভুক্ত আইনে মামলা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একদিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, অন্যদিকে হয়রানির শিকার হন।

এই বাস্তবতা সামনে রেখে দুদকের সংশোধিত বিধিতে বলা হয়, ‘কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে থানায় দায়ের করা অভিযোগ সরাসরি তদন্তের বিধান কিছুটা সাংঘর্ষিক। কারণ দুদক কার্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ অনুসন্ধান ছাড়া সরাসরি তদন্তের বিধান নেই। এছাড়া থানায় দায়ের করা মামলা সরাসরি তদন্তের জন্য নেয়া হলে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হয়রানির আশঙ্কা থাকে। ফলে পুলিশ এ ধরনের অভিযোগ পেলে তা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনধিক দুই কার্যদিবসের মধ্যে দুদকে পাঠাতে হবে।’

অন্যদিকে কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর দুদকের বিদ্যমান ২০০৭ সালের বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধানের আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে হয়। প্রস্তাবিত বিধিতে বলা হয়, এত অল্প সময়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়-সম্পদ বা বড় ধরনের দুর্নীতির অনুসন্ধান করা বাস্তবে কঠিন। সময় স্বল্পতার কারণে অনেক তথ্য অনুসন্ধানের বাইরে থেকে যায়। এ অবস্থায় সংশোধিত বিধিতে দুর্নীতির অনুসন্ধানের সময়সীমা ১৫ কার্যদিবসের পরিবর্তে ৪৫ কার্যদিবস করার প্রস্তাব করা হল।’

দুদকের বিধিতে ‘জ্ঞাত আয়’ সম্পর্কিত সংজ্ঞা না থাকায় তা সংজ্ঞায়িত করার কথা বলা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কার্যক্রম তদারক করা, তদারককারী কর্মকর্তা ও তার দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দেয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে। এছাড়া কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের বিধি করা বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে কেউ দুর্নীতির মামলা করলে তা গ্রহণ ও তদন্তের নির্দেশ দিতে সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতকে ক্ষমতা দেয়াসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয় বিধিমালায়।

বিধি অনুযায়ী কাউকে সম্পদের হিসাব দিতে নোটিশ জারির সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাকে দুদকের নির্দিষ্ট ছকে হিসাব বিবরণী দাখিল করতে হয়। এই সময়সীমা (৭ কার্যদিবসের পরিবর্তে) ২০ কার্যদিবস করার প্রস্তাব করে এতে বলা হয়, ২০ কার্যদিবসেও যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার সম্পদ ও দায়দেনার হিসাব দিতে না পারেন, তবে এর জন্য আরও ১০ কার্যদিবস চেয়ে দুদকে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ নোটিশ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও দায়দেনার হিসাব দিতে পারবেন।

এছাড়া বিচারাধীন কোনো দুর্নীতি মামলার আসামির মৃত্যু হলে তার রেখে যাওয়া সম্পদের কী হবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনার বিষয়টি এতে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ওই ব্যক্তির সম্পদ অবৈধই থাকবে নাকি ওই সম্পদ মৃত আসামির উত্তরাধিকাররা পাবেন সে বিষয়েও বিধিতে মীমাংসা থাকা দরকার। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো আসামির মৃত্যু হলে তার মামলা চলে না। দুদকের বিধির প্রস্তাবে বলা হয়, ‘বিচারের আগেই আসামির মৃত্যু হলে তার ক্রোককৃত সম্পদের জন্য উত্তরাধিকাররা আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

কীভাবে ওই সম্পদ অর্জিত হয়েছে সেটা প্রমাণ করবে উত্তরাধিকাররা। আদালত এ বিষয়ে শুনানি করবেন। শুনানিকালে উত্তরাধিকারদের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদন ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে যদি দেখেন, ওই সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, তবে তা অবমুক্ত করতে পারবেন। অন্যথায় তা রাষ্ট্রের কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হবে।’ দুদক চায় দুর্নীতি মামলায় জড়িত মৃত ব্যক্তির সম্পদ তার উত্তরাধিকাররা যেন পায়। আর এ কারণেই বিধিতে সংশোধন চাওয়া হয়।

দুদকের সাবেক কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন সংশোধিত বিধিমালার বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ফলে আমি মনে করি, দুদকের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা থাকা দরকার।

দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মো. মঈদুল ইসলাম বলেন, বিধিমালা চূড়ান্ত করতে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কয়েক দফা বসেছি। দুদকের যে সংশোধিত খসড়া বিধি, তাতে কিছু শব্দগত সংশোধনী ছাড়া বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। আশা করি, শিগগিরই সংশোধিত বিধিটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে এবং গেজেট হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের নভেম্বরে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দাতা সংস্থাগুলোর চাপে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। বিচারপতি সুলতান হোসেন খানকে চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মনিরুজ্জামান মিঞা ও অডিট ক্যাডারের মো. মনির উদ্দিনকে কমিশনার করে ওই সরকার দুদক গঠন করে। দুদকের আইনে সংস্থাটিকে দুর্নীতি দমনে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হলেও আইনটি বাস্তবায়ন কিভাবে হবে এ সংক্রান্ত বিধি না থাকায় ওই কমিশন ২০০৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি।

পরে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দুদককে সচল করে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। আর ওই সময়ই দুদকের জরুরি ভিত্তিতে একটি বিধিমালা তৈরি করা হয়। পরে তাতে সামান্য পরিবর্তন হলেও ওই বিধিমালা দিয়েই এত বছর কাজ করে আসছে দুদক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×