ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা

আইনি কাঠামোয় সিআইবি পরিচালনার উদ্যোগ

  দেলোয়ার হুসেন ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইনি কাঠামোয় সিআইবি পরিচালনার উদ্যোগ
আইনি কাঠামোয় সিআইবি পরিচালনার উদ্যোগ। প্রতীকী ছবি

আর্থিক খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) পরিচালনার জন্য আলাদা একটি আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় সিআইবি পরিচালিত হবে। এতে সিআইবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এর সদস্য হবে। এছাড়া এনজিও, সমবায় প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হবে সহযোগী সদস্য। সিআইবির সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বা পরোক্ষ সংযোগ থাকবে। ঋণ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। এ রকম আইনি কাঠামো রেখে সিআইবির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সিআইবির আইনি কাঠামো হলে গ্রাহকের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করা সব ধরনের আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক হবে। এতে তথ্য গোপন করে বা ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দেয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে ঋণের সব ধরনের তথ্য সিআইবিতে থাকবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঋণঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হবে। আর্থিক খাত সংস্কারের আওতায় এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন দেশের সিআইবি পরিচালনা এবং আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে সিআইবি পরিচালিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি বিভাগ হিসেবে। একজন মহাব্যবস্থাপক এর প্রধান। এছাড়া আছেন অন্য সব কর্মকর্তা। এ বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময় সার্কুলার ও গাইডলাইন জারির মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সিআইবিকে শক্তিশালী করার সময় এসেছে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। শুধু শক্তিশালী করলেই হবে না। আইনের বাস্তবায়নও করতে হবে। তিনি বলেন, সিআইবি সনদ ছাড়া যাতে কেউ ঋণ নিতে না পারে, খেলাপি হলে সে তথ্য যাতে সিআইবিতে জানানো হয় এসব বিধান করে সব প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সিআইবি থেকে তথ্য নিয়ে ব্যক্তি, কোম্পানি, ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি নিরূপণ করে সেগুলো সংশ্লিষ্টদের জানানো বা সতর্ক করার ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার বেড়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। সারা দেশে ৫৭টি ব্যাংকের প্রায় ১১ হাজার শাখা রয়েছে। ঋণ হিসাব রয়েছে এক কোটি ৬ লাখ ৪৫ হাজার। বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ সাড়ে আট লাখ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিটি হিসাবে ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকা। এর বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সমবায় প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকও ঋণ বিতরণ করে।

এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সিআইবিতে থাকলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো তথ্য সিআইবিতে নেই। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ ঋণ নিয়ে খেলাপি হলে বা বেশি মাত্রায় একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে তা শনাক্ত করার উপায় নেই। এতে একই ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বা ঋণ খেলাপি হলেও নতুন ঋণ নিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সব খাতের ঋণের তথ্য সিআইবিতে থাকলে এসব প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ জন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হলে সিআইবি রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। বর্তমানে শুধু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণ নিতে গেলে সিআইবি রিপোর্ট বাধ্যতামূলক। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো রিপোর্ট নিতে হয় না। এছাড়া ওইসব প্রতিষ্ঠান সিআইবির আওতায়ও নেই। এ কারণেই ঋণদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে সিআইবির আওতায় আনতে আইনি কাঠামো করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের অনেক দেশে সিআইবি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও এমনটি হলে সিআইবির ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি এর সক্ষমতাও বাড়বে। সিআইবির আইন ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিআইবিতে তথ্য গোপন করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো শাস্তির বিধান নেই।

এনজিও খাতে ঋণ শৃঙ্খলা আনতে ইতিমধ্যে ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতায় একটি সিআইবি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি হলে ক্ষুদ্রঋণের সব তথ্য এক জায়গায় থাকবে। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সংযোগ ঘটানোর উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে। সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একই ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায় কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সমবায় অধিদফতরকে বলা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×