প্রগতি সরণিতে ফুটওভারব্রিজ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও নির্মাণে টালবাহানা

কবে কাজ শুরু হবে, কবে শেষ- বলতে পারছে না কেউ * রমজানে ভয়াবহ যানজটের শঙ্কা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রগতি,

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বসুন্ধরা গেটসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভারব্রিজ (পদচারী সেতু) নির্মাণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এক মাসের মধ্যেই নির্মাণ হবে এ ফুটওভারব্রিজ।

সেই ১ মাস কেটে গেছে। কিন্তু এখনও ব্রিজের নকশাই চূড়ান্ত হয়নি। কবে নির্মাণ কাজ শুরু হবে, আর কবেই বা শেষ হবে তা নিয়ে এ পথ ব্যবহারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান আসন্ন। সে সময়ে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে তা নিয়ে ভেবে কূল পাচ্ছেন না তারা।

১৯ মার্চ ওই স্থানে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। পরদিন স্থাপন করা হয় এ ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর। এরপর নর্দ্দা থেকে কুড়িল চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কদ্বীপে লোহার শিকের বেড়া দিয়ে (মিডিয়ান ফেন্সিং) দিয়ে এ সড়কে যত্রতত্র পারাপার বন্ধ করেছে ডিএনসিসি। এ অবস্থায় বসুন্ধরা গেটসংলগ্ন দুটো জেব্রা ক্রসিংই ব্যস্ততম ও জনবহুল এ এলাকায় পারাপারের একমাত্র পথ। কর্মব্যস্ত ও সেবাগ্রহীতা লাখো মানুষ প্রতিদিন এ পথে যেমন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন, তেমনি এ পারাপারের কারণে প্রগতি সরণিতে যানজট নিত্য লেগেই থাকছে।

পবিত্র রমজান এলে মানুষের চলাচল স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বেড়ে যায়। তখন যানজট পরিস্থিতি আরও কত ভয়াবহ হবে, মানুষকে কী দুর্ভোগের মধ্যেই না পড়তে হবে কিংবা আরও কোনো আবরারের প্রাণহানি ঘটবে কিনা তা নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। কিন্তু এ ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলতে পারছেন না কিছুই। কবে নকশা অনুমোদন হবে, কবে কাজ শুরু হবে আর কতদিনে ওই ফুটওভারব্রিজ চালু হবে- এর উত্তর জানা নেই কারও।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শনিবার ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেটসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি প্রথমে আমরা চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) ছাড়াই করতে চেয়েছিলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এটি এস্কেলেটরসহ করার লক্ষ্যে নকশা প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে।’

কবে কাজ শুরু হবে, রমজানের আগে চালু করা সম্ভব কিনা- এ প্রশ্নে মেয়র বলেন, ‘এ বিষয়টি এখন আমি বলতে পারব না, তবে যে প্রতিষ্ঠানটি এ ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে পরে আপনাকে জানাতে পারব।’

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ফুটওভারব্রিজের প্রথম যে নকশা করা হয়েছিল, পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ কারণে সময় একটু বেশি লাগবে। তবে আমরা রোজার ঈদের আগেই বসুন্ধরা গেটসংলগ্ন প্রগতি সরণির ফুটওভারব্রিজ উদ্বোধনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছি।’

শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বসুন্ধরা গেটসংলগ্ন প্রগতি সরণিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, দুটো জেব্রা ক্রসিংয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মব্যস্ত মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা পারাপার হচ্ছেন। এক-দুই মিনিট পরপর মানুষ সিগন্যাল ছাড়াই, কয়েকজন মিলে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন। দ্রুতগতিতে গাড়িও চলছে, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে মানুষও পারাপার হচ্ছে। তবে কিছুক্ষণ পরপর যাত্রীদের পারাপারের জন্য গাড়িও থামছে। এতে এ সড়কে যানজট তৈরির পাশাপাশি গাড়ির গতিও কমে যাচ্ছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাশিদুল হাসান শনিবার দুপুর ২টায় বসুন্ধরা গেটে যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিন এ জেব্রা ক্রসিং দিয়ে আসা-যাওয়া করি। খুবই ভয় লাগে। জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামতে চায় না। এখানে মানুষ আর গাড়ির প্রতিযোগিতা হচ্ছে।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বিলকিছ আক্তার ঝিলিক যুগান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এরপর মেয়র এসে কত প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন, কিন্তু ১ মাস চলে গেলেও এখনও নির্মাণ কাজই শুরু হল না। অন্যদিকে সড়কে ফেন্সিং করা হয়েছে। জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামছে না, মানুষ ও গাড়ির দৌড়াদৌড়ি হচ্ছে। এতে সড়কে যানজট হচ্ছে, আমরাও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছি।

ঝিলিক আরও বলেন, এ এলাকায় এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, দেশসেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, বিশ্বমানের এ্যাপোলো হাসপাতালসহ সেবাধর্মী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। রোজার আগে এ ফুটওভারব্রিজ চালু না করলে রমজানে ও ঈদের আগে এ এলাকার মানুষ ও প্রগতি সরণি ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির অন্ত থাকবে না।

এলাকাবাসী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গৃহীত যুগান্তকারী এ উদ্যোগ দ্রুততম সময়ে বাস্তবে রূপ পাবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু এটিই সত্য যে, এর বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অবহেলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নানা টালবাহানা চলছে। তারা আরও বলেন, এখানে ফ–টওভারব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের।

সেই ব্রিজে এস্কেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) থাকবে সেটিও চাইছিলাম আমরা। কিন্তু নির্মিতব্য এ সেতুতে প্রথমে সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনায় সেটা (চলন্ত সিঁড়ি) ছিল না, জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তা (চলন্ত সিঁড়ি) যুক্ত হয়েছে। ছোটখাটো এসব বিষয়েও সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এরপরও যথাযথভাবে ও যথাসময়ে তা বাস্তবায়ন না হওয়া সরকারের জন্য নেতিবাচক ব্যাপার। এটা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাসচাপায় আবরার নিহত

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×