শেখ হাসিনাসহ বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

শ্রীলংকায় মানবতার ওপর হামলা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ হামলা।
শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ হামলা। ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৯০ জনের প্রাণহানি নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। ন্যক্কারজনক এ হামলায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা। নিন্দা ও ক্ষোভের পাশাপাশি সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ হামলার ঘটনাকে সমগ্র মানবতার ওপর হামলা বলে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। খবর এএফপির।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের প্রার্থনায় তিনটি চার্চ ও তিনটি হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলায় বহু লোকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। শেখ হাসিনা শ্রীলংকার সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ব্রুনাই দারুসসালামে আছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সারা বিশ্বের খ্রিস্টানদের পবিত্র দিনে গির্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় আমি শোকস্তব্ধ। এ হামলার দায়ীরা বিচারের মুখোমুখি হবে।’ ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এ হামলাকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর সহিংসতা’ বলে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এই ভয়ংকর হামলার খবর শুনে খুবই মর্মাহত। বিশেষ করে আজকের এই ইস্টারের দিনে এ হামলা গির্জাসহ অন্য স্থানগুলোতে সমবেত মানুষদের জন্য যে শোক এবং বেদনা বয়ে এনেছে তা খুবই দুঃখজনক।’

এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরদার্ন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সব ধরনের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানায়। ১৫ মার্চ আমাদের মাটিতে হামলার ঘটনা আমাদের আত্মার শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে এ ধরনের হামলা ভীষণ বিপর্যয়কর। এ ধরনের নৃশংসতা বন্ধে সম্মিলিতভাবে আমাদের অবশ্যই এর কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, ‘এটা পুরো মানবজাতির ওপর হামলা।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, ‘সবাইকে এক কাতারে এসে এ ধরনের বর্বর হামলা রুখে দিতে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে লেখেন, ‘শ্রীলংকায় ভয়ংকর আত্মঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমাদের উপমহাদেশীয় অঞ্চলে এই ধরনের বর্বরতার কোনো জায়গা নেই। এই দুঃসময়ে শ্রীলংকাবাসীর পাশে রয়েছি আমরা। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইটারে লেখেন, ‘ইস্টারের সকালে শ্রীলংকায় হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। শ্রীলংকার ভাইদের সমবেদনা জানাই। এই দুঃখের সময়ে পাকিস্তান তাদের পাশে আছে।’

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘ইস্টার উদযাপন করতে জড়ো হওয়া লোকজনকে এভাবে ভয়ংকর হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া খুবই বেদনাদায়ক।’ এক টুইটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা এ ধরনের জঘন্য কাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক জানাচ্ছি। শ্রীলংকার জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং ইস্টার ডে’তে প্রিয়জন হারানো সবার প্রতি সমবেদনা।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে দাঁড়াত হবে এবং কাউকে যেন কখনই আতঙ্কের সঙ্গে তার বিশ্বাস লালন করতে না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’ হামলায় হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের টুইট, ‘সন্ত্রাস এবং বর্বরতা কখনই আমাদের হারাতে পারবে না।’ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ জাঙ্কার বলেছেন, ‘আমি শ্রীলংকায় বোমায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর শুনে আতঙ্কিত এবং দুঃখিত।’

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলে রক্তাক্ত হামলার ভয়াবহ খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘শ্রীলংকার সাধারণ মানুষদের প্রতি অস্ট্রেলিয়া সহমর্মিতা ও সমর্থন জানাচ্ছে। দারুণ প্রয়োজনের এই সময়ে আমাদের পক্ষে যা যা সহায়তা দেয়া সম্ভব, আমরা সবটুকু দিতে প্রস্তুত।’

ট্রাম্পের তথ্য বিভ্রাট : শোক জানাতে গিয়ে তথ্য বিভ্রাট তৈরি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভুল করে নিহতের সংখ্যা ১৩ কোটি ৮০ লাখ লিখে টুইট করেছেন তিনি। এ নিয়ে নিন্দা নিয়ে সমালোচনা হয়। অবশ্য ১০ মিনিটের মধ্যেই টুইটটি মুছে ফেলা হয়। তবে টুইটার ব্যবহারকারীরা ওই টুইটের স্ক্রিনশট টুইট করে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন।

শোকে অন্ধকার রাখা হবে আইফেল টাওয়ার : শ্রীলংকায় বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার মধ্যরাত থেকে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের বাতি নিভিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম আশ্চর্য স্থাপত্য অন্ধকার রেখে হামলায় হতাহতদের প্রতি সম্মান জানাতে অন্ধকার রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক টুইটে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আজ রাত ১২টায় আমরা সব বাতি নিভিয়ে শ্রীলংকা হামলায় হতাহতদের প্রতি সম্মান জানাব। এর আগে ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারে আরিয়ানা গ্রান্দ্রের কনসার্টে বোমা হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আইফেল টাওয়ার অন্ধকার রাখা হয়েছিল। একই পদক্ষেপ নেয়া হয় শার্লে এবদো ম্যাগাজিনে হামলার ঘটনার পরও।

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ হামলা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×