আরও ৪ মামলায় গ্রেফতার খালেদা জিয়া

জামিন বিলম্বের আশঙ্কা

চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ৩ ডজন মামলা * ১৮ ফেব্রুয়ারি ও ২৪ মার্চ আদালতে হাজির করার নির্দেশ * পুলিশের ওপর হামলা মামলায় হুকুমের আসামি করা হতে পারে * ৩ হাজার পৃষ্ঠার কোর্টফলিও আদালতে দাখিল

  হাসিব বিন শহিদ ও আহমদুল হাসান আসিক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আরও চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ফলে এখন তাকে কারামুক্তি পেতে হলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসহ মোট ৫টি মামলায় জামিন নিতে হবে। প্রত্যেক মামলায় আলাদাভাবে জামিন নিতে সময় লাগবে। জামিন না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারেই থাকতে হবে। নতুন করে গ্রেফতার দেখানো মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। বিএনপির আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, এক মামলায় জামিন হলে আরেকটিতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর নতুন কৌশল নিয়েছে সরকার। তিনি যাতে দ্রুত কারাগার থেকে মুক্ত হতে না পারেন সেজন্য এসব করা হচ্ছে। একই কারণে ৩০ জানুয়ারি আদালত থেকে ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে কর্মী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, চার মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকার দুটি, কুমিল্লার একটি এবং নড়াইলের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। এসব মামলায়ও জামিনের আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে। তিনি যেন কারাগার থেকে বের না হতে পারেন, এজন্য সরকার একটার পর একটা এ ধরনের কাজ করবে।

জানা গেছে, নতুনভাবে গ্রেফতার দেখানো চারটি মামলার মধ্যে দুটির গ্রেফতারি পরোয়ানা (প্রডাকশন ওয়ারেন্ট) কারাগারে পৌঁছেছে। বাকি দুটির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ সোমবার কিছু বলতে পারেনি। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন যুগান্তরকে জানান, শাহবাগ ও তেজগাঁওয়ের দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে হাজিরের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন আদালত। কুমিল্লার মামলা সংক্রান্ত কোনো কাগজ কারা কর্তৃপক্ষ পায়নি বলেও জানান তিনি। একটি মামলায় ১৮ ফেব্র“য়ারি ও অপর মামলায় ২৪ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ পেয়েছেন।

সোমবারও জিয়া অফরানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সার্টিফায়েড কপি পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন এ মামলার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এখনও পর্যন্ত বিচারক এ মামলার রায় ও আদেশ প্রস্তুত করে নিজ এখতিয়ার থেকে ছাড়েননি। বিচারক রায় ছেড়ে দেয়ার পর সেরেস্তাদার, পেশকার বা স্টাফ ওই ফাইল (রায়) টাইপের জন্য দেবেন। এরপর চার ধাপে সে রায় চেক করা হবে। তারপর তুলনাকারীর কাজ, চেকিং, পাঁচজনের স্বাক্ষর হবে। এরপর হল কোর্টফলিওর বিষয়। এখনও রায়ই নামেনি। আইনজীবী বলেন আমরা সব বিষয়ে প্রস্তুত।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে আজ আপিল দায়েরে অনিশ্চিত। একই সঙ্গে পিছিয়ে যাবে এই মামলায় জামিন আবেদনের বিষয়টিও। এ মামলায় জামিনের পর আরও চারটিতে জামিন নিতে হবে। একটিতে এত সময় লাগছে অন্যগুলোতে আরও সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালত থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের জামিনের কাজ শেষ করতেই অনেক দিন লাগতে পারে। সে পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এক মামলায় জামিন পেলে আরেক মামলায় খালেদা জিয়াকে সরকার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য সরকার নতুন ডিভাইস নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি সোমবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেন, কুমিল্লার একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। কুমিল্লা ও খুলনা থেকে আরও কিছু মামলা আনা হচ্ছে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য। কুমিল্লার মামলাটিতে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, এফআইআরে তার নাম নেই, তাকে কোনো সমন দেয়াও হয়নি, অথচ সেই মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) ঘটনার সময়ে গুলশান অফিসে গৃহবন্দির মতো ছিলেন। চেয়ারপারসন জিয়া অরফানেজ মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

যে চার মামলায় গ্রেফতার খালেদা জিয়া : গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম গত বছরের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। গত বছরের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে মানহানি মামলায়ও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী এ মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান গত বছরের ২৫ ফেব্র“য়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৮ জন হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর নড়াইলে মানহানির অভিযোগে করা এক মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আদালতে ৩ হাজার পৃষ্ঠার কোর্টফলিও দাখিল : খালেদা জিয়ার সাজা হওয়া মামলার ৬৩২ পৃষ্ঠা রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে সোমবার তিন হাজার পৃষ্ঠার কোর্টফলিও দাখিল করা হয়েছে। ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অনুলিপি শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা এ কোর্টফলিও দাখিল করেন। কোর্টফলিওর সঙ্গে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পও দেয়া হয়েছে। এদিকে সার্টিফায়েড কপি পেয়েই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল ও খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করার কথা রয়েছে। কিন্তু মামলার সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল ও খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করতে পারেননি। খালেদা জিয়ার আপিল ও জামিন আবেদন করে শুনানি করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আদালতে তিন হাজার পৃষ্ঠার কোর্টফলিও জমা দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পও দেয়া হয়েছে। ওই কোর্টফলিওতে রায়ের অনুলিপি (সার্টিফায়েড কপি) প্রস্তুত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবাস যেন দীর্ঘ না হয় সে লক্ষ্যে ‘সহজ উপায়ে’ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

চলতি মাসের ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। রোববার আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন সুবিধা দেয়া হয়েছে।

খালেদাকে হুকুমের আসামি করা হতে পারে : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৩০ মার্চ আদালত থেকে ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কর্মী ছিনতাইয়ের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হতে পারে। ওই দিন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে হুকুমের আসামি করা যায় কিনা এ বিষয়ে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে। এছাড়া ৮ ফেব্র“য়ারি আদালতে যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে হামলা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনায় শাহবাগ ও রমনা থানায় ৫টি মামলা হয়েছে। ওই মামলাগুলোতেও খালেদা জিয়াকে আসামি করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়ন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে সোমবার ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ৩০ জানুয়ারি পুলিশের ওপর হামলা এবং ৮ ফেব্র“য়ারি হামলা ও জ্বালাও-পোড়ায়ের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ঘটনায় খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, আদালতকে সেসব বিষয়েও অবহিত করা হবে। এছাড়া যেসব মামলায় তিনি জামিনে আছেন, সেগুলোও অবহিত করা হবে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা : খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা চলমান। এসব মামলার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে তিনি কারাভোগ করছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া অন্য মামলাগুলো বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুদক প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক চলছে। ২৫ ও ২৬ ফেব্র“য়ারি এ মামলায় আসামিপক্ষের পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়াও বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার আরও ১৪টি মামলার বিচারকার্য পরিচালনার আদেশ হয়েছে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ওই আদেশ দেয়া হয়েছে। মামলাগুলো হল- রাজধানীর দারুসসালাম থানার আটটি নাশকতার মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার যাত্রী হত্যা মামলা, মানহানি মামলা দুটি, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা, নাইকো দুর্নীতি মামলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার শুনানি ১২ মার্চ ও ১০ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে।

এদিকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় ৪ ফেব্র“য়ারি রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসানের আদালতে আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চার্জ (অভিযোগ) গঠন শুনানি হয়েছে। আংশিক চার্জ শুনানিতে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার হকদার বলে আদালতকে জানিয়েছেন। আংশিক শুনানি শেষে ওই দিন বিচারক পরবর্তী শুনানির জন্য ১১ মার্চ দিন ধার্য করেন।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ২১ জানুয়ারি চার্জ গঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন দুই আসামির পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় চার্জ শুনানি পেছানোর আবেদন করে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে চার্জ শুনানির জন্য ৪ মার্চ দিন ধার্য করেন।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন সংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ারের মৃত্যুসংক্রান্ত প্রতিবেদন ও দুই আসামির পক্ষে মামলা হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ থাকায় আসামিপক্ষে সময় আবেদন করা হয়। হরতাল-অবরোধে ৪২ জনকে পুড়িয়ে হত্যা মামলাও রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। সারা দেশে হরতাল-অবরোধে ৪২ জনকে পুড়িয়ে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য রয়েছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি গুলশান থানা পুলিশ তা দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. খুরশীদ আলম প্রতিবেদন দাখিলের ওই দিন ধার্য করেন।

ড্যান্ডি ডাইং কোম্পানির ঋণ খেলাপির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৬ বিবাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৬ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। খালেদা জিয়া ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানি ও বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৮ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে করা অপর একটি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×