পিন্টুর স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল

সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না

প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে না যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত ওই মুহূর্তে সঠিক ছিল না বলে স্বীকার করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক স্মরণসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সস্তা স্লোগান দিলে চলবে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কারণ, দু’দিকেই লড়াইটা করতে হবে। ভেতরে থেকেও কথা বলতে হবে, বাইরে থেকেও কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে বলেছিলাম সংসদে যাব না। সেই সিদ্ধান্ত ওই মুহূর্তে সঠিক ছিল না। এটা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। এ সরকারের বিরুদ্ধে সব জায়গায় থেকে লড়াই করতে হবে। এ জন্য পথ তৈরি করে দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে- রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই। এটা পরিবর্তন হয়। ১৯৯০ সালের যে চিন্তা-ভাবনা ছিল সেই পরিস্থিতি কি ২০১৯ সালে আছে। সুতরাং আমাদের ২০১৯ সালের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ,বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তিতে পথ বের করার চেষ্টা চালাতে হবে। ২০০১ সালের অবস্থা এবং এখনকার অবস্থা কি এক। রাশিয়ার বিপ্লব ১৯১৭ সালে হয়েছিল, এখন কি সেই রাশিয়া আছে। তিনি বলেন, শুধু নেগেটিভ চিন্তা করে এগোনো যাবে না। পজেটিভ চিন্তা করতে হবে। যখন যেখানে যতটুকু সুযোগ পাওয়া যাবে সেই সুযোগ নিয়ে আমাদের এগোতে হবে।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুর ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কেন্দ্রীয় নেতা শাহিন শওকত, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসিন আলী, শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ পুরান ঢাকার নেতারা বক্তব্য দেন।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জয়লাভ করে বিএনপি। ‘প্রহসনের নির্বাচন’ অভিহিত করে দলটি সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা সংসদে যাবে না। পরে অবশ্য মির্জা ফখরুল বাদে বাকি পাঁচজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। দলীয়ই সিদ্ধান্তেই তারা শপথ নিয়েছেন বলে জানানো হয়।

বিএনপি ‘ঐক্যবদ্ধ’ বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ আছে, এতটুকু সমস্যা নেই। আমরা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। এ কঠিন-সংকটময় মুহূর্তে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সময়টি পার করতে হবে। এজন্য আমাদের কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিপদকে সামনে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আপনারা কখনও নিরাশ বা হতাশ হবেন না। কোমর বেঁধে সোজা হয়ে দাঁড়ান।

এক নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, দলের বিষয়ে কোনো কথা থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করুন। দলের বাইরে কিছু না বলার জন্য অনুরোধ জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার শুধু গণতন্ত্রেরই ক্ষতি করেনি, দেশেরও ক্ষতি করেছে। আজকে অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যতই বলুক এখানে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, অর্থনীতির ভীষণ উন্নয়ন হয়েছে, চারিদিকে একেবারে গমগম করছে অর্থনীতি। বাস্তবে অর্থনীতি ভয়ংকর অবস্থায়। কয়েকদিন আগে সিপিডি বলছে, দেশে ১২শ’ গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে যেটা থেকে আমাদের বেশি রাজস্ব আসে। রেমিটেন্স ২৬ ভাগ কমে গেছে। আপনি বানাচ্ছেন বড় বড় মেগা প্রজেক্ট, ফ্লাইওভার, ঢাকা শহরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল। খুব ভালো কথা। এটারও প্রয়োজন আছে। তবে একই সঙ্গে আমদের মানুষ যাতে নিরাপদে হাঁটতে পারে, নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারে, আমাদের ছেলেমেয়েরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারে, আমাদের মেয়েরা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তাকে যেন ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে না হয়, কথায় কথায় খুন না হয়, কথায় কথায় হত্যা না হয়- এ জিনিসগুলো দেখতে হবে।

বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে আবারও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া আজকে গুরুতর অসুস্থ। আমরা বলে দিতে চাই, কারাগারের মধ্যে তার যদি স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে তার সব দায়-দায়িত্ব এ সরকারকেই বহন করতে হবে।

এ সময় নাসিরউদ্দিন পিন্টুর স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, পিন্টু এমনি মারা যাননি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।