খালেদা জিয়ার কারাবাস

বিএনপি আরও ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয়

নিয়মিত কার্যালয়ে বসছেন সিনিয়র নেতারা * প্রয়োজনে একসঙ্গে থাকা বা রাত কাটানোর পরিকল্পনা

  হাবিবুর রহমান খান ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের ভেতর ‘ইস্পাত কঠিন’ ঐক্য গড়ে উঠছে। সব ভেদাভেদ ভুলে একই পতাকাতলে সবাই সক্রিয় হচ্ছেন।

দলটির একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর দলে বিভেদ বা ভাঙন সৃষ্টির যে শঙ্কা করা হয়েছিল, তা আর হচ্ছে না। নানা মাধ্যমে চাপ আর হুমকি থাকার পরও কোনো নেতা আপস করছেন না। ওই নেতা মনে করেন, বিএনপি আগের চেয়ে অনেক ঐক্যবদ্ধ। নেত্রীর সঙ্গে জনগণ আছে। সাময়িক এ প্রতিকূল পরিস্থিতি শিগগিরই কাটিয়ে উঠবে তারা। তাই এ মুহূর্তে দলের বিপক্ষে গিয়ে কেউ আর বিশ্বাসঘাতক হতে চাচ্ছেন না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের ঐক্য আরও মজবুত ও তা ধরে রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যে কোনো ইস্যুতে সিনিয়র নেতারা প্রতিদিন একসঙ্গে বসছেন। পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে তারা পরামর্শ করছেন। খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কর্মসূচিতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থিত থাকছেন। কর্মসূচি পালনের আগে প্রত্যেক নেতাকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কোনো নেতা একদিন কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলে কেন আসতে পারলেন না তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, দলের ঐক্য ধরে রাখতে সিনিয়র নেতারা প্রতিদিন গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসছেন। সব নেতা যাতে প্রতিদিন কার্যালয়ে আসেন সেই উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সিনিয়র নেতারা দুপুরে কার্যালয়ে রান্না করে একসঙ্গে খাবেন। যাতে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা পৌঁছে যায়। দলের ভাঙন ঠেকাতে বা ঐক্য ধরে রাখতে সিনিয়র নেতারা প্রয়োজনে রাতে একসঙ্গে থাকারও চিন্তাভাবনা করছেন। কোনো নেতাকে যাতে কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে দলে নিষ্ক্রিয় বা দল ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে না পারে, সেজন্যই এসব চিন্তাভাবনা চলছে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বিএনপিকে ভাঙা বা কয়েক নেতাকে দল ছেড়ে দেয়ার বিশেষ পরিকল্পনার একটা গুঞ্জন রয়েছে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে নেতাদের দল ছাড়ার প্রস্তাব দেবে। এতেও যদি কাজ না হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাকে নানা মাধ্যমে হুমকি দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি মামলা বা গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তাদের কাবু করা হতে পারে। এমন গুঞ্জন বাতাসে ভাসছে। তবে গুঞ্জন বা সত্যি যাই হোক আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ। শুধু তাই নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতারা রাজপথে সক্রিয়ও। সব প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

দলে বিভেদ বা দল ভাঙার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, মামলা-হামলা, গুম-খুনের পরও একজন কর্মী দল ছেড়ে যাননি। আমাদের আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। তাই শেষ মুহূর্তে কেউ দল ছেড়ে যাবে বলে আমি মনে করি না। বরং যারা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন দলের এই পরিস্থিতিতে তারা আরও সক্রিয় হচ্ছেন।

ফখরুল আরও বলেন, দেশের এই চরম সংকট কাটিয়ে উঠতে বা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা বদ্ধপরিকর। যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত। আন্দোলন সফলে আমরা রাজপথে থাকব। সেখান থেকে জেলে গেলেও আমরা পিছু হটব না।

৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর শনিবার বিকালে দলের নীতিনির্ধারকরাসহ ৫ আইনজীবী তার সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মাধ্যমে কিছু বার্তা দেন চেয়ারপারসন। এ সময় খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন দলের ঐক্যের দিকে। এক আইনজীবী নেতা যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন ঐক্যের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, দলের এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার মূলমন্ত্র হচ্ছে ঐক্য। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই বিএনপিকে পরাজিত করতে পারবে না। কারণ দেশের জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। এদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সার্বিক বিষয় তদারকি করছেন। নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন। তাদের সাহস দিচ্ছেন।

দলের ঐক্যের ব্যাপারে কারাগারে যাওয়ার আগেও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। এবার কেউ দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও তাদের আর ক্ষমা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। চেয়ারপারসনের এমন কঠোর বার্তার সবাই সতর্ক।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি বর্তমানে সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ। যে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে নেতাকর্মীরা ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে প্রস্তুত আছেন। আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপিকে কোণঠাসা করতে সরকারের যে ষড়যন্ত্র তা এবার সফল হবে না। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের কাছে সরকার পরাজিত হবেই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বেই আমরা ওই নির্বাচনে যাব। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। বিএনপি এখন অনেক ঐক্যবদ্ধ। কোনো চাপের মুখে কেউ দল ছেড়ে যাবেন বলে আমি মনে করি না।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter