ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

অর্ধশত বিতর্কিত নেতাকর্মী

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনর্গঠনের দাবি, গণপদত্যাগ ও অনশনের হুমকি * প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান পদবঞ্চিতরা * সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই নারী নেত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ

  মাহমুদুল হাসান নয়ন ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সম্মেলনের এক বছর পর গঠিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তত অর্ধশত বিতর্কিত নেতাকর্মী স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে বিবাহিত, চাকরিজীবী, অছাত্র, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছেন।

আছেন গঠনতন্ত্র নির্ধারিত বয়সোত্তীর্ণ, মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত এবং বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত ও সাজাপ্রাপ্তরাও।

শুধু তাই নয়, অতীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগবিরোধী অবস্থান ছিল এবং দলের দুঃসময়ে নিষ্ক্রিয় ছিলেন- এমন অনেকে পদ পেয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আছেন, যারা প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

স্বজনপ্রীতি ও অঞ্চলপ্রীতির মাধ্যমেই মূলত অযোগ্যরা পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, সংগঠনের ২৯তম সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী এবং সর্বশেষ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ ও অবস্থানে ছিলেন- এমন অন্তত ৫০ জনকে পদবঞ্চিত করা হয়েছে অথবা প্রত্যাশিত পদ দেয়া হয়নি।

সোমবার ঘোষিত ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক ও নতুন করে পদ পাওয়া প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ও এ ইউনিটের বিভিন্ন হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পদবঞ্চিত আরও অন্তত ৪০ জন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যথায় গণপদত্যাগের হুশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি সোমবার মধুর ক্যান্টিনে নারী নেত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও জড়িতদের শাস্তি চেয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। এছাড়া কমিটিতে বিভিন্ন অসঙ্গতি ও পরে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে ‘ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক’ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান পদবঞ্চিতরা। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কমিটির অন্তত অর্ধশত নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পদবঞ্চিতদের।

যাদের বিরুদ্ধে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সহ-সভাপতি সোহানী হাসান তিথি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক আফরিন সুলতানা লাবণী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক উপ-সম্পাদক রকিবুল ইসলাম সাকিব, সহ-সম্পাদক আঞ্জুমানারা অনু ও সামিহা সরকার সুইটিসহ আরও দু’জন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, দু’জন উপসম্পাদক এবং একজন সহ-সম্পাদক।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তির ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আর যাদের বিরুদ্ধে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন- সহ-সভাপতি বিএম শাহরিয়ার হাসান (সৃজন ভূঁইয়া)। তিনি অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

সহ-সভাপতি এসএম হাসান আতিক ৩৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পাদক পদে রয়েছেন এমন একজন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত বিবাহিত আঞ্জুমানারা অনু পেয়েছেন সহ-সম্পাদক ও একই অভিযোগে অভিযুক্ত আরেকজন পেয়েছেন সহ-সভাপতি পদ। হত্যা মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন সহ-সভাপতি পদ।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ২৯ বছর বয়সোত্তীর্ণ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল ভূঁইয়া তানভীর হয়েছেন ২নং সহ-সভাপতি। এর আগে অস্ত্রসহ সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। সহ-সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ সোহেল রানার বয়স ত্রিশের ঊর্ধ্বে।

পদবঞ্চিতরা আরও জানান, মাদক সেবনের অভিযোগ ছিল সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে। সংগঠনটির ২নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরীকে নকলের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আরও একজন সহ-সভাপতিকে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক মামলা রয়েছে আরেক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে।

এছাড়া সহ-সভাপতি হয়েছেন রুহুল আমিন। তিনি এর আগে গাজীপুর সদরের কাউলাতিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহ-সভাপতি এসএম তৌফিকুল হাসান সাগরের বাবার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। সহ-সভাপতি মুনমুন নাহার বৈশাখীর বাবা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষারের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগবিরোধী রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।

একই অভিযোগ আছে আরও এক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে। সহ-সম্পাদক সামিহা সরকারের বাবাও বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ আছে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাকিনুল হক চৌধুরী ছোটন বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর আপন ছোট ভাই বলে জানা যায়। এসবের বাইরে মল চত্বরে পহেলা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত অন্তত ২০ জন এবারের কমিটিতে রয়েছেন।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দুটি প্রধান কারণের কথা বলছেন। প্রথমটি হল, কমিটি গঠনে বিলম্ব এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে- সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব।

কমিটি গঠনে বিলম্বের ফলে একেকজন নেতাকর্মীর শিক্ষা জীবন থেকে প্রায় দুই বছর করে হারিয়ে গেছে। কারণ গত বছরের ১১ ও ১২ মে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই ছাত্রলীগের দু’দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হয়।

সম্মেলনের অন্তত এক বছর আগে থেকে শীর্ষ পদের (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) জন্য তখনকার শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘সময় দেয়া’ এবং লবিং তদবিরে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পদপ্রত্যাশীদের। ফলে পড়াশোনায় খুব বেশি সময় দেয়ার সুযোগ হয়নি তাদের।

এমন পদপ্রত্যাশী ছিলেন ৩২৩ জন। সেখানে পদ না পেয়ে সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই গঠিত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ পেতে সময় দিতে হয়েছে তাদের। এরপর অন্তত ১৫ দফায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েও ব্যর্থ হন শোভন-রাব্বানী।

কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেঁধে দেয়া সময়ের (চলতি বছরের ২২ এপ্রিল) মধ্যেও কমিটি গঠন করতে পারেননি তারা। এর আগে উপেক্ষা করা হয়েছে আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বেঁধে দেয়া সময়। পরে ১৩ মে ঘোষণা হয় ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত যারা ছাত্রলীগে পদবঞ্চিত হন বা কাঙ্ক্ষিত পদ পান না, পরে তাদের অনেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হন। সরকারি ভালো চাকরির দিকেই ঝোঁক থাকে এদের বড় একটি অংশের।

এক্ষেত্রে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিু মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর চাকরির চাপ রাজনীতি থেকে তাদের দূরে সরতে বাধ্য করে। দীর্ঘ দুই বছরে ৩৮তম, ৩৯তম (বিশেষ) ও ৪০তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু এ লম্বা সময়ে সাংগঠনিক ব্যস্ততায় গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা এবং এ বছরের চলতি মাসে অনুষ্ঠিত ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অনেকেই অংশ নেননি অথবা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিতে পারেননি। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া কমিটি গঠনে দীর্ঘ বিলম্ব প্রত্যাশা বাড়াতে কাজ করেছে।

এর বাইরে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১১(খ) ও (গ) ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যকাল দুই বছর। ফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য নেতারা সময় পাচ্ছেন মাত্র এক বছর। এসব বিষয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে সর্বশেষ দুই কমিটির অন্তত তিন শতাধিক নেতার বর্তমান কমিটিতে রাজনীতি করার বয়স রয়েছে। তখনকার কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কমিটি গঠনে সমন্ব^য় না করার অভিযোগ ছিল বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। পরে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান নেতৃত্বকে সাবেকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী সাবেকদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কমিটিতে যারা বাদ পড়েছেন তাদের অধিকাংশই সাবেকদের অনুসারী বলেই পরিচিত।

সে কারণেই তাদের বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পদবঞ্চিতদের। তবে ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, সাবেকদের অনুসারী হিসেবে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণেই তাদের বাদ দেয়া হয়েছে।

ডাকসুর যেসব নেতাকে কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বা গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়নি, তাদের বিষয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য হল- তারা যেহেতু একটি পদে আছে, তাই অন্যদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ডাকসু থেকে পদবঞ্চিতদের বক্তব্য, ‘তাহলে তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয়ে কেন জিএস হয়েছেন? বাদ দিলে সবাইকে না দিয়ে কেন ডাকসুর তিন সম্পাদককে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হল?’

বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের অন্যতম একটি কারণ হল তাদের নিয়মিত ছাত্র রাজনীতির আঁতুড়ঘর মধুর ক্যান্টিনে প্রত্যাশা অনুযায়ী না পাওয়া। অতীতের তিন কমিটির শীর্ষ নেতারা দিনের প্রথম ভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এলেও, বর্তমান নেতৃত্বকে এক্ষেত্রে অনেকটা ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তারা সাধারণত দুপুরের পর এখানে আসতেন।

ফলে তাদের কাছে নেতাকর্মীদের কথা বলার সুযোগও কিছুটা সীমিত হয়ে গিয়েছিল। বিলাসী গাড়িতে চলাফেরা, অধিকাংশ সময় বাসায় থাকা ও বাসায় কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে উপজেলা কমিটি গঠন ও বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন না করা। এসব বিষয় বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের অন্যতম কারণ। এছাড়া কমিটিতে নির্দিষ্ট এলাকার প্রাধান্য, কিছু অঞ্চল উপেক্ষিত করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে নেতৃত্ব কম আসা এবং নারী নেত্রীদের প্রাধান্য কম থাকা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক।

তবে বর্তমান নেতৃত্বের অনুসারীদের দাবি, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বর্তমান ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েছেন, তাই তাদের বিতির্কত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, কমিটি থেকে যদি কোনো ত্যাগী নেতা বাদ পড়ে যান তবে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি জানাব। তিনিই বিষয়টি দেখবেন। এ সময় তিনি সবাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, এ কমিটি নেত্রী (শেখ হাসিনা) দিয়েছেন। যারা এ কমিটির বিরোধিতা করছেন তারা নেত্রীর বিরোধিতা করছেন। কমিটি গঠন করা হয়েছে আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতা এবং ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করে। সেখানে যারা যোগ্য তাদেরই পদ দেয়া হয়েছে।

সবাইকে সুযোগ দেয়াতো সম্ভব নয়। সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেই নাম দিয়েছেন তার থেকে সরাসরি ৯০ জনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেয়া হয়নি। যোগ্যতা থাকার পরেও অন্তত ৫ হাজার নেতাকে আমরা পদ দিতে পারিনি এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি মোটেও যৌক্তিক নয়।

পদবঞ্চিতদের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাদেরই বাদ দেয়া হয়েছে। বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অকাট্য দলিল থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নেতাকর্মীদের সময় কম দেয়া এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে এসে নেতাকর্মীদের কখনও ফিরে যেতে হয়নি। সব সময় তাদের জন্যই কাজ করেছি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সারা দেশের ইউনিটগুলো নিয়ে কাজ করতে হয়।

তাই এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তি নেই। মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এর প্রতিবেদন যাই আসুক পাবলিকলি আমরা প্রকাশ করব।

পদবঞ্চিতদের আলটিমেটাম : এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন পদবঞ্চিতরা। কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে দু’দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

তা না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এ হুমকি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু বলেন, যারা বিগত সময়ে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক পদে মূল্যায়ন করা হয়নি।

যারা নিষ্ক্রিয়, সাবেক চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে যারা ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার হয়েছিল তাদেরই ছাত্রলীগে পদায়ন করা হয়েছে। এটা আমাদের ব্যথিত করেছে।

তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। এ সময় দাবি না মানলে অনশন ও গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন নতুন কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক নিপু তন্বী।

তিনি শামসুন নাহার হলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সদস্য। রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি বিএম লিপি আক্তার বলেন, কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা শোভন-রাব্বানী কমিটির ৮-১০ মাস রাজনীতি করেছেন, তাদের পেছনে-পেছনে ঘুরেছেন। তাদের মেকানিজমে যারা তাদেরই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। আগের দুই কমিটির ত্যাগী কাউকে রাখা হয়নি।

নারী নেত্রীদের মারধরের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা মধুর ক্যান্টিনে মারধর করেছে তাদেরই তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটি আমরা মানি না।

ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সরাসরি নির্দেশেই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, সোমবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পদবঞ্চিতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এ সময় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন পদবঞ্চিতরা। তখন বিক্ষোভকারী ও নারী নেত্রীদের ওপর কেন হামলা হল তার জবাব চান তারা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×