রাফি হত্যা : পিবিআইর তদন্ত

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোনাগাজী থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে ওসির বিরুদ্ধে রাফির জবানবন্দি রেকর্ড ও তা ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে আংশিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে। মামলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যথা সময়েই আদালতে দেয়া হবে।

পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ওসির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে আমরা আংশিক সত্যতা পেয়েছি। তবে এখনও ওসির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে আসেনি। এ প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর তা আদালতে জমা দেব। পিবিআই প্রধান বলেন, যথা সময়ে প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেয়া হবে। তাছাড়া আগামী সপ্তাহে রাফি হত্যার ঘটনায় চার্জশিট দেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

ফেনীর সোনাগাজী থানায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের জবানবন্দি ভিডিও করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন ওসি মোয়াজ্জেম। এ কারণে ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলাটি করেন তিনি। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং নথি পর্যালোচনা করে মামলাটি তদন্ত করে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পেরে আরও ৩০ দিনের সময় চাইলে আদালত ২৭ মে পর্যন্ত সময় দেন। পিবিআই জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবে। রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার পর ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে তাকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি ৩০ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইকবাল ও মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। এরপরই ওসি মোয়াজ্জেমকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুরে এবং পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে ফেনী থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। বোরকা পরিহিত কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ পর্যন্ত রাফি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২২ জনের মধ্যে সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করব -নতুন পুলিশ সুপার : ফেনী প্রতিনিধি জানান, বুধবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কারেন নতুন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান। পুলিশ লাইন মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনী জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি যেটুকু ক্ষুণ্ণ হয়েছে কাজের মাধ্যমে তা উদ্ধারের চেষ্টা করব। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না। আজ থেকে এ জেলার পুলিশকে কোনো অন্যায় কাজ করতে দেয়া হবে না।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ খালেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×