রমজানুল মোবারক

হে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিন

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মঈন চিশতী

দ্বাদশ রমজানে আমাদের ভাবনার বিষয় হল আমরা ইবাদতে কতটুকু নিষ্ঠাবান হতে পেরেছি, তা খুঁজে দেখতে হবে। রমজান শুরু হওয়ার আগে আমাদের ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য নবীজি বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

মাওলানা লালপুরী শাহ রমজানের ফজিলত কিতাবে উল্লেখ করেন হজরত উমর (রা.) থেকে রেওয়ায়েতে আছে, হুজুর (সা.) রমজান শুরু হওয়ার একদিন আগে সব লোককে জমা করে খুতবা দেন, ‘হে লোক সকল পবিত্র রমজান আসিয়াছে তজ্জন্য ভালো কাপড় লইয়া তৈয়ার হও, তাহার তাজিম ও হুরমত কর, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির বেশি কর। যে এ পবিত্র মাসে খালেস দিলে কোরআন পড়িবে এক হরফের পরিবর্তে একটি বাগান বেহেশতে দেবেন, যাহার মেসাল দুনিয়াতে নেই, প্রত্যেক ডালের নিচে সত্তর হাজার ফেরেশতা কেয়ামত পর্যন্ত কায়েম থাকিয়া রোজাদারের জন্য দোয়া এস্তেগফার করিবে।’

রমজানের ১২তম দিবসে আমরা কতটুকু আত্মিক সমৃদ্ধি হাসিল করতে পেরেছি তা ভাবতে হবে। এ বিষয়টিই হাদিসে এভাবে এসেছে- ‘মান সামা যে রোজা রাখল ঈমানাওঁ ওয়া ইহতিসাবাওঁ ঈমান এবং এহতেসাব বা কী কারণে রোজা ফরজ হল তা স্মরণে রাখল, গুফিরা লাহু মা তাক্বাদ্দামা মিন জাম্বিহি, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ আমরা কি এ রমজানে মানুষের দেখাদেখি রুসুমি রোজা রাখছি, অভ্যাসের রোজা থাকছি, ইবাদতের উদ্দেশে রোজা থাকিনি। তাহলে এ রোজায় আমাদের কোনো আত্মিক ফায়দা হবে না। শুধু রোজা কেন, যে কোনো ইবাদতই অভ্যাস হেতু বা লোক দেখানো রুসুমি ইবাদত হয় তা ইবাদত বলে গণ্য হবে না। নামাজের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লিনাল্লাজিনা হুম আন সালাতিহিম সাহুন, ওইসব নামাজির নামাজ কোনো কাজে আসবে না যাদের নামাজ আলস্যে ভরা, ওয়াল্লাজিনা হুম ইয়ুরাউন, আর যারা মানুষকে দেখাতে নামাজ পড়ে। এটা রোজার বেলায়ও প্রযোজ্য।’

শরফুদ্দিন ইয়াহহিয়া মানেরীর মাকতুবাতে ‘ছে সদীতে’ রুসুমি ইবাদতের বিষয়টি তিনি এভাবে উল্লেখ করেছেন- ‘তা রাহ্বরে তুস্ত আদতে খেশ/শয়তান ও মুনাফেকী নাহ্? দারবেশ। যতক্ষণ তোমার অভ্যাস তোমার জীবনযাপন বা ইবাদত বন্দেগির রাহ?বার বা পথপ্রদর্শক থাকে, ততক্ষণ তুমি কপট শয়তান, দরবেশ নও। হাদিসের বিষয়টি এভাবে এসেছে ‘লা ইয়্যু মিনু আহাদুকুম হাত্তা ইয়াকুনা হাওয়াহু তাব’আন লিমা জি’তু বিহি। নবীজি (সা.) ফরমান, ততক্ষণ তোমরা মোমিন নও, যতক্ষণ তোমরা আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ না করে নিজের অভ্যাস অনুযায়ী চল।’

রমজান ইবাদতের ট্রেনিং ও প্র্যাকটিসের মাস। সাধারণত ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। এ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ ছাড়া আরও কিছু নফল নামাজ আছে যেমন ইশরাক, চাশত, আওয়াবীন, তাহাজ্জত। এর মধ্যে তাহাজ্জত বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কালামে পাকে আছে ‘ওয়া মিনাল্লাইলি ফাতাহাজ্জাত বিহি নাফিলাতাল্লাক, হে নবী আপনার ওপর রাতের শেষাংশে কিছু নামাজ নফল করা হয়েছে। তাহাজ্জত নামাজসহ অন্যান্য নফল নামাজের সুযোগ রমজান মাসে সহজে হয়ে যায়। রমজানে একটি নফল ইবাদত ফরজতুল্য সাওয়াব; একটি ফরজ সত্তরটি ফরজের সাওয়াব। তেলাওয়াতে কালামে পাক জিকির আসকার করার মোক্ষম সময় এ রমজান মাস।

তাহাজ্জতের মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারাই আল্লাহর মোকাররাব বা নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়েছেন শেষরাতের নামাজ ছাড়া হতে পারেননি। সাইয়েদুত তায়েফা মশহুর তাবেঈ হাসান-বসরীর ইন্তেকালের পর তার এক সাগরিদ তাকে খাবে দেখে জিজ্ঞেস করেন আল্লাহ আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন আর কীসের উসিলায় করেছেন?

তিনি বলেন, শেষরাতের দু’রাকাত নামাজের বিনিময়ে আল্লাহ আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। যত নফল ইবাদত আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল তাহাজ্জত নামাজ। রমজানের এ ক্ষমার দশকে তাহাজ্জতের উসিলায় হে আল্লাহ আমাদের ক্ষমাপ্রাপ্তদের কাতারে শামিল করে নিন।

লেখক : ধর্মচিন্তক সুফি ও গবেষক

[email protected]