লোকসভার ভোট শেষ : বুথফেরত সমীক্ষা

ফের ক্ষমতায় যাওয়ার আভাস মোদির

৩০৬ আসন পেতে পারে বিজেপি জোট * ১৩২ আসনে কংগ্রেস জোট * পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতা

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নরেন্দ্র মোদি
নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

ভারতে আবারও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ক্ষমতায় আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বুথফেরত সমীক্ষায় বলা হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৬৭ থেকে ৩০৬টি আসন পেতে পারে।

আর রাহুল গান্ধী নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ১৩২টি আসন পেতে পারে। সাত দফা লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় রোববার ভোটগ্রহণ শেষে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। ১১ এপ্রিল শুরু হওয়া লোকসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ২৩ মে ঘোষণা করা হবে। শেষ ধাপের নির্বাচনে রোববার নানা অনিয়ম, কারচুপি, ভোট কেনাসহ না অভিযোগ ওঠে। ভোট শুরুর পরই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিকল হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজারের।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকেই বুথফেরত জরিপের ফল বেরোতে থাকে। শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ জরিপে দেখা যাচ্ছে, মোদির ‘অব কি বার ৩০০ পার’ স্লোগান ফলছে। সমীক্ষায় বলা হচ্ছে- এনডিএ জোট ৩০৬টি আসন পেতে পারে। তবে এককভাবে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। শাসক দল বিজেপি এককভাবে ২৬২টি আসনে জয় পেতে পারে। অপরদিকে, ইউপিএ জোট ১৩২টি আসন পেতে পারে। অন্য সব দল ১০৪টি আসন পেতে পারে। এ পর্যন্ত পাওয়া জরিপের ফল গড় করে সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ২৯৮টি আসন পেতে যাচ্ছে বিজেপি জোট। তবে বুথফেরত জরিপের অনুমান যে সবসময় ঠিক হয়, তা নয়। ২০১৪ সালের জরিপের অনুমান ঠিক হলেও ২০০৯ সালের নির্বাচনে সঠিক অনুমান ঠিক ছিল না।

এবার রিপাবলিক সি-ভোটার ও টাইমস নাও-ভিএমআর প্রকাশিত জরিপে আভাস দেয়া হয়েছে- ৩০০টির বেশি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে এনডিএ জোট। আর জোটবদ্ধভাবে কংগ্রেস পেতে যাচ্ছে ১২৮টি আসন। ভারতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ২৭২টি আসন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসন কোম্পানির বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ২৬৭টি আসন পেতে পারে বিজেপি জোট। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পেতে পারে ১২৭টি আসন। আর অন্য দলগুলোর ঘরে যেতে পারে ১৪৮টি আসন। নিয়েলসনের জরিপ অনুযায়ী ম্যাজিক ২৭২টি আসন পেতে আর পাঁচটি আসন পেতে হবে বিজেপিকে।

নিয়েলসন কোম্পানির জরিপ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল পেতে পারে ২৪টি। দলটি গত লোকসভার নির্বাচনে তৃণমূল ৩৬টি আসন পেয়েছিল। আর এ রাজ্যে ১৬টি আসন পেতে পারে বিজেপি। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। এবারের নিয়েলসনের জরিপে এ দলটিকে একটি আসনও দেয়া হয়নি। কংগ্রেস পেতে পারে মাত্র দুটি আসন।

প্রায় সবকটি জরিপ বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও সবাই বলছে, সর্বভারতীয় প্রবণতা হল, গত নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির আসন ও ভোট কমেছে। গত নির্বাচনে বিজেপি-জোট ৩৩৬টি আসন পেয়েছিল আর একক দল হিসেবে পেয়েছিল ২৮২ আসন। এবার দলটির আসন কমে ২১৮তে নামতে পারে। গত নির্বাচনে বিজেপির জোট ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। নিয়েলসনের হিসাব বলছে, এবার এ জোটের ভোট কমে ৩১ শতাংশ হবে। কংগ্রেসের ভোট ২২ শতাংশ হতে পারে। গত নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেস জোটের বাইরে বাকি দলগুলো ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার এসব দল ৪৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বুথফেরত জরিপগুলোর গড় করে আভাস মিলেছিল, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোট পার্লামেন্টের ৫৪৫টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন পাবে।

আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পাবে ১০২টি আসন। তবে চূড়ান্ত ফলে এনডিএ ও ইউপিএ জোটের ব্যবধান হয়েছিল আরও বেশি। ২০১৪ সালে এনডিএ জোট ৩৩৬টি আসনে জয় পায়। আর তার আগের দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ইউপিএ জোটের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা সে বছর কমে ৫৯ এ নেমে আসে। ২০০৯ সালে ১৮৬টি এনডিএ ও ইউপিএ জোট ১৯৭টি আসন পাবে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস মিলেছিল। চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় ১৬০টিরও কম আসন পেয়েছিল এনডিএ জোট। আর ২৬২টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসেছিল ইউপিএ।

শেষ ধাপে সাতটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে- উত্তরপ্রদেশের ১৩টি, পাঞ্জাবের ১৩টি, পশ্চিমবঙ্গের নয়টি, বিহারের আটটি, মধ্যপ্রদেশে আটটি, হিমাচল প্রদেশের চারটি, ঝাড়খণ্ডের তিনটি ও চণ্ডীগড়ের একটি আসন। শেষ দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১০ কোটির কিছু বেশি। এতে ৯১৮ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তামিলনাড়ুর ভেল্লোরে ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় লোকসভার ৫৪৩ আসনের পরিবর্তে সাত দফায় মোট ৫৪২টি আসনে নির্বাচন হয়েছে।

১১ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পরই বুথফেরত সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যায়। ভোট দিয়ে বেরোনোর পর ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনের ফল সম্পর্কে একটা আন্দাজ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সবকটি দফার ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই ফল প্রকাশ করা হয় না। কারণ যেখানে ভোট হয়নি, সেখানকার ভোটারদের এটি প্রভাবিত করতে পারে।

এ কারণে বুথফেরত সমীক্ষার কাজ শুরু হলেও তা প্রকাশ করা হয় না। ১১ এপ্রিল থেকে বুথফেরত সমীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করে সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় শেষ দফা অর্থাৎ ১৯ মে’র আগে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করতে পারেনি কোনো টেলিভিশন, রেডিও, ক্যাবল নেটওয়ার্ক, ওয়েবসাইট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া।

ইন্ডিয়া টুডে সমীক্ষায় কর্ণাটকে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। বিজেপির হাতে থাকতে পারে ২১ থেকে ২৫টি আসন। কংগ্রেসের হাতে থাকতে পারে ৩ থেকে ৬টি। মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে বিপুল আসনে এগিয়ে রাখছে ইন্ডিয়া টুডে। এ রাজ্যে বিজেপি-শিব সেনা জোট পেতে পারে ৩৮ থেকে ৪২টি আসন। কংগ্রেস পাবে ৬ থেকে ১০টি আসন। টাইমস নাউয়ের সমীক্ষা অনুযায়ী, হরিয়ানায় ১০টি আসনের মধ্যে আটটি পাবে বিজেপি, দুটি কংগ্রেস। জি নিউজের সমীক্ষা বলছে, দিল্লিতে সাতটি আসনেই জয়ী হবে বিজেপি। অর্থাৎ বড়সড়ো ধাক্কা পেতে পারেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কেরালায় পিছিয়ে যেতে পারে বিজেপি। ইন্ডিয়া টুডে সমীক্ষায় কেরালায় এগিয়ে কংগ্রেস-ইউডিএফ জোট। পেতে পারে ১৫ থেকে ১৬টি আসন। বিজেপির হাতে থাকতে পারে খুব বেশি হলে ১টি। এবিপি-নিয়েলসন সমীক্ষা অনুসারে, উত্তরপ্রদেশে ধরাশায়ী হচ্ছে বিজেপি। ৮০টি আসনের মধ্যে এনডিএ ২২, অখিলেশ-মায়াবতী জোট ৫৬ এবং ইউপিএ ২টি আসনে এগিয়ে থাকবে বলে সমীক্ষায় অনুমান। গতবার বিজেপি একাই পেয়েছিল ৭১ আসন। আর শরিক দল পেয়েছিল ২টি। তামিলনাড়ুতে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস ও দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাঘাম জোট। রাজ্যের ৩৯ আসনের মধ্যে তারা ২২ থেকে ২৪টি আসন পেতে পারে। বিজেপি এবং তাদের শরিকরা পেতে পারে ১৪ থেকে ১৬টি।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতা : লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ভারতে ২০১৯ সালে সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিবঙ্গে প্রতিটি ধাপের ভোটগ্রহণের সময়ই বিজেপি ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার ভোট শুরুর পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর আসতে থাকে।

কলকাতার মুদিয়ালি দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউশনে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়। দমদমে প্রিসাইডিং অফিসারকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ওই সময় ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেলেন প্রিসাইডিং অফিসার। বেলগাছিয়ার গুরুদাসপল্লীর বুথে সিপিএম এজেন্টকে বসতে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ করেন সিপিএম প্রার্থী কনিকা ঘোষ।

বুথে বুথে ইভিএম বিভ্রাট : শেষ দফার ভোটগ্রহণের সময় নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। মূল অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। কারণ ভোট শুরুর পরপরই ইভিএমে দেখা দেয় বিভ্রাট। আর এজন্য তীব্র গরমে ভোট দিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েন ভোটাররা। ফলে ভোট না দিয়ে অনেকে বাড়ি ফিরে যান। এর আগের ধাপে ভোটগ্রহণেও একাধিক ইভিএম মেশিন বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এবার সর্বাধিক ইভিএম মেশিন বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে।

টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ : উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। জীবনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, তাদের আঙুলে ভোটের কালি জোর করে লাগিয়ে দিয়েছে তিনজন। এরপর তাদের হাতে ৫০০ টাকাও গুঁজে দেয়া হয়। গ্রামবাসীদের কথায়, তিনজনই বিজেপির লোক। ওরা আমাদের কাছে জানতে চাইল, আমরা তাদের পার্টির হয়ে ভোট দেব কি না? ওরা বলল, এখন তোমরা ভোট দিতে পারবে না। এ কথা কাউকে বলো না।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×