দিল্লি দখলে মহাজোটে হোঁচট ঘর গোছাচ্ছে বিজেপি

জোট গড়তে মমতার বাড়িতে চন্দ্রবাবু * শরিকদের নিয়ে বৈঠক অমিত শাহ’ও * ভেস্তে গেছে সোনিয়া-মায়াবতী বৈঠক

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে ও সালমান রিয়াজ ২১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের লোকসভা নির্বাচন
ভারতের লোকসভা। ফাইল ছবি

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে জয়ের আভাস পাচ্ছে শাসক দল বিজেপি। এ খবরে উজ্জীবিত গেরুয়া শিবির ‘নতুন সংসার’ গোছানো শুরু করেছে। আজ শরিকদের সঙ্গে বৈঠক ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত

শাহ।

আগামী ৫ বছরে সরকারের রূপরেখা কী হবে তা নির্ধারণে একই দিন বৈঠকে বসছেন মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যরাও। পক্ষান্তরে দিল্লি দখলের চেষ্টায় বড় হোঁচট খেল মহাজোট।

ভেস্তে গেছে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতীর বহুল কাঙ্ক্ষিত বৈঠক। তবে বুথফেরত সমীক্ষাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। বলছেন, ২৩ মে’র ফলাফলেই বড় চমক অপেক্ষা করছে। সমীক্ষার ফলাফলকে মোটেই পাত্তা দিচ্ছেন না বিরোধীদের আরেকটি অংশও।

এ দলে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু ও সমাজবাদী পার্টির (সপা) নেতা অখিলেশ যাদব। এক্সিট পোলকে গুরুত্ব না বিজেপিবিরোধী জোটগঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বিরোধী শিবিরেও। সরকার গড়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার বিকালে মমতার সঙ্গে তার কলকাতার কালীঘাটের বাড়িতে চলে আসেন চন্দ্রবাবু।

বসেন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। একান্তে কথা হয় ৪০ মিনিট। তবে কী নিয়ে কথা হয়েছে- বৈঠক শেষে সে ব্যাপারে মুখ খোলেননি কেউ। তবে সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের গণিতে এনডিএ যে কোনোভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না- এ ব্যাপারে একমত নাইডু-মমতা। ২২০ আসনের মধ্যেই থেমে যাবেন মোদি-অমিত।

সুতরাং সরকার গঠন হবে বিরোধীদের নেতৃত্বেই। এরই মধ্যে এদিন মমতার সঙ্গে কথা বলেছেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব। বাংলার নেত্রীকে তিনি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে সপা-বসপা ও সহযোগীদের মহাজোট অন্তত ৫০টি আসন পাবেই পাবে। বাংলায় যে তৃণমূল গতবারের চেয়ে বেশি আসন পাবে-সে কথাও অখিলেশ ও চন্দ্রবাবুসহ বিরোধী সব নেতাকে জানাতে ভোলেননি মমতা।

বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়ান্স (এনডিএ) জোট এবার তিন শতাধিক আসন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এ পরিস্থিতিতে শরিকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আরও জোর দিচ্ছেন মোদি-অমিতরা।

নিজেদের ঘর গোছাতে আজ নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে শরিকদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন অমিত। এনডিএ শরিকদের জন্য বিলাসবহুল নৈশভোজের আয়োজনও করা হচ্ছে। ২৩ মে প্রকাশিত হবে লোকসভা নির্বাচনের ফল। দলীয় সূত্র বলছে, ভোটের ফলাফলের আগে শরিক দলগুলোকে উৎসাহ দিতেই এ আয়োজন।

অন্য একটি অংশ মনে করছে, সমীক্ষার চিত্র যদি নাও মেলে তাহলে ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি আসন পাবে বিজেপি। সেক্ষেত্রে শরিকদের কাছেই ধরনা দিতে হবে। শরিকরা যাতে অন্যত্র চলে না যায় তাই এ নৈশভোজের আয়োজন।

এনডিএ জোটের শরিকদের মধ্যে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাঘাম, শিবসেনা, জনতা দল, লোক জনশক্তি পার্টি, শিরোমনি আকালি পার্টি অন্যতম। বুথফেরত সমীক্ষার ফল অনুযায়ী, বিজেপি সত্যিই কেন্দ্রে আবার ক্ষমতায় এলে আগামী ৫ বছর এনডিএর রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন অমিত শাহ। এনডিএ জোট ফের ক্ষমতায় এলে সরকার কিভাবে চলবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করতে একই দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও বৈঠকে বসবে।

এদিকে বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমগুলোর বুথফেরত সমীক্ষাকে পুরোই গুজব বলে মোটেই পাত্তা দেয়নি বিরোধীরা। ২৩ মে ভোটের ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান মমতা ও চন্দ্রবাবু। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং এমতাস্থায় কী করণীয় তা ঠিক করতে কলকাতায় এসে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসেন টিডিপি নেতা। শেষ দফা ভোটের ২ দিন আগেও মমতার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সে সময় মমতার নেতৃত্বেই এবার কেন্দ্রে সরকার হবে বলেও জোর দেন তিনি।

তবে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফলে একটু নিরাশই হয়েছে বিরোধী শিবিরের একাংশ। সোমবার দিল্লিতে সোনিয়া-মায়াবতীর বহুপ্রতীক্ষিত পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ভেস্তে গেছে। বসপা নেতা সতীশচন্দ্র মিশ্র জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লি যাচ্ছেন না পার্টি সুপ্রিমো মায়াবতী। ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কোনো কর্মসূচিই নেই তার। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করার কথা ছিল মায়াবতীর। এ বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল উৎসাহ ছিল। শেষমেশ তা ভেস্তে যাওয়ায় মহাজোটের ভবিষ্যৎ টালমাটাল হয়ে পড়েছে বলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিজেপিবিরোধী জোট গড়তে আঞ্চলিক দলগুলোকে একত্র করতে চালকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল চন্দ্রবাবুকে। দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, এনসিপি নেতা শারদ পওয়ারসহ একাধিক নেতানেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। লাক্ষ্ণৌতে গিয়েও অখিলেশ যাদব ও মায়াবতীর সঙ্গে দেখা করেন চন্দ্রবাবু।

এরপরই শোনা গিয়েছিল, মায়াবতীর সঙ্গে সোনিয়ার বৈঠক হতে পারে। সোনিয়াও ব্যক্তিগত স্তরে উদ্যোগী হয়ে ইউপিএ শরিকদের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশ দেন দলীয় নেতাদের। কারণ, বুথফেরত সমীক্ষায় যতই নিরাশা জুটুক না কেন, সহজে হাল ছাড়তে নারাজ ইউপিএ জোটের কাণ্ডারিরা।

বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে মোদি-অমিত শাহদের হাত বাড়াতে হবে চন্দ্রশেখর রাও, জগনমোহন অথবা নবীন পট্টনায়কদের দিকে। সে প্রচেষ্টায় আগেই জল ঢেলে দিতে চায় মহাজোট। তবে মায়াবতী-সোনিয়ার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় কার্যত তাতে ধাক্কা লেগেছে।

তবে বসপা নেত্রী মায়াবতী ও সপা নেতা অখিলেশ যাদব সোমবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। উত্তরপ্রদেশে মোদিবিরোধী মহাজোট গড়েছিল বসপা, সপা ও আরএলডি। অখিলেশ-মায়াবতীর প্রায় ঘণ্টার বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা তা জানা যায়নি। এদিকে, বুথফেরত জরিপকে ভুল বলে দাবি করেছেন অখিলেশ। সোমবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ফোন করে অখিলেশের দাবি, ‘বুথফেরত সমীক্ষা ভুল। উত্তরপ্রদেশে ৫০টির বেশি আসন পাবে সপা-বসপা জোট।’ বুথফেরত জরিপ বলছে, ৮০ আসনের উত্তরপ্রদেশে মহাজোট ২০-৪০টি আসন পেতে পারে।

উত্তরপ্রদেশে বুথফেরত ফলাফল বের হতেই তাণ্ডব শুরু করেছে যোগী সরকার। বিজেপির বিরুদ্ধে সপা-বসপা মহাজোট ব্যাপক সাফল্য পাবে বলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তার মন্ত্রিসভা থেকে রাজ্যের মন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান ওম প্রকাশ রাজভরকে বহিষ্কার করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×